জৈন্তাপুরে শেয়াল-বাঘডাস-বেজি হত্যার মহোৎসব !

প্রকাশিত: ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ, মে ৩০, ২০২০

জৈন্তাপুরে শেয়াল-বাঘডাস-বেজি হত্যার মহোৎসব !

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বালিপাড়া গ্রামে ৬টি শেয়াল, ১টি বেজি ও ২টি বড় বাঘডাশ হত্যা করে খেলায় মেতে ওঠে শিশুরা। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

একসাথে ৯টি বন্যপ্রাণি পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়া ও সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচনা নজরে এসেছে বনবিভাগেরও। শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।

স্থানীয়রা জানান, বালিপাড়া গ্রামের পাশে একটি জঙ্গল রয়েছে। কয়েকদিনের ঢলে ওই এলাকায় পানিবৃদ্ধি পাওয়ায় জঙ্গলের শেয়াল, বাঘডাশ ও বেজিগুলো লোকালয়ে চলে আসে। মাঝেমধ্যে হাঁস-মোরগ ধরে নিয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার স্থানীয় জন যুবক ও তরুণ সমবেত হয়ে গ্রামের পাশের জঙ্গলে হানা দেন।

ওই গ্রামের যুবক ও বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলার জৈন্তাপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক কে এইচ জাকির শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে এসব প্রাণির কিছু ছবি ফেসবুকে আপলোড করেন। এরপর এ নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। ছবিগুলোতে দেখা যায়, হত্যা করা প্রাণিগুলো মাটিতে লাইনধরে ফেলে রাখা হয়েছে। মৃত প্রাণিগুলোর পাশে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন ২৫/৩০ জন তরুণ ও শিশু।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বন্যপ্রাণী আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ায় এবং সচেতনতার অভাবে ক্রমেই এই এলাকায় বন্য প্রাণী হত্যার উৎসব বাড়ছে।’

এ বিষয়ে বনবিভাগের জৈন্তাপুর সারী রেঞ্জের রেঞ্জার সাদ উদ্দিন বলেন, আমি সন্ধ্যার দিকে ফেসবুকে ছবিগুলো দেখেছি। এর পরপরই স্থানীয় ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। শনিবার সকালে আমরাও সেখানে যাব।

ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ বলেন, ‘স্থানীয়রা বেশ কিছু বন্যপ্রাণী হত্যা করেছেন বলে জেনেছি, তবে কতটি তা নিশ্চিতভাবে এখনো খোঁজ নেওয়া হয়নি। যেহেতু বনবিভাগ এ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আমাকে অবহিত করেছেন, তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’

সিলেটের উপ-বন সংরক্ষক ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমাদের কর্মকর্তারা শনিবার ঘটনাস্থলে যাবেন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনে মামলা করা হবে।


  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট