সম্মিলিত নাট্য পরিষদের গুণীজন সম্মাননা প্রদান

সিলেট বিভাগ

নাট্যান্দোলনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে দেশ ও সমাজকে জাগ্রত করা যায় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

শনিবার সন্ধ্যায় কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের মুক্ত মঞ্চে নাট্যপরিষদ গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দেশের সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে মানুষের বিবেকবোধকে জাগ্রত করা যায়। দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের প্রচার ও প্রসারে এবং আনুষাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টিতে সরকার আন্তরিক।’

তিনি চৌহাট্টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার বাস্তবায়নে অবদান রাখা সম্মাননাপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শুভেচ্ছাও জানান। সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট আয়োজিত মহান একুশের আলোকের নাট্য পদর্শনীর ১৫তম দিনে নাট্যপরিষদ গুণীজন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এ বছর ১৯৮৮ সালে চৌহাট্টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বীর বিক্রম ইয়ামিন চৌধুরী (মনোরত্তর), বীর মুক্তিযোদ্ধা সদর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীম (মনোরত্তর), বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শওকত আলী এবং নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য হবিগঞ্জের নাট্যজন এডভোকেট সুব্রত চক্রবর্তীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই নৃত্য পরিবেশন করে ছন্দ নৃত্যালয়ের শিল্পীবৃন্দ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবজিৎ সিন্হা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আসলাম উদ্দিন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের অধ্যাপক জাকির হোসেন।

সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমেদ চৌধুরী মিশুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্তের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাট্যজন নিজামউদ্দিন লস্কর ময়না, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নাট্য পরিষদের প্রধান পরিচালক অরিন্দম দত্ত চন্দন।

সম্মাননা গ্রহণ করে অনুভূতি ব্যক্ত করেন সম্মাননাপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ। সম্মাননাপ্রাপ্তদের জীবনী পাঠ করেন ইন্দ্রানী সেন শম্পা, সুপ্রিয় দেব শান্ত, অচিন্ত কুমার দে অমিত ও ফারজানা সুমি।

‘একুশে মিছিল, একুশে হাঁটা, একুশ মানে না পথের কাঁটা’ এই স্লোগানে একুশের আলোকে ১৭ দিনব্যাপী এই নাট্য প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে সিলেটের ১৬টি নাট্যদল। দীর্ঘ সময়ের এই নাট্য প্রদর্শনীতে সিলেটের নাট্যমোদী দর্শকের উপস্থিতি ও উৎসাহ সর্ববৃহৎ নাট্যপ্রদর্শনীকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

শনিবার নাট্যোৎসবের ১৫তম দিনে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সিলেট মঞ্চস্থ করে সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ’র ‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটক। এটি নির্দেশনা দেন রতন দেব। রোববার সন্ধ্যা ৭টায় ১৬তম দিনে মঞ্চায়িত হবে দিক থিয়েটার শাবপ্রবি’র নাটক ‘এবং ইন্দ্রজিৎ’।

নাটকের প্রবেশপত্র হল কাউন্টারে বিকেল ৫টা থেকে পাওয়া যাবে। নাট্য প্রদর্শনীতে সহযোগিতা করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদ, সিলেট।

Leave a Reply