রায়হানের শরীরে ভোতা অস্ত্রের আঘাতই বেশি

প্রকাশিত: ২:১১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২০

রায়হানের শরীরে ভোতা অস্ত্রের আঘাতই বেশি

বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্মম নির্যাতনে নিহত রায়হানের শরীরে ভোতা অস্ত্রের আঘাতই বেশি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. মো. শামসুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ওসমানী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. মো. শামসুল ইসলাম রায়হানের ২য় ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পিবিআই প্রতিনিধি দলের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

প্রতিবেদন হস্তান্তরের ডা. মো. শামসুল ইসলাম সাংবাদিকদেরকে জানান, দ্বিতীয় ময়না তদন্তেও প্রথম প্রতিবেদনের সামঞ্জস্য পেয়েছে ফরেনসিক মেডিকেল বোর্ড। এছাড়া অতিরিক্ত আঘাতের কারণেই রায়হানের মৃত্যু হয়েছে এবং ভোতা অস্ত্রের আঘাতই তার শরীরে বেশি জখম বলে জানান ফরেনসিক বিভাগের এই কর্মকর্তা।

এর আগে গত ১১ অক্টোবরের প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ১৫ অক্টোবর পুলিশের কাছে ও ১৫ অক্টোবর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ২২ অক্টোবর পিবিআই এর কাছে হস্তান্তর করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিন (৩৩) নামে এক যুবক নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলেন তার স্বজনরা। নিহত ওই যুবক সিলেটের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করেছে।

পরিবারের অভিযোগে ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠিত করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ হেফাজতে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যু ও নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

এরপর বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। অন্য তিনজন হলেন, কনস্টেবল হারুনুর রশীদ, কনস্টেবল তৌওহিদ মিয়া, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস।

একই সাথে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সদস্যরা হল, এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী, কনস্টেবল সজিব হোসেন।

এদিকে ঘটনার পর ১৩ অক্টোবর থেকে লাপাত্তা হয়ে যান বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া। এরপর থেকে এখনও লাপাত্তা রয়েছেন ঘটনার মুল অভিযুক্ত এ পুলিশ কর্মকর্তা।

এ ঘটনায় রোববার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিহত রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজন আসামি করে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পিবিআই।

চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) থেকে তদন্ত শুরু করে পিবিআই। সেদিন তদন্ত দল বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ি, কাষ্টঘর ও রায়হানের পরিবারের সাথে কথা বলে।

আর ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে রায়হানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ফের ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে আবারও রায়হানের মৃতদেহ দাফন করা হয়।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় মঙ্গলবার বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার দেখায় পিবিআই। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুহিদুল ইসলাম আদালতে টিটুর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে সিলেটের অতিরিক্ত মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক জিহাদুর রহমান শুনানি শেষে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট