স্ত্রীর মৃত্যুর এক মাসের মাথায় মারা গেলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত¡ ও বীজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. এ. এইচ. এম. মাহফুজুল হক। মঙ্গলবার বেলা ২টা ২০ মিনিটে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি(ইন্না—রাজিউন)।

স্ত্রী ইশরাত জাহানের সাথে ড. মাহফুজুল হক। এক মাস আগে মারা যান উপ-সচিব ইশরাত।

সিকৃবি ভিসির পিএস ফখর উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন থেকে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন প্রফেসর মাহফুজ। মৃত্যুর কয়েকদিন আগে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। করোনা ভাইরাসের আক্রমণে তাঁর ফুসফুসের ৭২ ভাগ বিকল হয়ে যায়। তবে তিনদিন আগে তাঁর করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। গত সোমবার শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শরীর হুট করে খারাপ করলে তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং মঙ্গলবার দুপুরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। গত মাসেই ড. মাহফুজ তাঁর স্ত্রীকে হারিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী ইশরাত জাহান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ছিলেন এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিতে অধ্যয়নরত ছিলেন। একমাসের ব্যবধানে মা-বাবা কে হারিয়ে ড. মাহফুজের দুটি শিশু সন্তান বাকরুদ্ধ। ড. মাহফুজ ২০১৩ সালে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ড. মাহফুজের মরদেহ মঙ্গলবার সিকৃবি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়। সিকৃবির কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গনে বাদ আসর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে একটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ড. মাহফুজের এই হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে সমগ্র ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মতিয়ার রহমান হাওলাদার। এছাড়া শিক্ষক সমিতি, অফিসার পরিষদ, কর্মচারী পরিষদ, গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদ, গণতান্ত্রিক অফিসার পরিষদ শোক প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ আবু বকর সিদ্দিক মৃত্যুবরণ করেছিলেন।