সিপার আহমেদ : সময়টা সম্ভবত ১৯৮৮ অথবা ৮৯ সাল হবে। আমি তখন সিলেট এমসি কলেজের ছাত্র। তখনকার সময়ে এমসি কলেজটাই ছিল বৃহত্তর সিলেটের সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।হোস্টেলটাও ছিল চমৎকার।
৬টা ব্লকে বিভক্ত এমসি হোস্টেলের ৪ নম্বর ব্লকের ৪১৫ নম্বর রুমটি ছিল আমার। আমি তখন হোস্টেলের প্রিফেক্ট।ছবির মতো সবুজ,শান্ত,নিরিবিলি পরিবেশে ছিল হোস্টেলটির অবস্থান।
তখনকার সময় কোন এক যৌক্তিক কারণে কলেজ এবং হোস্টেলে আমার অবস্হানটাও ছিল ভাল। সবাই মোটামুটি চিনতো। বিশেষ করে হোস্টেলের আবাসিক ছাত্র সিনিয়র-জুনিয়র-সহপাঠী সবার সাথে ছিল খুব ভালো সম্পর্ক।
এই হোস্টেলের ২য় ব্লকের ২১২ নম্বর রুমে থাকতো এমাদ চৌধুরী। ম্যাথমেটিক্স অনার্সের ছাত্র। আমার একটু জুনিয়র হলেও তার সাথে ছিল ভাল সম্পর্ক। দিন বা রাতে অন্তত একবার হলেও তার রুমে যেতাম।
এমাদের রুমমেটটাও ছিল অসম্ভব ভালো। ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসে পড়তো। খুব মেধাবী ছাত্র। সবসময় পড়ার টেবিলেই থাকতো। রুমে ঢুকলেই স্মিত হাসি নিয়ে একটা সালাম দিতো।
নাম ছিল “মঈন”। ‘৯০ এর পর বহুদিন বহুবছর কারো সাথে আর যোগাযোগ হয়নি। এমাদ একদিন বলেছিলো মঈন মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। তারপর অনেকগুলো বছর… এমাদ চলে গেল কানাডায়। স্নেহভাজন মঈন হলো ডাঃ মোঃ মঈন উদ্দিন ।
অত্যন্ত মানবিকগুনাবলী সম্পন্ন ডাক্তার ছিল মঈন। পৃথিবী তাকে ধরে রাখতে পারলো না।
ডাক্তার মঈনের জন্য কষ্ট হয়, ভীষণ কষ্ট !!
করোনার সাথে যুদ্ধ করতে করতে একসময় পরাজিত হয়ে গেলো মেধা সম্পন্ন মানুষটি। আমরা তাকে বাঁচাতে পারলাম না।

দেশে করোনা ধরা পড়ার পরও এতদিন সাহস ছিল। কিন্ত এখন ভয় পাচ্ছি! মৃত্যুর মিছিল ক্রমশ দীর্ঘতর হচ্ছে।

ডাক্তার মঈনের মৃত্যু জানিয়ে দিয়ে গেল…করোনা প্রতিরোধে আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল।
অতএব সাবধান।।
আল্লাহ,মানুষের প্রিয় ডাক্তার মঈন -কে তুমি বেহেশতে জায়গা দিও।-আমিন
সিপার আহমেদ : কবি, লেখক ও কলেজ শিক্ষক