বরেণ্য সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর আর নেই

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২০

বরেণ্য সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর আর নেই

বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর মারা গেছেন। সোমবার (০৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এন্ড্রু কিশোরের বড় বোনের স্বামী ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

টানা নয় মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থেকে গত ১১ জুন একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছিলেন এন্ড্রু কিশোর। তারপর রাজশাহী মহানগরের মহিষবাথান এলাকায় বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাসায় ছিলেন এই প্লেব্যাক সম্রাট। ওই বাড়িটির একটি অংশেই রয়েছে ক্লিনিক।

সেখানেই চিকিৎসা চলছিল এন্ড্রু কিশোরের। তবে গতকাল রবিবার (০৫ জুলাই) থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তাই এন্ড্রু কিশোরের সুস্থতায় প্রাণ খুলে দোয়া করার জন্য সবার কাছে অনুরোধ করেছিলেন স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু। সেখানেই তারা চিকিৎসা চলছিল।

এর পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি ঘটনায় সোমবার (০৬ জুলাই) দুপুরে বাড়িতে রেখেই তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট নেওয়া হয়। এর পর সন্ধ্যায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

ক্যান্সার আক্রান্ত এন্ড্রু কিশোরকে দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা শফিকুল আলম বাবু জানান, দেশে ফিরলেও এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থা ভালো যাচ্ছিল না। রবিবার (৫ জুলাই) সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। কারও সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থাতেই ছিলেন না তিনি। বিকেলে এন্ড্রু কিশোরের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছিল।

এর আগে অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছিলেন এই নন্দিত গায়ক। জনপ্রিয় এই শিল্পীর চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা করেছেন। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক লিম সুন থাইয়ের অধীনে ছিলেন এন্ড্রু কিশোর।

প্রসঙ্গত, এন্ড্রু কিশোর আব্দুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে প্রাথমিকভাবে সঙ্গীতে তালিম নেন। মুক্তিযুদ্ধের পর নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওতে তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শুরু করেন ১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ ছবির ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তাঁর কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে।

তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধাড়াক্কা’। তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতীজ্ঞা’ চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গানে প্রথম দর্শক তার কণ্ঠ শুনে এবং গানটি জনপ্রিয়তা লাভ করে।

এরপর দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে সুখ-দুঃখ, হাসি-আনন্দ, প্রেম-বিরহ সব অনুভূতির হাজার হাজার গান গেয়েছেন এন্ড্রু কিশোর। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমার ছুঁয়াতে খুঁজে পেয়েছি, সবাইতো ভালোবাসা চায়, বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে, তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন, ভালো আছি ভালো থেকো, তুমি মোর জীবনের ভাবনা, চোখ যে মনের কথা বলে, পড়েনা চোখের পলক ইত্যাদি।

বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতার সিনেমাতেও গান করেছেন এন্ড্রু কিশোর। সিনেমার গানের জন্যই যেন জন্মেছিলেন এই গায়ক। ভক্ত-অনুরাগীরা তাকে ভালোবেসে প্লেব্যাক সম্রাট বলে ডাকে। সঙ্গীতে উজাড় করে দিয়েছেন নিজেকে। আর বিনিময়ে পেয়েছেন কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। সেইসঙ্গে রাষ্ট্র তাকে আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত করেছে।


  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট