ঘরে এসি থাকলে করোনা থেকে বাঁচতে যা করবেন

প্রকাশিত: ১:৪৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২০

ঘরে এসি থাকলে করোনা থেকে বাঁচতে যা করবেন

করোনা ভাইরাস বাতাসেও অনেকক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে এবং হস্ট সেলের বাইরেও এই ভাইরাস বেশ স্ট্যাবল বলে সদ্য প্রকাশিত ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের তথ্য জানা গেছে।

তবে এই খারাপ সংবাদের মধ্যে ভালো কথা হচ্ছে, বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছে, অধিক তাপমাত্রা এবং হিউমিডিটি করোনাভাইরাস বিস্তারে জন্য অন্তরায়।

ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, ফিনল্যান্ডের গবেষকেরা বলেছেন, গ্রীষ্মপ্রধান দেশগুলোতে করোনাভাইরাসের লোকাল ট্রান্সমিশন কম হতে পারে। তাঁরা বলেছেন অধিক তাপমাত্রা এবং বাতাসে অধিক জলীয় বাষ্প করোনাভাইরাস বিস্তারের অন্তরায়।

বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা নিশ্চয় আমাদের জন্য ভালো খবর। আবহাওয়া বিবেচনা করলে এবং গবেষণা ফলাফল সত্যি মেনে নিলে বলা যায়, বাংলাদেশে লোকাল ট্রান্সমিশন হওয়ার সম্ভাবনা কম।

যতটুকু জানি সিঙ্গাপুর আর বাংলাদেশের আবহাওয়া কাছাকাছি। এ মুহূর্তে ওদের হিউমিডিটি আমাদের চেয়ে একটু বেশি হলেও তাপমাত্রা কাছাকাছি। সিঙ্গাপুরের গবেষকরাও বলেছেন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে এবং আর্দ্রতা ৮০ শতাংশের বেশি হলে করোনাভাইরাসের স্থায়িত্ব কমে যায়।

অধিক লোকসমাগম এড়িয়ে চলা এবং বেশি বেশি সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ছাড়াও সিঙ্গাপুরের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ঘরের এসি বন্ধ করে জানালা খুলে দিয়ে আলো-বাতাস চলাচল বাড়াতে হবে। ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর খবর অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারও হেলথ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে তাদের জনগণকে ঘরের জানালা খুলে রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

সিঙ্গাপুরের বিজ্ঞানীদের মতে, ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ করে এসি চালালে ঘরের তাপমাত্রা কমে যায় এবং ঘরের মধ্যে কোনো জীবাণু থাকলে তা বাইরে প্রবেশ করতে পারে না। তাঁরা এটাও বলেছেন, যেসব দেশে তাপমাত্রা বেশি সেখানে খোলা মাঠে রোদে দাঁড়িয়ে থাকলে তা শরীরকে ভিটামিন ডি পেতে সহায়তা করবে। আমরা জানি ভিটামিন ডি শরীরের ইমিউনিটি বাড়ায়।

আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের জীবনযাপনের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের আবহাওয়ার সুবিধা নিতে হবে। আমাদের ঘরের জানালা খুলে দিয়ে ঘরের তাপমাত্রা এবং হিউমিডিটি বাড়াতে হবে। যখন তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকে তখন আমরা আমাদের ঘরের বারান্দা বা উঠোনে রোদ উপভোগ করতে পারি। তবে মনে রাখতে হবে, আমরা যেন একসঙ্গে কাছাকাছি বসে রোদ উপভোগ না করি। আমরা একসঙ্গে বসে যাতে খাবার ভাগাভাগি করে না খাই।

পরিশেষে বলব, আমরা আতঙ্কিত না হয়ে ঘরে থাকি। আমরা সাধারণ নিয়মগুলো মেনে চলি। মনে রাখতে হবে, একমাত্র নিয়ম মেনে চলাই আপনাকে করেনাভাইরাস থেকে মুক্ত রাখতে পারে।

লেখক : পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র।

  •