মাস্ক ব্যবহারে সিলেটে মাইকিং

প্রকাশিত: ১২:৪৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০২০

মাস্ক ব্যবহারে সিলেটে মাইকিং

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে সিলেটে শঙ্কা বাড়ছে। এরই মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে রোগীর সংখ্যা। থেমে যাওয়া মৃত্যুর মিছিল আবার শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় করোনা সচেতনতা নিয়ে উৎকণ্ঠায় সবাই। মাস্ক ব্যবহারে অসতর্কতার কারণে সিলেটে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিলেটে করোনাক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজারের উপরে। শীত মৌসুমে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বা নতুন করে সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেটে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় মাস্ক ব্যবহারের উপর দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব।

এদিকে নগরীতে প্রতিদিনই মাইকিং করে প্রচারণা চালাচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন। জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে প্রতিটি উপজেলায়ও রয়েছে প্রচারাভিযান। সিলেট এখনো করোনা ঝুঁকিমুক্ত নয়। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিলেও বাড়ছে না গণসচেতনতা। ইতিপূর্বে সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন করেছেন সভা। আর চালাচ্ছেন প্রচারাভিযান। তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক করোনা প্রতিরোধে প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাস্ক না পরলে সেবা দেয়া হবে না। বাসস্ট্যান্ড এবং রেলস্টেশনে মাস্ক ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন শপিংমল ও দোকানপাটগুলোতে মাস্ক ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রমও বন্ধ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এ ছাড়াও করোনা প্রতিরোধে সেবার বিষয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সিলেট নগরীর শপিং মল, বাস টার্মিনাল কিংবা রেলস্টেশন, গণপরিবহন, কোথাও স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। প্রথম দিকে এসব জায়গায় যেটুকু নিয়ম পালন করা হতো, সেটুকুও এখন উধাও। বাসস্ট্যান্ডগুলোতে কিছুদিন আগেও যাত্রী উঠানোর সময় ছিটানো হতো জীবাণুনাশক। স্প্রে করা হতো পুরো গাড়ি এবং সিটে। কিন্তু এখন তাও হচ্ছে না। শপিং মলের সামনে হাত ধোয়ার বেসিন থাকলেও ব্যবহার নেই। চলমান করোনা মহামারিতে সিলেটসহ সারা দেশের গণপরিবহনই এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক। স্বাস্থ্য মেনে যাত্রী পরিবহন এবং মাস্ক ব্যবহারের কথা। কিন্তু যাত্রীবাহী বাসসহ গণপরিবহনগুলোতে চালক, হেলপার ও যাত্রীরা মাস্ক ছাড়াই গণপরিবহনে উঠছেন। এ ছাড়া সিলেট নগরীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ সব ধরনের গণপরিবহনে বিন্দুমাত্র স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না যাত্রীরা। দু’জনের সিটে গাদাগাদি করে বসছেন নিয়মের অধিক যাত্রী। সিলেটের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিস ও হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায় করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউ আসার সময় সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছিল হাত ধোয়ার বেসিন। কিন্তু বর্তমানে সেগুলো অকার্যকর। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে গিয়েও দেখা যায় স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং মাস্ক ব্যবহারে যাত্রীরা উদাসীন। সবাই ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। নেই কোনো সতর্কতা। এ অবস্থায় সিলেটের বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন আগামীতে দ্বিতীয় দফা আবারো যদি করোনা আঘাত হানে তাহলে ব্যাপক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে। এনা পরিবহনে পরিবহনের যাত্রী ছাদিক যাবেন ঢাকায়। মুখে মাস্ক নেই। তার আশেপাশের সিটে বসা সব যাত্রীর একই অবস্থা। জানতে চাইলে তিনি বলেন, পকেটে মাস্ক আছে, বাসে উঠার পর খুলেছেন। ওই বাসের ৩০ জন যাত্রীর মধ্যে মাত্র ৪ জনের মুখে মাস্ক দেখা গেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সনাক) সভাপতি ফারুক মাহমুদ বলেন, আমরা আইন মানতে অভ্যস্ত নই, মানতে বাধ্য করতে হয়। এটা আমাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের মনিটরিং জোরদার করতে হবে। তিনি আরো বলেন, যথাযথ নিয়ম ও নজরদারি না থাকার কারণে এই শিথিলতা দেখা যাচ্ছে এবং এসব ক্ষেত্রে জনসম্পৃক্ততার বিষয়টি এড়িয়ে শুধু নির্দেশনা জারি করে কোনো লাভ নেই। এই নির্দেশনা বাংলাদেশে মাস্ক ব্যবহারে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না। কারণ আগেও এ ধরনের প্রজ্ঞাপন দেয়া হয়েছিল। কোনো লাভ হয়নি। এ জন্য জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে, আর জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সরকার সবাইকে যুক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শুধু নির্দেশনা, লিফলেট, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড মানুষের ব্যবহারে কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, নগরবাসীকে সতর্ক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুতিও গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি করোনা কালে মাস্ক ব্যবহার বিধি মেনে চলতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।


সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট