খুনিদের ফাঁসির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

প্রকাশিত: ৬:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২০

খুনিদের ফাঁসির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

শ্রমিক নেতা রিপনের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান সিলেট বিভাগীয় ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন রিপন হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তসহ দ্রুত বিচারের মাধ্যমে আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সিলেট বিভাগীয় ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়ন-২১৭৪ এর নেতৃবন্দ।


১০ আগস্ট সোমবার সকালে সর্বস্তরের ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বিক্ষোভ মিছিল সহকারে নগরীর দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্ট সংলগ্ন যমুনা ডিপোর সামন থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসেন। এসময় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপি প্রদান শেষে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।


স্মারকলিপিতে ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সিলেট’সহ সারা দেশের তৈল সেক্টরে আমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছি। অথচ আজ আমরা অবহেলিত, নির্যাতিত ও নিপিড়িত। এমনকি হত্যার শিকার ও প্রতিনিয়ত চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি। গত ১০ জুলাই শুক্রবার রাত ১০টায় সিলেট বিভাগীয় ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রিপন তাঁর জ্বালানী তেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ সুরমার থানাধীন টেকনিক্যাল রোডস্থ জারিন ট্রেডার্স থেকে তার বন্ধু বাবলা আহমদ তালুকদার এর মোটর সাইকেল যোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে নগরীর দক্ষিণ সুরমার ষ্টেশন রোডস্থ বাবনা পয়েন্টে বাবনা রেস্টুরেন্টের সামনে পৌছা মাত্রই পূর্ব বিরোধের জের ধরে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন এর আই.ডব্লিউ. আকবর হোসেন মজুমদার, স্টেশন মাস্টার মতিন ভুইয়া ও ওয়ার্কার সুপারভাইজার শহীদুল হক এর হুকুম ও মদদে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আসামীগংরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের উপর পেছন থেকে হামলা চালায়।


এ সময় বিবাদী ইজাজুল রিমু ও মুহিব রহমান মুন্না ধারালো রামদা দিয়ে শ্রমিক নেতা রিপনের মাথায় কুপ দিলে মাথার নিচে ডান কানের পাশে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় রিপনের সাথে থাকা বাবলা আহমদ তালুকদারকে আসামী মিটু ধারালো চাকু দিয়ে ডান কাধে কুপ দিয়ে মারাত্মক জখম করলে বাবলা আহমদ দৌড় দিয়ে পার্শ্ববর্তী কমার্শিয়াল বিল্ডিং এর ভেতরে আশ্রয় গ্রহণ করে প্রাণে বাচেন কিন্তু রিপন প্রাণ রক্ষার জন্য দৌড়ে রেলগেইটের দিকে শিতারা হোটেলের সামনে যাওয়া মাত্রই বিবাদী মোস্তাফা, সেবুল ও কাইয়ুম ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ী আঘাত করতে থাকে। রিপন হাত দিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও হত্যাকারীদের হাত থেকে রেহাই পাননি। একপর্যায়ে রিপন গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আসামী বদরুল, ইসমাইল ও নোমান রিপনের মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেপরোয়াভাবে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ সময় হামলার শিকার শ্রমিক নেতা ইকবাল হোসেন রিপনের আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মুমর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক রিপনকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় আহত বাবলা আহমদ তালুকদার গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হয়ে ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।


স্মারকলিপি থেকে জানা যায়, ইকবাল হোসেন রিপনের স্ত্রী ফারজানা আক্তার তমা বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫-৭ জনকে রেখে দক্ষিণ সুরমা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলার আসামী এ পর্যন্ত ১২ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ দ্বারায় স্বীকারুক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামীদের তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতী, দা, চাকু উদ্ধার করে জব্দ করেছে পুলিশ। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ রিপন হত্যার সাথে জড়িত খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও শ্রমিক নেতা ইকবাল হোসেন রিপন হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত সহ বিচারের মাধ্যমে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।


শ্রমিক নেতা রিপনের খুনির ফাসির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সিলেট বিভাগীয় ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ মনির হোসেন। দপ্তর প্রধান সহকারী রকিব হাসানের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি কাউছার আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ, অর্থ সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন, প্রচার সম্পাদক মোঃ গোলাপ খান, লাইন সম্পাদক কবির খান, কার্যকারী সদস্য বশির মিয়া, আব্দুল জলিল প্রমুখ। এছাড়াও বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে অসংখ্য শ্রমিক নেতাকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন। রিপনের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন মন্ত্রী, পুলিশ মহাপরিদর্শক, পুলিশ সুপার সিলেট, অফিস নথি’সহ বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি পেশ করা হয়েছে।


  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট