বাংলাওয়াশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ

প্রকাশিত: ১২:২০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২১

বাংলাওয়াশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ

রাজধানীর বারিধারায় জামিয়া মাদানিয়া মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত মোহতামিম মাওলানা নাজমুল হাসানের অনুপস্থিতিতে হেফাজতের অর্থ সম্পাদক ও বিতর্কিত নেতা মুফতি মনির হোসেনের নেতৃত্বে তার অনুসারীদের নিয়ে মাদরাসা দখল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে মাদরাসা দখলে নিতে হেফাজতের এই নেতা নারায়ণগঞ্জ থেকে কিছু উগ্র অনুসারীকে বারিধারায় নিয়ে আসেন। এরপর মাদরাসার ভেতরে থাকা মুফতি মুনীর হোসেনের অনুসারী শিক্ষক ও উগ্র ছাত্ররা মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত মোহতামিমের সহযোগী মুফতি জাকির হোসেনকে জিম্মি করে মাদ্রাসার দখল নেয়।

এ সময়ে তারা জাকিরের মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাকে একটি কক্ষে বন্দি করে রাখেন। বন্দি অবস্থায় তাকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এমন অবস্থায় মাদরাসায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। মাদরাসার ছাত্ররা এ পরিস্থিতিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত মোহতামিম মাওলানা নাজমুল হাসান অভিযোগ করে বলেন, মাদরাসায় না আসার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করা হচ্ছে।

জানা গেছে, মাওলানা নাজমুল হাসানকে নুর হোসেন কাসেমী জীবদ্দশায় ভারপ্রাপ্ত মোহতামিম হিসেবে ঘোষণা করে যান। কিন্তু উগ্রপন্থীরা মাওলানা নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে মাদরাসার সুষ্ঠু পরিবেশকে মেনে নিতে পারছিলেন না।

এদিকে মাওলানা নুর হোসেন কাসেমী তার জীবদ্দশায় ওসিয়ত করে গিয়েছেন তার পরিবারের কোন সদস্য বিশেষ করে তার ছেলে জাবের কাসেমী যেন এ মাদরাসার কোন পদে নিয়োগ না পায়। কিন্তু একটা মহল নুর হোসেন কাসেমীর ওসিয়ত বরখেলাপ করে তার ছেলেকে ভুল বুঝিয়ে মাদরাসার নিয়ে এসে মুহাদ্দিস হিসেবে বসিয়ে দেন।

অভিযোগ উঠেছে, সরকার বিরোধীদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করার জন্য বারিধারা মাদরাসা দখলে নিয়ে ভবিষ্যতে হেফাজতে ইসলাম ও সরকার বিরোধী গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই হবে মুফতি মুনীর ও তার সহযোগীদের মূল লক্ষ্য। মাদরাসা দখলে সরকার বিরোধী প্রভাবশালী আলেমরা মুফতি মুনীরের সকল ধরনের অপকর্মে পৃষ্ঠপোষকতা করছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মুহাদ্দিস বলেন, সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রে সহযোগী না হলে তাদেরকে অপমান করে মাদরাসা হতে বের করে দেয়া হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

মাদরাসাটির অবস্থান কূটনৈতিক পাড়ায় বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কাছাকাছি হওয়ায় নিরাপত্তার দিক দিয়ে মাদরাসাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বারিধারা মাদরাসায় কোন ধরনের উগ্রপন্থী কার্যক্রম বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা দেয়ার পাশাপাশি এদেশকে জঙ্গিবাদী বা উগ্রবাদী রাষ্ট্র হিসেবে প্রচার করার সুযোগ করে দিতে পারে।

উল্লেখ্য, মাদরাসার পরিচালনা পর্ষদে যুদ্ধাপরাধী এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি থাকায় মাদ্রাসাটির রেজিস্ট্রেশন এর আগেই বাতিল করা হয়েছে।


 

  •