সরকারের মেগা প্রকল্পে মেগা লুট : ফখরুল

প্রকাশিত: ৬:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২০

সরকারের মেগা প্রকল্পে মেগা লুট : ফখরুল

স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তে সরকার ‘মেগা প্রকল্প, মেগা লুট’কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাত তাদের প্রায়োরিটিতে নেই। তাদের প্রাধান্য একটাই, তারা মেগা প্রকল্প তৈরি করবে এবং মেগা প্রকল্পে মেগা লুট করবে।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসক ও তাদের পরিবারকে সহযোগিতা এবং কোভিড-১৯ আক্রান্তদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ কথা বলেন। দলীয় চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর আয়োজন করে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেখেছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রতিষ্ঠানটির উদ্ভাবিত কিট এখনো সরকার অনুমোদন দেয়নি। সবকিছুর পেছনে তাদের যে উদ্দেশ্য কাজ করছে, তা হচ্ছে দুর্নীতি। একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, এটা একটা একদলীয় ফ্যাসিস্ট সরকার। একদলীয় ফ্যাসিস্ট সরকার কখনোই জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করে না।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক একটি সরকারই একমাত্র এই ধরনের মহামারিকে মোকাবিলা করার উপযুক্ত হতে পারে। আসুন এই দুঃসময়ে আমরা জনগণের পাশে দাঁড়াই। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। একই সঙ্গে এই রাষ্ট্র যেন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হতে পারে, তার জন্য সবাই কাজ করি।বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। চিকিৎসকদের চিকিৎসা করার জন্য যে সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগটুকু তারা (সরকার) সৃষ্টি করতে পারেনি। অক্সিজেনের জন্য মানুষ পাগল হয়ে আছে, কোথায় অক্সিজেন পাওয়া যাবে। সিলিন্ডার নেই, আইসিইউ নেই, ভেন্টিলেটর নেই। তাদের সেটার দিকে কোনো গরজ করেনি।

তিনি বলেন, এই সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা নেই। সঠিক তথ্য দেশের মানুষ সঠিকভাবে পাচ্ছে না। আক্রান্তের পরীক্ষা পর্যাপ্ত নয়। যেটুকু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে দেখা যাচ্ছে ১০০ জনে ২৩ জন শনাক্ত হচ্ছে। পরীক্ষায় সরকারের কোনো সক্ষমতা নেই। যে হারে সংক্রমণ বেড়েছে এবং বাড়ছে এটা সহজে নিয়ন্ত্রণে আনা যেত যদি সরকার প্রথম থেকে আন্তরিক হতো এবং সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করত।

দেশের অর্থনীতি ও জীবিকা সচল রাখতে বিএনপির দেওয়া প্যাকেজ প্রস্তাব গোচরে না আনার সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল। এর কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‌প্রথম দিকে তারা ত্রাণ শুরু করেছে, সেই ত্রাণে চুরি একটা মহোৎসব শুরু হয়েছে। কে কত চুরি করবে সেই কমপিটিশন চলছিল। অপর দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে মাস্ক, স্যানিটাইজার, পিপিই এসব সামগ্রী ক্রয় করার ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি আমরা লক্ষ্য করেছি।

বক্তব্যের পর চিকিৎসক ও চিকিৎসক পরিবারকে সহযোগিতার জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবা সার্ভিস, মুমূর্ষু রোগীদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ, প্লাজমা ডোনার তালিকা প্রণয়ন, কোভিড-১৯ আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ব্যবস্থা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল। এ সময় তিনি করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ড্যাব ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান।

ড্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. আবদুস সেলিমের পরিচালনায় ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।


  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট