কোম্পানীগঞ্জের ধলাই সেতুর গোড়া থেকে ফের বালু উত্তোলন !

প্রকাশিত: ৭:০০ পূর্বাহ্ণ, জুন ৮, ২০২১

কোম্পানীগঞ্জের ধলাই সেতুর গোড়া থেকে ফের বালু উত্তোলন !

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ধলাই সেতুর গোড়া থেকে ফের বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে।  সোমবার সকাল থেকে মহাসমারোহে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে স্থানটিতে। এ কারণে সেতুর স্তম্ভ দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুপুরে সেতু এলাকায় অভিযান চালায় টাস্কফোর্স। কোম্পানীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ এরশাদ মিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত টাস্কফোর্সের অভিযানের খবর পেয়েই বালু উত্তোলনকারীরা সটকে পড়েন। অভিযানে পুলিশ-বিজিবির সদস্যরা অংশ নেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ এরশাদ মিয়া জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ধলাই সেতু এলাকায় অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু বালু উত্তোলনকারী কাউকে পাওয়া যায়নি।

এলাকার বেশ কয়েকজন জানান, ধলাই নদীতে বালুমহাল ইজারা নিয়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে এ সেতু হুমকির মুখে পড়েছে। এখন বর্ষা মৌসুম চলছে। এ সময় মুষলধারে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা হওয়ায় আরও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে সেতুটি। বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ধলাই সেতু রক্ষার্থে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান এলাকাবাসী।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আরাফাত আলী জানান, শনিবার ভোর থেকে ছোট-বড় বলগেট নৌকায় মেশিনের সাহায্যে ধলাই সেতুর নিচ থেকে বালু তুলতে শুরু করে। এভাবে সেতুর স্তম্ভের পাশ থেকে বালু উত্তোলন করায় স্তম্ভ দুর্বল হয়ে সেতুটি ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন আচার্য বলেন, শনিবার সেতুর দুই পাশে ৫ শ’ মিটার দূরত্বে লাল নিশান গেড়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে এই সীমানার ভেতর কেউ বালু উত্তোলন না করেন।

প্রসঙ্গ, ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির পাশের ধলাই নদের উভয় তীরের মানুষের যাতায়াতের জন্য ২০০৩ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১২ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত ​প্রায় ৪৩৪ দশমিক ৩৫ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের সেতুটি সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম। টানা তিন বছর কাজ চলার পর সেতুটি ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সেতুর স্থায়িত্ব ধরা হয় ৭৫ বছর। ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান সেতুর উদ্বোধন করেন। সেতু নির্মিত হওয়ায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ও উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের ৩০ সহস্রাধিক মানুষ সরাসরি সড়ক যোগাযোগের আওতায় আসে৷ পাশাপাশি দেশের সর্ববৃহৎ ভোলাগঞ্জ কোয়ারি থেকে পাথর পরিবহন সহজতর হয়।


 

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট