কোনো উসকানিতে পা দেবেন না : কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে ইশরাক

রাজনীতি

২৬ জানুয়ারি ২০২০, রোববার : প্রতিপক্ষের কোনো উসকানিতে পা’ না দেওয়ার জন্য কর্মী-সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) বংশালের রায়সাহেব বাজার মোড়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর আগে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি আহ্বান জানান।

কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে ইশরাক বলেন, ‘আগামী এক সপ্তাহ আপনাদের জন্য চূড়ান্ত পরীক্ষা। ধানের শীষের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তার ফসল ঘরে তুলতে ১ ফেব্রুয়ারি আপনার সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। কাউকে ভয় করবেন না। কোনো উসকানিতে পা দেবেন না। এ দেশটা কারও পারিবারিক সম্পত্তি নয়। এই দেশটার মালিক জনগণ। আমিও আপনাদের সাথে মাঠে থাকব। জনগণকে সাথে নিয়ে স্বৈরাচারকে বিদায় করব।

প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা দাবি করে তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রকে নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার বার বার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করেছে।’

ইশরাক বলেন, ‘জনগণের কাছে তারা বারবার হার মেনেছে। এবারও হার মানবে। সিটি নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করে জনগণ আবার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করবে।’

তিনি বলেন, ‘সামনের এই কয়েকদিন আমাদের জন চূড়ান্ত পরীক্ষা। গত ১৩ বছর ধরে আমরা যে ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করে আসছি তার ফসল ঘরে তোলার সময় এসেছে। নির্বাচন পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব, ভোটকেন্দ্র পাহারা দেব, যাতে করে ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন এবং নির্বিগ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। যেখানে বাধা আসবে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

ঢাকার উন্নয়নে তার ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এ সরকার কথায়-কথায় উন্নয়নের বুলি আওড়াচ্ছে। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে কোনো নির্দিষ্ট উন্নয়ন, নির্দিষ্ট কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজে পাইনি। অন্যদিকে আমার বাবা সাদেক হোসেন খোকা মেয়র থাকা অবস্থায় বলতেন, ‘ঢাকা শহরের জন্য ১০০ বছরের একটা পরিকল্পনা দরকার।’ আমি তার পথ ধরেই এগুতে চাই। ভবিষ্যতে দেশকে একটা উন্নত সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আর এটা বিএনপির নেতৃত্বেই সম্ভব।’

পথসভায় বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ নির্বাচন কমিশনকে আমরা অনেক অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিকার পাইনি। তবে তারা কী করল, না করল, এগুলো নিয়ে আমি এখন আর মাথা ঘামাচ্ছি না। শুধু তাদের অনুরোধ করতে চাই, সাংবিধানিকভাবে তাদের যে দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে, সেটা সুষ্ঠুভাবে পালন করে জনগণকে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেবেন।’

পথসভা শেষে রায় সাহেবের মোড় থেকে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগডাসা লেন সুইপার কলোনি, তাঁতীবাজার, কসাইটুলী হয়ে জিন্দাবাহার জামে মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করেন ইশরাক হোসেনসহ বিএনপি নেতারা। এসময় দোকানপাট ও পথচারিদের হাতে লিফলেট তুলে দেন এবং দোকানে দোকানে গিয়ে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ইশরাক হোসেন। বহুতল ভবনের ছাদে, বারান্দা ও ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে নারী-পুরুষ করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। বিভিন্ন স্থানে নারী ভোটাররা বাড়ির ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির মত ফুলের পাপড়ি ছিটান ধানের শীষের প্রার্থীসহ গণসংযোগ বহরে।

গণসংযোগে অন্যান্যের মধ্যে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এস এম জিলানী, যুবদল নেতা শরিফ হোসেনসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

এদিকে আসরের নামাজ শেষে করে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণা ও গণসংযোগ করে বংশাল (বড় মসজিদ) জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন ইশরাক। সন্ধ্যায় ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে ১৬তম দিনের প্রচারণা শেষ করেন ইশরাক হোসেন।

Leave a Reply