একুশে আগষ্টের ঘটনায় খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বানোয়াট : মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ৬:২১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০

একুশে আগষ্টের ঘটনায় খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বানোয়াট : মির্জা ফখরুল

২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনার সাথে বেগম খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাকে ‘দায়িত্বহীন ও বানোয়াট’ বলে মন্তব্য করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসাচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে হাতের মুঠোয় নিয়ে তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দকে জড়িয়ে প্রহসনের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাজা দিয়ে এখন বেগম খালেদা জিয়াকে টার্গেট করা হয়েছে। ২১ আগষ্ট নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা। এই মামলায় কোনভাবেই বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে কেউ কখনোই টু শব্দটি করেনি। খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য দায়িত্বহীন, বানোয়াট ও অসত্য।

মির্জা ফখরুল বলেন, মুফতী হান্নানকে দিয়ে যদি বিএনপি সরকার গ্রেনেড হামলা করায় তাহলে সেই সরকারই ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর কেন তাকে গ্রেফতার করে ? সমগ্র মামলাটি বিশ্লেষণ করলে এটিই সুষ্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ বিএনপিকে ধ্বংস করার একটি সুদুরপ্রসারী নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্যই ২১ আগষ্ট সংক্রান্ত মামলায় বিএনপিকে জড়ানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য এখনও চলমান রয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ওই আকস্মিক হামলার ঘটনা শোনার সাথে সাথেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া হতবাক ও বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি দ্রুত হতাহতদের খবর নিতে থাকেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল তারেক সিদ্দিকীকে দেখতে সিএমএইচ-এ যান। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানাতে চেষ্টা করেন, এজন্য নিরাপত্তা বাহিনী দিনভর চেষ্টা চালায়। কিন্তু ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী সুধা সদনের আশেপাশের রাস্তা দিনরাত দখল করে রাখে। এক পর্যায়ে নিরাপত্তার অগ্রীম টীম হিসেবে পাঠানো প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করে সেখান থেকে বের করে দেয় আওয়ামী লীগের কর্মীরা।

তিনি বলেন, ২১ আগষ্ট বোমা হামলার ঘটনা নিঃসন্দেহে ভয়াবহ এবং এতে হতাহতের ঘটনা মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। ওই সময় বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার কাছে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজ স্বাক্ষরে শোক ও সমবেদনা জানিয়ে পত্র পাঠান। সেই চিঠি পৌঁছাতে গিয়ে পত্রবাহক নিজেও হামলার শিকার হন। বোমা হামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিশেষজ্ঞ সার্ভিস দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআই সদস্যরা আসেন। জাতীয় সংসদে উত্থাপিত দাবি অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের কর্মরত একজন বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশী পুনতদন্তের মাধ্যমে রচিত সম্পূরক চার্জশিটে তারেক রহমানসহ বিএনপি’র অন্যান্য নেতৃবৃন্দের নাম জড়িত করা হয়। এতে সুষ্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয় যে, রাষ্ট্রশক্তি প্রয়োগ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কল্পিত চার্জশিট তৈরী করা হয়েছে।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট