ম্যারাডোনার ময়নাতদন্ত করবে সান ফার্নেন্দো হাসপাতাল

প্রকাশিত: ৩:১৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০

ম্যারাডোনার ময়নাতদন্ত করবে সান ফার্নেন্দো হাসপাতাল

চিরবিদায় নিয়েছেন ফুটবল জাদুকর দিয়েগো ম্যারাডোনা। ক্রীড়াবিশ্বকে স্তব্ধ করে বুধবার (২৫ নভেম্বর) রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কিংবদন্তি এই ফুটবলার। এদিকে, ম্যারাডোনার মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হবে। খবর ডেইলি মিরর।

আর্জেন্টিনার শহর স্যান ইসদ্রোর সরকারি কৌঁসুলি জন ব্রোয়েট বলেছেন, ম্যারাডোনার শরীরে ‘আঘাতের কোনও চিহ্ন নেই’ এবং সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে তার মৃত্যু ‘স্বাভাবিক’। তবে তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করবে সান ফার্নেন্দো হাসপাতাল।

কিংবদন্তি এই তারকা ফুটবলারের বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত ৮৬ বিশ্বকাপ কিংবদন্তি বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন।

বুয়েনস আয়ার্সের হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর গত মাসে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছিলেন ম্যারাডোনা। তিগ্রে-তে নিজ বাসায় মৃত্যু হয়েছে তার।

এক বিবৃতিতে ব্রোয়েট বলেন, স্থানীয় সময় ৪টায় পুলিশ তার মরদেেহর ফরেনসিক কাজ শুরু করেছে। এছাড়া তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে সান ফার্নেন্দো হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আর্জেন্টিনার হয়ে ৯১ খেলায় ৩৪ গোল করা ম্যারাডোনাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করেন অনেক বিশেষজ্ঞ, ফুটবল সমালোচক, সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড় এবং ফুটবল সমর্থকরা।

ম্যারাডোনাই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি দুইবার স্থানান্তর ফি’র ক্ষেত্রে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। প্রথমবার বার্সেলোনায় স্থানান্তরের সময় ৫ মিলিয়ন ইউরো এবং দ্বিতীয়বার নাপোলিতে স্থানান্তরের সময় ৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন ইউরো।

৪টি ফিফা বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। এর মধ্যে ছিলো ১৯৮৬ বিশ্বকাপ, যেখানে তিনি আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন এবং দলকে বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দেন। ওই প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জয় লাভ করে।

আর্জেন্টিনার পক্ষে দুটি গোলই করেছিলেন ম্যারাডোনা এবং ওই দুটি গোলই ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে ভিন্ন ভিন্ন কারণে। প্রথম গোলটি ছিল হ্যান্ডবল যা ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে খ্যাত। দ্বিতীয় গোলটি তিনি প্রায় ৬০ মিটার দূর থেকে ড্রিবলিং করে ৫ ব্রিটিশ ডিফেন্ডারকে পাশ কাটিয়ে করেন।

২০০২ সালে ফিফাডটকমের ভোটাররা গোলটিকে শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে নির্বাচিত করেন।

২০০৮ সালের নভেম্বরে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নেন। ২০১০ বিশ্বকাপে বাজেভাবে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ফুটবলার হিসেবে দুর্দান্ত হলেও কোচ হিসেবে ছিলেন ব্যর্থ। শেষদিকে এসে দ্বিতীয় সারির ক্লাবেরও দায়িত্ব পালন করেন ফুটবলের মহানায়ক ডিয়েগো ম্যারাডোনা।


 

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট