ট্রাক-পিকআপভ্যানে ঝুঁকিপূর্ণ ঈদযাত্রা

প্রকাশিত: ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ, মে ১২, ২০২১

ট্রাক-পিকআপভ্যানে ঝুঁকিপূর্ণ ঈদযাত্রা

মালবাহী ট্রাকগুলো লাইন ধরে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। তাতে টানানো হচ্ছে ত্রিপল। তবে এসব পণ্যবাহী ট্রাক বা পিকআপভ্যানে কোনো পণ্য তোলা হচ্ছে না। তোলা হচ্ছে মানুষ। করোনাভাইরাস মহামারীর সংক্রমণরোধে সারাদেশে দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ। কাজেই ঈদে ঘরমুখো মানুষ যাতায়াতের জন্য পণ্যবাহী এসব যান বেছে নিয়েছে। ট্রাক-পিকআপভ্যান মালিক ও চালকরাও এটাকে বাড়তি আয়ের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ও বুধবার সকালে এমন দৃশ্য দেখা গেছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার সড়ক-মহাসড়কে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক ও পিকআপভ্যানে উঠে পড়ছেন বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তোলা হচ্ছে ছোট ছোট শিশুদেরকেও। যুবকরা লাফিয়ে উঠছেন ট্রাকে। নারী ও বৃদ্ধরা নিচ্ছেন অন্যের সহযোগিতা। আর যে মায়েদের কোলে সন্তান তারাও ট্রাকে উঠার জন্য অন্যের সহায়তা নিচ্ছেন। মোটকথা যে যেভাবে পাড়ছেন খালি ট্রাকে উঠে পড়ছেন। গাদাগাদি করে এসব নারী-পুরুষকে একসাথে বসিয়ে ট্রাকগুলো গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এভাবেই চলছে শ্রমজীবী পরিবারের সদস্যদের এবারের ঈদযাত্রা।

নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীর লিংক রোড, নারায়ণগঞ্জ-আদমজী সড়ক ও ঢাকা-পুরাতন সড়কে মঙ্গলবার গভীর রাতে এমন ঈদযাত্রা ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গার্মেন্টস অধ্যুষিত নারায়ণগঞ্জে জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন জেলার লোকজন এসে কাজ করেন। আগে দূরপাল্লার বাসে ঈদযাত্রা করতেন শ্রমজীবী লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা। এবার দূরের পথে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে মালবাহী ট্রাক বেছে নিয়েছেন তারা। গ্রামে থাকা প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দটা ভাগভাগি করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

নারায়ণগঞ্জ থেকে ট্রাকে করে জামালপুর যাচ্ছিলেন গার্মেন্টসকর্মী আকলিমা। তার সাথে স্বামী ও ছোট দুই সন্তানও রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে যাত্রার সময় নয়া দিগন্তকে আকলিমা বলেন, ‘কষ্ট হচ্ছে। তবুও বাড়ি যেতে চাই। ঈদ তো আর প্রতিদিন আসে না। ঈদে আমরা সবাই একসাথে থাকবো, এটাই আনন্দ। তিনি আরো বলেন, বাস চালু থাকলে আমাদের কষ্ট কম হতো। এখন বাস নাই। কী আর করা।

আকলিমা যে ট্রাকের যাত্রী হয়েছেন সেটিতে প্রায় ১০০ জন গাদাগাদি করে বসেছিলেন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য। জামালপুরের ইসলামপুরের বাসিন্দা নির্মাণশ্রমিক আব্দুস ছামাদ নয়া দিগন্তকে বলেন, এক বছর পর বাড়ি যাচ্ছি। পরিবার পরিজন আছে। ঈদটা তাদের সাথে করতে চাই। তাই যত কষ্ট হোক বাড়ি যেতে হবে।

এভাবে যাত্রীবহন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ট্রাকচালক তাজুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘মানুষ বাড়ি যেতে চায়। আমাদের কী করার আছে। সবাই মিলে ট্রাক ভাড়া করেছে। পথের মধ্যে বৃষ্টি হলে মানুষের যাতে কষ্ট না হয় এজন্য ত্রিপল টানিয়ে দিয়েছি।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে গিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। দিনমজুরসহ নিম্নআয়ের শত শত মানুষ ট্রাক-পিকআপভ্যানে করে নারায়ণগঞ্জ ছাড়ছেন।

অপর দিকে ট্রলারে করে শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার সময় দু’শতাধিক যাত্রীকে মঙ্গলবার গভীর রাতে আটকে দিয়েছে নৌপুলিশ। তবে এখনো বন্ধ হয়নি ঘরমুখো মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ ঈদযাত্রা। বুধবারও ট্রাক-পিকআপভ্যানে নারায়ণগঞ্জ ছাড়ছেন কর্মজীবী বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। আবার ট্রলারে শীতলক্ষ্যা নদীও পার হচ্ছেন অনেকে।



  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট