এড. এরশাদুল হক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নিপুর বিরুদ্ধে মহিলাকে হয়রানি-নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২০

এড. এরশাদুল হক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নিপুর বিরুদ্ধে মহিলাকে হয়রানি-নির্যাতনের অভিযোগ

সিলেটের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর(পিপি), জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এডভোকেট এ এইচ এরশাদুল হক এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরন মাহমুদ নিপুর বিরুদ্ধে নির্যাতন-হয়রানির অভিযোগ এনেছেন বালুচর এলাকার মনোয়ারা বেগম নামের এক মহিলা।
সোমবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নগরীর শাহপরাণ থানার উত্তর বালুচর এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মনোয়ারা জানান, সিলেটের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর(পিপি) ও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এডভোকেট এ এইচ এরশাদুল হক তার স্বামী। ২০১৩ সালে তাদের বিয়ে হয় বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মনোয়ারা বেগম বলেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাকে নির্যাতন করা শুরু করেন তার স্বামী। এতে গর্ভের সন্তানও নষ্ট হয়। বারবার বাসায় এসে টাকা চাইতেন। না দিলে ব্যাপক নির্যাতন করতেন তাাকে। এরপর গত ২১ অক্টোবর সিলেট জেলা বারের ২ নং হলে আমার স্বামীর চেম্বারে একমাত্র সন্তান ইশরাত জাহান ইমু (৫) কে নিয়ে যান। এ সময় আমি আমার সন্তানের ভরণ পোষণ চাই তার কাছে। এতে তিনি উত্তেজিত হয়ে তাকে ও তার এমকাত্র সন্তানকে মারধর করেন। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরন মাহমুদ নিপু নাকি আমাকে শায়েস্তা করবে।
তিনি বলেন, গত বছরের ১৯ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করার পরদিন হিরন মাহমুদ নিপু তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। এ ঘটনায় তিনি শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে বাধ্য হয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত -১ এ মামলা দায়র করেন। মামলা নং-৯০। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, গত বছরের ১৪ মার্চ হিরন মাহমুদ নিপু তার সহযোগীদের নিয়ে তার স্বামীর সাথে তার কোনো ধরণের সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে একটি ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতে চাইলে তিনি দেননি। এ সময় নিপু তাকে ধর্ষণ এবং তার সন্তানকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় তিনি এসএমপির শাহপরাণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। যার নং ৬৫৮। জিডিটি তদন্ত শেষে শাহপরাণ থানা পুলিশ নন জি আর মামলা নং ০২/১৯ হিসেবে ডায়েরিভুক্ত করে। এ মামলায় গত ৮ মে আদালতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিএনজি অটোরিক্সাযোগে আরামবাগ আনন্দ খেলার মাঠে পৌছামাত্র নোহা মাইক্রোবাসযোগে তার স্বামী এরশাদুল হক, হিরন মাহমুদ নিপু, এহতেশাম হক আকমল, আলম মিয়া, পাপ্পু, জুয়েল মিয়া, আদিত্য, দুখু মিয়া, সায়েম ও সাইদুল ইসলাম তার গাড়িটি আটকে প্রথমে তার স্বামী তার মেয়েটিকে কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মেরে ফেলতে চায়। তিনি বাচ্চাটিকে আগলে রাখতে চাইলে অন্যরা তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে তাদের মারধরে তিনি মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত হলে তারা চলে যায়।
এ ঘটনায় মামলা করলে মামলাটি আদালত তদন্তের জন্য মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে দায়িত্ব দেন। গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শেষে ৪ জনকে অভিযুক্ত করে গত ২৮ জানুয়ারি প্রতিবেদন দেয়। এতে অভিযুক্তরা হলেন তার স্বামী এ এইচ এরশাদুল হক, ছাত্রলীগ নেতা হিরন মাহমুদ নিপু, তার ভাসুর এহতেশাম হক আকমল ও তাদের সহযোগী আলম মিয়া।
তিনি নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে স্বামী এরশাদুল হক ও হিরন মাহমুদ নিপুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট