ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে অভূতপূর্ব গণজোয়ার দেখতে পাচ্ছি : ফখরুল

রাজনীতি

ভোটাররা ভোট দিতে পারলে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত : তাবিথ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের জন্য ভোট চাইলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মিরপুরে গণসংযোগ শুরুর প্রাক্কালে তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। জনগণকে এ মুক্তি আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে আমার নির্বাচনে এসেছি। এদিন তাবিথ আউয়াল তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আতিকুল ইসলামের উদ্দেশে বলেন, উনি ৯ মাস মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। ৯ মাসে যানজট নিরসন করতে দেখিনি, এখন তিন মাসে কী করতে পারবেন, সেটার ব্যাখ্যা উনিই দিতে পারবেন। তিন মাসের মধ্যে যানজট নিরসন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। এ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তাবিথ আউয়াল এ কথা বলেন।
গতকাল সোমবার তাবিথ আউয়ালের পক্ষে গণসংযোগে নামেন বিএনপি মহাসচিসবসহ জাতীয় নেতারা। মির্জা ফখরুলের পর গণসংযোগে যুক্ত হন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এর আগে গণসংযোগ শুরুর প্রথম দিনও মির্জা ফখরুল ইসলাম উত্তরা এলাকায় তাবিথের পক্ষে ভোট চান। গত শুক্রবার উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি গঠিত পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক সমন্বয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায়, সদস্য সচিব মো. শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, তাবিথের বাবা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুও গণসংযোগ করেছেন।
তাবিথ আউয়ালের গণসংযোগে মির্জা ফখরুলসহ জাতীয় নেতাদের আমগনকে কেন্দ্র করে মিরপুরের ৬ নম্বর বাজারের বিপরীত পাশে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ জনগণ আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন। বিএনপি মহাসচিব তাবিথ আউয়াল ও ওই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদ প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনসহ (ঘুড়ি প্রতীক) বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উত্তর-পশ্চিম পাশ হয়ে আশপাশের এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় হাজার হাজার নেতা-কর্মী ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, ধানের শীষে ভোট চাই’, ‘ভোট দিবেন কিসে, ধানের শীষে’, ‘ভোট দিবেন হাসিয়া, ধানের শীষ দেখিয়া’ ইত্যাদি সেøাগানে পুরো এলাকা মুখরিত করেও তোলেন। প্রায় এক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে প্রচার চালান মির্জা ফখরুল ইসলাম।
গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুরে বাইতুল মোশাররফ জামে মসজিদের সামনে ডিএনসিসিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে নিয়ে গণসংযোগ শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, তাবিথ আউয়ালের পক্ষে, ধানের শীষের পক্ষে যে গণজোয়ার দেখেছি তা অভূতপূর্ব। আমরা মনে করি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে অবশ্যই তাবিথ আউয়াল বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, গণতন্ত্রের মুক্তি এবং জনদুর্ভোগ থেকে ঢাকাবাসীর মুক্তির জন্য তাবিথ আউয়াল যে কর্মসূচি নিয়েছে ঢাকাবাসী সে কর্মসূচির সঙ্গে একমত হবেন এবং ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বিশ্বাস করি জনগণের উত্তাল তরঙ্গের মধ্যে যদি তাবিথ আউয়ালের ধানে শীষ বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ। এ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আরও তরান্বিত করবে। নির্বাচনের তারিখ পেছানো নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ইসি আগে থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। তারা সব সময়ই অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।
মিরপুরের ২ নম্বর সেকশনে গণসংযোগের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাবিথ আউয়াল মেয়র নির্বাচিত হলে ঢাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ আরও উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দেন। রাজধানীর যানজটের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির প্রার্থী বলেন, এখন ঢাকায় মাত্র চার কিলোমিটারে গাড়িগুলো চলে, আমরা সেটাতে আট কিলোমিটারে অতিক্রম করতে পারব এক বছরের আগেই।
নির্বাচন পরিস্থিতি কেমন দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তাবিথ আউয়াল বলেন, নিয়মিত পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। আজকে পরিস্থিতি শান্ত। নির্বাচন কমিশনকে বলব- ওনারা যেন শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখতে চেষ্টা করেন। কারণ ওনারা প্রমাণ করেছে যে, একটা নতুন তারিখ দিয়ে সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য তারিখ নির্ধারণ করা যায়। আশা করি, ওনারা আগামী নির্বাচনটাও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করবেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাবিথ আউয়াল বলেন, আমরা প্রচারে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আমাদের সাথে জনসম্পৃক্ততা বাড়ছে, আমরা দেখছি জনমত আমাদের পক্ষে রয়েছে, সাধারণ জনগণ আমাদের পক্ষে রয়েছেন। আমরা মনে করি, পরিস্থিতি ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ রকম থাকলে, ভোটাররা ভোট দিতে পারলে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।
তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতি, দুঃশাসন, ডেঙ্গু ও দূষণ থেকে যেমন মুক্তি চাই। আমরা চাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি হলে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক। তাবিথ আউয়াল মিরপুরের চেতনা মডেল একাডেমি হয়ে রূপনগর এলাকায় প্রচারণা চালান। তার সঙ্গে ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী সৈয়দা মিলি জাকারিয়া চৌধুরীও (মোবাইল ফোন প্রতীক) নারীদের নিয়ে প্রচারে অংশ নেন। জনসংযোগ মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকায় পৌঁছালে যুক্ত হন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আমিনুল ইসলাম ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী মাহফুজুর রহমান খান (ব্যাডমিন্টন প্রতীক) ও তার সমর্থকেরা। এ সময় গণসংযোগে জনতার ঢল নামে। দুপুরের দিকে তাবিথ আউয়ালের গণসংযোগে যুক্ত হন আ স ম আবদুর রব, আবদুল মঈন খান, মোয়াজ্জেম  হোসেন আলাল। তারা ১১ সেকশনে সি ব্লকের ৩ নম্বর এভিনিউতে পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
আ স ম আবদুর রব ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, সরকার এর আগেও ভোট চুরি করেছে, এখন আবার ইভিএমের মাধ্যমে ভোট চুরি করতে চাইছে। এবার ভোট চোরদের হাত কেটে দিতে হবে। আপনারা ভোট দিতে যাবেন, নিজের ভোট নিজে প্রয়োগ করবেন।
এখানে আবদুল মঈন খান বলেন, ‘বিনা ভোটে নয়, মানুষের ভোটে নির্বাচিত হতে চায় বিএনপি। আপনারা ১  ফেব্রুয়ারি ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, মৌসুমী পাখির মতো আমরা আপনাদের কাছে আসিনি। অনেক প্রার্থী আছে ভোটের সময় আসে, নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ডেঙ্গু দমন করতে পারে না, আর্বজনা সরাতে পারে না। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাক্ষ সোহরাব উদ্দিন,  যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী, যুবদল উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মিল্টন, বিএনপি নেতা এস এ সিদ্দিকী সাজু, ড. এমতাজ হোসেনসহ আরও অনেকে প্রচারে অংশ নেন। প্রচারকালে তাবিথ আউয়াল ৫ নং ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আনোয়ার হোসেনকে রেডিও মার্কা ও সংরক্ষিত আসনে মেহেরুন্নেসাকে আনারস মার্কা ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। এরপর ৭ নং ওয়ার্ডে পানির ট্যাংকি মোড়, হাজী রোড, শিয়ালবাড়ী রোড, ৬নং ওয়ার্ডে প্রশিকা শিয়ালবাড়ী মোড় থেকে শুরু হয়ে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় (রূপনগর শাখা), দুয়ারীপাড়া কাঁচাবাজার, মিরপুর শিল্পাঞ্চল প্রচার চালান তিনি। সেখান থেকে ৩ নং ওয়ার্ডে জুটপট্টি রোড, উদয়ন স্কুল রোড, ১১নং কাঁচাবাজার গণসংযোগ করে ভাসানী হোটেলের সামনে গিয়ে শেষ করেন। পরে ৫নং ওয়ার্ডের নাভানা টাওয়ার থেকে বাইশতলা, সাংবাদিক প্লট, কালশীরোড ও আধুনিক হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত গণসংযোগ করেন। এছাড়াও ২ নং ওয়ার্ডের জাগরনী ক্লাব হয়ে কলশী মসজিদ, মুসলিম বাজার, এ ব্লক, ১২ নং বিআরটিসি বাসডিপো পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচার শেষ করে ধানের শীষের প্রার্থী তাবিথ আউয়াল।
আজকের কর্মসূচি : সকাল ১০টায় গাবতলী পর্বতা সিনেমা হলের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু। বেলা ১১টায় কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে গণসংযোগ।

Leave a Reply