“নতুন প্রজন্মের কাছে মওলানা ভাসানীর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে”

প্রকাশিত: ১১:১০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২০

“নতুন প্রজন্মের কাছে মওলানা ভাসানীর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে”

আফ্রো-এশিয়া-লাতিন আমেরিকার শোষিত নির্যাতিত মেহনতী মানুষের দাবী আদায়ের সংগ্রামে আপোষহীন মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী’র ৪৪’তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত ১৭ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টায় মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন সিলেটের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।

মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন সিলেটের সহ-সভাপতি একেএম আহাদুস সামাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দিদার ইবনে তাহের লস্করের পরিচালনায়
সভায় বক্তারা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর আপোষহীন সংগ্রামী জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং স্মৃতিচারণ করে বলেন,
মওলানা ভাসানী তাঁর সারাটি জীবন নির্যাতিত বণ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ব্যয় করেছেন। যেখানেই অত্যাচার নির্যাতন চলত সেখানেই তাঁর বজ্রকণ্ঠ শাসক শ্রেণীর ভীত কাঁপিয়ে দিতো। শাসক শ্রেণীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নায্য দাবী আদায়ের মুক্তি সংগ্রামে তিনি কখনোই আপোষ করেননি। ভিনদেশী অপশক্তি এবং তাদের তাবেদার গোষ্ঠির বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন এবং তিনিই প্রথম স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁকে কেউ হার মানাতে পারেনি। রাজনৈতিক রণকৌশলে তিনি ছিলেন বিচক্ষণ এক যোদ্ধা। জীবনের শেষ সময়ে ফারাক্কা লংমার্চ আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগনের পানির নায্য হিস্যা নিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রভুসুলভ আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিলেন। মানুষের অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থান,নারী শিক্ষার উন্নয়ন সহ সমাজের সকল ক্ষেত্রে অসঙ্গতি দূর করে সমাজে সকলের নায্য আদায় এবং সমতা প্রতিষ্টাই ছিলো তাঁর ব্রত। তাঁর হাত ধরে অনেক কিংবদন্তি রাজনীতিকের সৃষ্টি হলেও তিনি ছিলেন ক্ষমতাবিমূখ। ক্ষমতার মোহ এবং ভোগ বিলাসীতা তাঁকে কখনো আকৃষ্ট করতে পারেনি। মওলানা ভাসানীকে কোন শোষক শাসকই সহ্য করতে পারেনা। ইতিহাস থেকে মওলানা ভাসানীকে মুছে ফেলার নানান অপচেষ্টা অতীতেও হয়েছে এবং হচ্ছে। বর্তমান সময়ের এই কঠিন মুহূর্তে মওলানা ভাসানীর অভাব প্রতিটি নির্যাতিত নিপিড়িত মানুষ হৃদয় দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধায় অনুভব করে।
বক্তারা আরো বলেন, দূর্নীতি অপশাসন পেশিশক্তি দিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার হরন করে পূঁজিবাদী শাসন ব্যবস্হা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অন্তরাল। ষড়যন্ত্র করে মওলানা ভাসানীর নাম সাময়িক দমিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও মানুষের হৃদয় থেকে এবং ইতিহাস থেকে মওলানা ভাসানীকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। নতুন প্রজন্মের কাছে মওলানা ভাসানীর মুক্তির চেতনা এবং দেশপ্রেমের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে।

সিলেট নগরীর মেট্রোপলিটন ল’ কলেজের সেমিনার হলে অনুষ্টিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক ইকবাল সিদ্দিকী, প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন অধ্যাপক ড. মো: আবুল কাশেম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ লে. কর্ণেল (অব) এম. আতাউর রহমান পীর, সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি ও ভাসানী ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি এডভোকেট এমাদুল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন, সিলেট জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবি এডভোকেট দেওয়ান মিনহাজ গাজী।
বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলার সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবুল ফয়েজ, মেট্রোপলিটন ল’ কলেজের প্রভাষক এডভোকেট সৈয়দ কাওসার আহমদ, ভাসানী ফাউন্ডেশনের সদস্য কয়েছ আহমদ সাগর, জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিক সংঘের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী পটু, সিলেট জেলা ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক ইছমত ইবনে ইসহাক সানজিদ, ফাইন্ডেশনের সদস্য আমিন তাহমিদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের প্রচার সম্পাদক এডভোকেট মোবারক হোসেন।
সভায় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং ভাসানী ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রবীণ আইনজীবি এডভোকেট সৈয়দ আশরাফ হোসেন ও ফাউন্ডেশনের অন্যতম সদস্য রাজনীতিবীদ প্রকৌশলী আশফাক আহমদ সহ সকল অসুস্হ জনদের সুস্হতা কামনা করা হয়।


 

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট