নয় মাস ধরে বেতন ভাতা বঞ্চিত শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা : পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সহায়তা কামনা

প্রকাশিত: ১:০০ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০২১

নয় মাস ধরে বেতন ভাতা বঞ্চিত শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা : পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সহায়তা কামনা

নয় মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না শহরতলীর শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। এ অবস্থায় ২৮ বছরের পুরাতন এই কলেজটিতে বিরাজ করছে অচলাবস্থা। মঙ্গলবার এলাকাবাসীর মতবিনিময় সভায় এমন অভিযোগ তুলে ধরে এ বিষয়ে দ্রæত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে আব্দুল মোমেন এর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী। সেই সাথে গভর্নিং বডির বর্তমান সভাপতি শফিউল আলম নাদেলকে এক মাসের মধ্যে সমস্যা সমাধানের তাগাদা দেওয়া হয়। অন্যথায় এলাকাবাসী বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
শহরতলীর টুকেরবাজার এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে ৫২ কেদার জায়গার উপর ১৯৯৩ সালে শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২০ সালে সেপ্টেম্বর মাসে ওই কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) প্রেরণ করেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও লেটারের পর শফিউল আলম নাদেলকে সভাপতি ও শাবির অধ্যাপক হাসান জাকিরুল ইসলামকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে গভর্নিং বডিতে অনুমোদন দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর আগে ওই কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক। তখন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন অধ্যাপক কৃষ্ণা ভট্টাচার্য।
সভায় বলা হয়, নতুন গভর্নিং বডির সদস্যরা দায়িত্ব প্রাপ্তির সাড়ে নয় মাসের মাথায় একদিনও কলেজ পরিদর্শনে যাননি। উপরন্তু, ম্যানেজিং কমিটির সভাও আহŸান করা হয়নি। এই অবস্থায় বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
একটি কুচক্রী মহলের কারণে সাড়ে ৩ বছর থেকে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন। এই কুচক্রী মহলের কারণে শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজে অনার্স কোর্স চালু করা সম্ভব হয়নি এবং ডিগ্রিরও সব কোর্স চালু করা যায়নি বলে তাদের অভিযোগ।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সদর উপজেলা সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে সিলেট সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজ নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদের মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুর রহমান।
এডভোকেট নূরে আলম সিরাজী এপিপি’র সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক।
সভাপতির অধ্যাপক শফিকুর রহমান বলেন, মরহুম স্পীকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এরশাদ সরকারের আমলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে আব্দুল মোমেন শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজে ভবন দিয়েছেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ৫ তলা ভবনসহ কলেজের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে আব্দুল মোমেন শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করবেন। তিনি আরো বলেন, এক মাসের মধ্যে এই কলেজের সমস্যা সমাধান না হলে চক্রান্তকারীরা এ এলাকার বাতিঘর ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের অনুরোধ, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সৃষ্ট সমস্যার আশু সমাধান হবে।
স্বাগত বক্তব্যে অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক বলেন, শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজ এ অঞ্চলের মানুষের বাতিঘর। একমাত্র সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে আব্দুল মোমেন পারবেন-এই বাতিঘরকে রক্ষা করতে। আমরা বিশ্বাস করি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্রæততম সময়ের মধ্যে এ কলেজের সমস্যা সমাধান করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য, সাবেক মেম্বার শাহাব উদ্দিন লাল মিয়া, বিশিষ্ট সালিশ ব্যক্তিত্ব ও সাবেক মেম্বার আশরাফ চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ শাহনুর, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আব্দুর রফিক, শাহ খুররম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আব্দুর রকিব, আমির উদ্দিন আহমদ, বিশিষ্ট সালিশ ব্যক্তিত্ব হাজী মইন মিয়া, হাজী নুর মিয়া, নোয়া খুররমখলার তছির আলী, জমসিদ আলী, দর্শার মোজাহিদ আলী, মোগলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ, বিশিষ্ট সালিশ ব্যক্তিত্ব সাদিপুরের মেম্বার শাহাব উদ্দিন, কান্দিগাঁও ইউপির মেম্বার শাহনুর, মোল্লারগাঁওয়ের বিশিষ্ট সালিশ ব্যক্তিত্ব শাহাবুদ্দিন, যুবনেতা আপ্তাব হোসেন সিরাজী, কলেজের অভিভাবক সদস্য কাছা মিয়া ও মোশাহিদ আলী, সালিশ ব্যক্তিত্ব আশ্রব আলী, শাহপুরের লিলু মিয়া, যুবনেতা আব্দুল মান্নান, কান্দিগাঁওয়ের সাবেক মেম্বার লালা মিয়া, হাটখলার যুবনেতা ফারুক আহমদ, কান্দিগাঁওয়ের আব্দুল মনাফ, ব্যবসায়ী সাজ্জাদুর রহমান, হাটখলার সালিশ ব্যক্তিত্ব জাহান আহমদ, কাজিরগাঁওয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার আলী, হায়দরপুরের বিশিষ্ট সালিশ ব্যক্তিত্ব হাজী আতাউর রহমান, আনছার উদ্দিন, রাইসুল হক রাসেল, আমিনুর রাশিদ, কুতব উদ্দিন, আলী হোসেন রাজা, দেলোয়ার হোসেন, ফয়সাল আহমদ, আলী বাহার, তাজির আলী, শাওন আহমদ, সালমান আহমদ, ফয়সল আহমদ, নিজাম উদ্দিন, এডভোকেট সুমন আহমদ, আব্দুল জলিল, নুরুল আমিন খুকু, মনির উদ্দিন, গোলাম হোসেন, রাজা মিয়া, মাকসুদ আহমদ লেবু, বাবুল হোসেন, মাহবুব রহমান, লুৎফুর রহমান আজাদ, আলিম উদ্দিন, বাবুল মিয়া, নুর উদ্দিন, মনফর আলী, আব্দুল বাসিত, জিলকদর, রবিউল ইসলাম, আব্দুল মানিক, রাইছুল হক রাসেল প্রমুখ।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট