এটিএম ফয়েজ ও রোকশানার সুস্থতা কামনা করেছেন ব্যারিস্টার এম এ সালাম

প্রকাশিত: ১২:০১ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

এটিএম ফয়েজ ও রোকশানার সুস্থতা কামনা করেছেন ব্যারিস্টার এম এ সালাম

সাহেদ আহমদ : জীবন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন দক্ষিণ সুরমার কৃতি সন্তান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদিকা ,সিলেট সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র, সিলেট ল’ কলেজের সাবেক ভিপি এডভোকেট রোকশানা বেগম শাহনাজ। করোনা নেগেটিভ হওয়ার পরও উপসর্গ নিয়ে তিনি গত ৩ দিন ধরে নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার স্বামী দক্ষিণ সুরমা কৃতিসন্তান সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি এ.টি.এম ফয়েজও করোনা আক্রান্ত হয়ে সিলেট নগরীর চৌহাট্টস্থ শহীদ ডাঃ শামসুদ্দীন হাসপাতালের আইসোলেটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।


তারা দু’জনের সুস্থতা কামনা করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার এম এ সালাম। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এডভোকেট এটিএম ফয়েজ সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ। সিলেট বিএনপির সিনিয়র নেতাদের একজন তিনি। পাশাপাশি সিলেট জেলা বারের আইনজীবী। বর্তমানে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আর এডভোকেট রোকশানা বেগম শাহনাজও মহিলা দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত । আইনজীবী হিসেবেও তার সুনাম রয়েছে। পাশাপাশি তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র। সিলেট নগরীর দক্ষিণ অংশের ২৫, ২৬ ও ২৭ এই তিনটি ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত মহিলা কাউন্সিলরও।


তিনি বলেন, করোনাকালীন সময়ে সিলেটের এই দম্পতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে মানুষের কাছাকাছি ছিলেন। পরিবারের উদ্যোগেই করোনায় ঘরবন্দি মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। এই অবস্থায় গত দুই সপ্তাহ ধরে শরীর ভালো যাচ্ছিলো না এডভোকেট রোকশানা বেগম শাহনাজের। তিনি সর্দি, জ্বরে ভুগছিলেন। এর কয়েকদিন পর এডভোকেট এটিএম ফয়েজেরও উপসর্গ দেখা দেয়। উপসর্গ দেখা দিলে তারা করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। গত ২১শে জুন প্রাপ্ত রিপোর্টে জেলা বারের সভাপতি এডভোকেট এটিএম ফয়েজের করোনা পজেটিভ আসে। তবে রোকশানার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। করোনা পজেটিভ এলেও এটিএম ফয়েজের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল। আর নেগেটিভ রিপোর্ট এলেও রোকশানা বেগম শাহনাজের শারীরিক অবস্থা ততটা ভালো ছিলনা। তিনি শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। এ খবর পেয়ে পরিবারের স্বজন প্যানেল মেয়র রোকশানা বেগম শাহনাজকে নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে ভর্তির পর এডভোকেট রোকশানাকে প্রথমে অক্সিজেন সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরপর তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে রোকশানাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। আইসিইউতে নেয়ার পরও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং অবনতি হচ্ছে। এ কারণে শনিবার দুপুরে রোকশানার শারীরিক বিষয় নিয়ে নর্থ ইষ্টের ডাক্তারদের বোর্ড মিটিং হয়।


সর্বশেষ ডাক্তাররা জানিয়েছেন- এডভোকেট রোকশানার ফুসফুসও আক্রান্ত। ফলে তাকে নিয়ে ডাক্তাররাও সন্দিহান। এদিকে, করোনা আক্রান্ত হলেও মাছুদিঘীরপাড়স্থ নিজ বাসায়ই ছিলেন জেলা বারের সভাপতি এটিএম ফয়েজ। তিনি বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। বুধবার রাত থেকে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে তাকেও নেয়া হয়েছে আইসোলেশন সেন্টার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। সেখানে নেয়ার পর ডাক্তাররা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করে দেখেন তারও অক্সিজেনের ‘কন্ডিশন’ ভালো না। পরে চিকিৎসকরা এটিএম ফয়েজকে আইসিইউতে ভর্তি করেন। এখনো তিনি আইসিইউতে রয়েছেন। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. চয়ন রায় জানিয়েছেন- এডভোকেট এটিএম ফয়েজের অক্সিজেন সাপোর্টে আছেন। কখনো কখনো অক্সিজেনের মাত্রা কমে আসে। শুক্রবার রাতেও তার শারীরিক অবস্থার একবার অবনতি হয়েছিল। তবে শনিবার সকাল থেকে তিনি কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছেন।


ব্যারিষ্টার এম এ সালাম বিবৃতিতে এডভোকেট এটিএম ফয়েজ ও রোকশানা বেগম শাহনাজ’সহ করোনাক্রান্ত সকলের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তাদের সুস্থতা কামনার জন্য সিলেট তথা দেশের সর্বস্তরের প্রতি আহবান জানান।


  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট