গোলাপগঞ্জে কাজ চলাকালেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ

প্রকাশিত: ৭:৫৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২০

গোলাপগঞ্জে কাজ চলাকালেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ

গোলাপগঞ্জের বসন্তপুর-কটলিপাড়া সড়কের সংস্কার কাজ চলাকালেই উঠে যাচ্ছে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাধীন একটি রাস্তার পিচ ঢালাইয়ের কার্পেটিং। প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তার মাত্র ১ কিলোমিটার শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পিচ ঢালাই উঠে গেছে। কোথাও বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ এনে গত বৃহস্পতিবার সংস্কার কাজ বন্ধ করে দেন এলাকাবাসী।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, ৪ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তায় পিচ ঢালাই দেয়া হয়েছে। ঢালাইয়ের সপ্তাহখানেকের মাথায় উপজেলার বাগিরঘাট ও ছয়ত্রিশ এলাকার বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পিচ ঢালাই উঠে যাচ্ছে, সরে যাচ্ছে খোয়া।

স্থানীয়রা জানান, সড়কের পিচ-খোয়া হাত দিয়েই উঠিয়ে ফেলা যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারণেই রাস্তার এমন চিত্র।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের-বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ ফিডার রোডের গোলাপগঞ্জ অংশের বসন্তপুর-কটলিপাড়া সড়কের প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ দুই প্যাকেজে চলমান রয়েছে। সংস্কারাধীন এই রাস্তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে মামুন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সিএনজি অটোরিকশা চালক মামুন আহমদ বলেন, পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হবার পরই দেখছি শ্রমিকরা এখানে নিম্নমানের কাজ করছেন। পিচ ঢালাইয়ের পূর্বে রাস্তাটি ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়নি। তাছাড়া ঢালাইয়ে পিচ, পাথর, বিটুমিনসহ যাবতীয় মালামাল ঠিকভাবে না দেওয়ায় পিচ উঠে যাচ্ছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হিফজুর রহমান বলেন, প্রথমে কাজটি দেখেই মনে হয়য়ে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। হাত দিয়ে টান দিলেই পিচ উঠে যাচ্ছে। তাই কাজ বন্ধ রাখার জন্য ঠিকাদারকে বলেন গ্রামবাসী। পরবর্তীতে আমরা বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি। তিনি কাজে অনিয়ম হলে সংশোধন করে দেবেন বলেন আমাদেরকে আশ্বস্ত করেন।

স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, গত শনিবার গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং রোববার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা বসন্তপুর-কটলিপাড়া সড়কের সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহার ও অনিয়মের খবর পেয়ে পরিদর্শন করেছেন। এসময় রাস্তায় সৃষ্ট হওয়া ফাটল ও কার্পেটিং উঠে যাওয়া অংশ পুনরায় মেরামত করে দেয়ার আশ্বাসে কাজ বন্ধ না করার জন্য স্থানীয় এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান তারা।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী মামুন বক্সের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা প্রকৌশল কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, রাস্তার কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে না। কাজের অনেক টেকনিক্যাল বিষয় আছে। কাজ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে একটা ভুল বুঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। আমি এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাস্তাটি পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি। ভুল বুঝাবুঝির অবসান হয়েছে, দিন দুয়েকের মধ্যে সড়কের কাজ পুনরায় শুরু হবে।


  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট