এমসি কলেজকে কলঙ্কিত করার দায় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের : সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন

প্রকাশিত: ১০:২৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০

এমসি কলেজকে কলঙ্কিত করার দায় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের : সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন

পরিস্থিতি কোনোভাবেই আর উপেক্ষা করার মতো নয়। সিলেটের মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও গৌরবের প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজকে বার বার কলঙ্কিত করার দায় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ছাত্রলীগ নামধারী পেঁটোয়া বাহিনীকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে যে পবিত্র ক্যাম্পাসে আজ গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হয়! আগামীকাল এরা নিজেদের সহপাঠিনীকে গণধর্ষণ করবে।

আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সিলেটের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের হোস্টেলে গতকাল শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে গৃহবধূকে গণধর্ষণ করার প্রতিবাদে সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন, সিলেট নামের একটি সংগঠন এই কর্মসূচির আয়োজন করে। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও তাৎক্ষণিকভাবে আয়োজন করা এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক অংশগ্রহণ করেন।

সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন, সিলেটের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম এর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নগরীর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রজনৈতিক সংগঠনের ক্ষুব্ধ নেতারা সংহতি প্রকাশ করেন।

আয়োজকদের পক্ষে দেওয়া মূল বক্তব্যে আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘সিলেটের আকাশ আজ বিষন্ন। সিলেটের ইতিহাসে এমন বর্বোরোচিত ঘটনা আর ঘটেনি। ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের হোস্টেলে ঘটা নারকীয় ঘটনায় নগরের বিবেক বোধসম্পন্ন সকল মানুষ ক্ষুব্ধ। প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা লজ্জায়-অপমানে মাথা হেঁট করে রেখেছেন। কিন্তু আমাদের লজ্জা পেলে চলবে না। লজ্জা পেতে হবে তাদেরকে, যারা এসব দুর্বৃত্তকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে ধর্ষক বানিয়েছে।

এডভোকেট দেবব্রত চৌধুরী লিটনের সঞ্চালনায় কর্মসুচিতে বক্তব্য দেন, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমদ চৌধুরী মিশু, তথ্যচিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে যাদু, ভূমিসন্তান বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ক আশরাফুল কবির, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সিলেট জেলা শাখার নেতা নিরঞ্জন সরকার খোকন, বাসদ সিলেট জেলা শাখার সংগঠক প্রণব জ্যোতি পাল ও প্রগতিশীল ছাত্রজোট সিলেট জেলার নেতা সঞ্জয় কান্তি দাস।

এছাড়া সংহতি প্রকাশ করেন, গণজাগরণ মঞ্চ সিলেটের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত, ঐতিহ্য সংরক্ষক ডা. শাহজামান চৌধুরী বাহার, সাংস্কৃতিক সংগঠক হুমায়ুন কবীর জুয়েল, চিত্রশিল্পী ইসমাইল গণি হিমন, বাসদ মার্কসবাদী পাঠচক্র ফোরামের নেতা নিরঞ্জন সরকার অপু, বাপা সিলেটের সুপ্রজিত তালুকদার প্রমুখ।

কর্মসূচি থেকে ধর্ষক ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার দাবি জানানো হয়। বলা হয়, ডালপালা ছাঁটলে হবে না। বিষবৃক্ষের শেকড় উপড়াতে হবে।


  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট