মণিরামপুরে লাঞ্চিতদের বাড়ি গিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন ইউএনও

প্রকাশিত: ৮:৪৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২০

মণিরামপুরে লাঞ্চিতদের বাড়ি গিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন ইউএনও

যশোরের মণিরামপুরে করোনার ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে অভিযানকালে বয়ঃজ্যেষ্ঠ চার ব্যক্তিকে অবমাননার ঘটনায় প্রত্যাহার হয়েছেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েমা হাসান। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবমানননার শিকার ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। অপরদিকে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সচেতনতামূলক অভিযানকালে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের চিনেটোলা বাজারে চার ব্যক্তিকে কানধরে ওঠবস করান সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েমা হাসান।

ওই ব্যক্তিদের মুখে মাস্ক না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেন তিনি। এ ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় শনিবার সকালে সায়েমা হাসানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয় বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী।

এর পরপরই জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ জানান, তাকে (সায়েমা হাসান) মণিরামপুর থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার নির্দেশনা আসে জেলা প্রশাসকের কাছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী ঘটনাস্থল চিনেটোলা বাজারে যান। সেখান থেকে তিনি ঘটনার শিকার চার ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন। এছাড়া তিনি খাদ্য সহায়তা করেন তাদের। এসময় তিনি জানান, ঘটনার শিকার তিনজন ভুমিহীন হওয়ায় তাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হবে।

এদিকে এ ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে মণিরামপুর উপজেলায়। সায়েমা হাসানের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের আরও অভিযোগ আছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ জানান।

মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, এ ঘটনায় খুবই নিন্দনীয়। মুরুব্বিদের এভাবে অপমান করা অন্যায়।

  •