খেয়ে বাঁচিলে তো করোনায় মরব

প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২০

খেয়ে বাঁচিলে তো করোনায় মরব

করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে দেশে ১০ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া প্রায় সবকিছুই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সবাই বাসা-বাড়িতে থাকতে বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় জনশূন্য রাজধানী ঢাকা। এতে বিপাকে পড়েছেন দিন এনে দিন খাওয়া রিকশাচালকরা। জীবিকার তাগিদে করোনাকে ‍উপেক্ষা করে ঘর থেকে বের হয়েও খালি পকেটেই ফিরতে হচ্ছে তাদের।

সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানী বিভিন্ন স্থানে ঘুরে রিকশা চালকদের সাথে কথা বললে, তারা জানা যায়, সারাদিন রিকশা চালিয়ে সন্ধ্যা বেলায় জমার টাকা দিয়ে খালি পেটে বাড়ি ফিরাতে হয়।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় কথা হয় করিম নামে এক রিকশাচালকের সঙ্গে। দেশের এমন পরিস্থিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, খেয়ে বাঁচিলে তো করোনায় মরব। একদিন রিকশা না চালাইলে আমাগো পেটে ভাত যায় না।  আবার বের হইয়াও লাভ নাই। কোনো কোনো দিন জমার ৩০০ টাকাও উঠে না। খালি পকেটেই বাড়ি ফিরছি। রাস্তাঘাট ফাঁকা, লোকজন নাই। সারা শহর সারাদিন  ঘুইরা এই কয় দিন কিন্তু জমা বাদে সর্বোচ্চ দুইশ টাকা ঘরে নিতে পারছি। দুইশতে কি বাজার সদাই হয় ভাই! বাইর না হইলে তো খাওনের অভাবে মরমু।

মোহাম্মদপুর ও বসিলা এলাকার রিকশাচালাক বাবুল বলেন, খাবার ব্যবস্থা থাকলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘরের বাইরে বের হতাম না। আতঙ্ক নিয়া চার দিন পর ঘরে থাইকা বাইর হইছি। আমার ঘরে চাল, ডাল তো দূরের কথা এক ফোটা পানিও নাই আইজ। অনেকেই গ্রামে চইলা গেছে কিন্তু আমরা আছি পরিবারের কথা চিন্তা কইরা। তারা যে গ্রামে কী খাইতাছে আর কী করতেছে সেইটা আমি জানি না। আমি তো আমার নিজের খাওনের জোগাড় করতে পারি না। আইজকা সকাল বেলা রিকশা নিয়া বাইর হইছি এখন বাজে বিকাল তিনটা।  ভাড়া মারছি ১৭০ টাকা। জমার টাকা হইতে আরও ১৩০ টাকা বাকি।

কমলাপুর রেলস্টেশন, কারওয়ান বাজার, রমনা পার্কসহ আরও কিছু এলাকার ছিন্নমূল মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের বর্তমান অবস্থায় একদিকে যেমন রাতে থাকার সমস্যা, আরেকদিকে রোজগার না থাকায় খাবারের সমস্যাও দেখা দিয়েছে তাদের। আর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতো রয়েছেই।

শহর ঘুরে বেশ কিছু এলাকায় ব্যক্তি ও সংগঠনের উদ্যোগে একেবারেই ছিন্নমূল পর্যায়ের মানুষদের শুকনো খাবার ও চাল, ডাল বিতরণ করতে দেখা গেছে। প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম এসব উদ্যোগ ছিন্নমূলদের অধিকাংশের কাছেই পৌঁছাচ্ছে না।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে স্থবির পুরো বিশ্ব। যার প্রভাব পরেছে প্রত্যেকটি দেশ ও দেশের সব স্তরের মানুষের ওপর। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জনগোষ্ঠীর অর্থনীতির সবচেয়ে তলানীতে থাকা এসব খেটে খাওয়া মানুষের জীবন ও জীবিকা দুর্বিষহ হয়ে উঠছে প্রতিদিন।

ছিন্নমূলের মানুষের সরকারের কাছে দাবি যদি তাদের জন্য কোনো থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হতো অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সাহায্য সহযোগিতা করতো তাহলে তারা এই কষ্ট থেকে বেঁচে যেতো।