নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্বিতীয় বারের মত প্লাজমা প্রয়োগ

প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২০

নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্বিতীয় বারের মত প্লাজমা প্রয়োগ

সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের রোগীদের দেয়া হচ্ছে প্লাজমা থেরাপি । বাদ যাচ্ছে না সিলেটেও। দ্বিতীয় বারের মত সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন করোনা রোগীকে দেয়া হয়েছে প্লাজমা থেরাপি। মঙ্গলবার সিলেটের নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শরীরে দেয়া হয়েছে প্লাজমা।

জানা গেছে, গত শনিবার নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম বারের মত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগীর শরীরে দেয়া হয় প্লজামা থেরাপি। আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয়বারের মত নর্থ ইষ্টে ভর্তি এক চিকিৎসকের বাবার শরীরে দেয়া হয় প্লাজমা বা রক্তরস।

নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজের নেফ্রোলজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম সিলেটভিউকে জানান, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা: মেহেদি হাসান করোনায় আক্রান্ত হয়ার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। তার শরীর থেকে সংগ্রহ করা হয় প্লাজমা বা রক্তরস। সংগৃহীত এই প্লাজমা আজ মঙ্গলবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক করোনা রোগীর শরীরে দেয়া হয়।
তিনি জানান, এফেরেসিস  মেশিনের সাহায্যে করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর শরীর থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়। পরে করোনা রোগীদের শরীরে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্লাজমা থেরাপি বেশ পুরোনো একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে সাধারণত কোন ভাইরাল সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠা মানুষের রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেই রক্ত সঞ্চালিত করা হয় একই ধরনের ভাইরাল সংক্রমণের শিকার রোগীর দেহে।

জানা গেছে, মানুষের রক্তের জলীয় অংশকে বলা হয় প্লাজমা বা রক্তরস। রক্তের মধ্যে প্রায় ৫৫ ভাগই থাকে হলুদাভ রঙের এই প্লাজমা। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরে যারা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাদের শরীরে এক ধরণের অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার তৈরি হয়।

তাদের শরীর থেকে প্লাজমার মাধ্যমে সংগ্রহ করা এই অ্যান্টিবডি যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোন ব্যক্তির শরীরে প্রয়োগ করা হয়, তখন তার শরীরের সেই অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তখন তিনিও সুস্থ হয়ে ওঠেন।

চিকিৎসকরা এভাবেই করোনাজয়ী একজনের শরীর থেকে প্লাজমা বা রক্তরস সংগ্রহ করে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রয়োগ করবেন। ফলে তার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে।


সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট