সিলেটে ‘সবুজে ঘেরা’ গ্রাউন্ড-২ এর উদ্বোধন আজ

প্রকাশিত: ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২১

সিলেটে ‘সবুজে ঘেরা’ গ্রাউন্ড-২ এর উদ্বোধন আজ

সিলেটের ফুটবল ও ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নামের সাথে ‘আন্তর্জাতিক’ তকমা লেগেছে অনেক আগেই। এবার সেই মুকুটে যুক্ত হচ্ছে আরেকটি পালক। লাক্কাতুরাস্থ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম লাগোয়া আরো একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গ্রাউন্ড গড়ে উঠেছে। আজ শনিবার বিকেল ৩টায় নগরীর জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘সবুজে ঘেরা’ নয়নাভিরাম এই গ্রাউন্ডের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন। এছাড়াও মন্ত্রী একই অনুষ্ঠানে জেলা স্টেডিয়ামের ভিআইপি ভবন উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। সভাপতিত্ব করবেন জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আওতায় শুরুতে আউটার স্টেডিয়াম নামকরণ করা হয় নবনির্মিত গ্রাউন্ড-২ এর। পরবর্তীতে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের পুরাতন মাঠকে গ্রাউন্ড-১ ও নবনির্মিত মাঠকে গ্রাউন্ড-২ নাম দেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের সকল সুযোগ-সুবিধা থাকায় এনএসসি ও বিসিবি ইতোমধ্যে গ্রাউন্ডটিকে আন্তর্জাতিক মর্যাদা দেওয়ার জন্য ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে আবেদনও করেছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অর্থায়নে ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮.৭৩ একর জায়গা জুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে গ্রাউন্ড-২। এই মাঠটি সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আদলে তৈরি। মাঠের পুরোটাই জুড়ে পানি পরিশোধনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বিশ্বমানের। রয়েছে ৮টি উন্নত মানের স্পোর্টিং উইকেট।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের যাত্রার শুরুতে আলোড়ন তৈরী করে তার ‘গ্রীণ গ্যালারীর জন্য। কিন্তু পরবর্তীতে সবুজ ঘাসের মলিন চেহারার মতোই জৌলুস হারায় স্টেডিয়ামটি। তবে, নবনির্মিত এই গ্রাউন্ডে পাওয়া যাবে সবুজ গ্যালারীর স্বাদ। চেয়ারের বদলে পুরো গ্রাউন্ড ঘিরে রয়েছে সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত গ্যালারী। আশপাশ জুড়ে রয়েছে ফলদ-বনজ, ঔষধী গাছ।
গ্রাউন্ডটিতে রয়েছে চার চারটি উন্নত মানের ড্রেসিং রুম। খেলোয়াড়দের জন্য আইস বাথসহ থাকছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। এছাড়াও সাংবাদিক, আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারিসহ অফিসিয়ালদের জন্যও থাকছে পৃথক রুম। চারটি ড্রেসিং রুম থাকায় এক সঙ্গে চারটি দল অবস্থান করতে পারবে মাঠে। স্টেডিয়ামটির পাশেই রয়েছে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একাডেমিক ভবন। বিসিবির আঞ্চলিক একাডেমির ক্রিকেটাররা থাকবেন সেই ভবনে। অনুশীলনের জন্য ক্যাম্প করতে আসা ‘এ’ দল, নারী দলসহ বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটাররা থাকতে পারবেন মাঠের পাশেই একাডেমিক ভবনে। গ্রাউন্ড-১ এর সাথে গ্রাউন্ড-২ এর সংযোগ স্থাপনে নির্মাণ করা হয়েছে ‘আয়রণ ব্রিজ’। নামাজ আদায়ের জন্য মাঠের পাশে এরই মধ্যে মসজিদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করা হয়েছে।
এদিকে, সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ৫তলা বিশিষ্ট ভিআইপি ভবন। এছাড়াও সংস্কার করা হয়েছে মাঠের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় নগরীর মাছিমপুরের আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থারও উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এইসব কাজে ব্যয় হয় ১০ কোটি টাকারও বেশী।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সদস্য ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম কাতার থেকে মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্রাউন্ড-২ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে সিলেটের নামকে আরো উজ্জ্বল করবে। তিনি বলেন, সিলেট জেলা স্টেডিয়ামও আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গণে নাম লিখিয়েছে আগেই। এবার নির্মাণ করা হয়েছে ৫তলা বিশিষ্ট ভিআইপি ভবন। লিফট সম্বলিত এই ভবনে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের সকল সুযোগ সুবিধা। এছাড়াও মাঠের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অন্যান্য সংস্কার কাজও করা হয়েছে। পাশাপাশি এই প্রকল্পে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নগরীর আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সেরও উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করেছে। মাহিউদ্দিন সেলিম বলেন, দেশের ক্রিকেট ও ফুটবল ইতিহাসে সিলেটের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। গ্রাউন্ড-২ নির্মাণ এবং জেলা স্টেডিয়ামের এই উন্নয়ন সিলেটের ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।


 

  •