পাল্লা ভারীর দাপাদাপি : রওশন টানলেন ১৬, জিএম কাদের ৫৯

রাজনীতি

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের মৃত্যুর পর দলের প্রধান এবং সংসদে বিরোধী দলীয় প্রধানের পদ নিয়ে জিএম কাদের ও রওশন এরশাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছে। পরে অবশ্য সমঝোতায় আসেন দেবর-ভাবি। মাঝে রংপুরে সংসদ উপনির্বাচন ও সিটি নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান। এবার নানা জনকে জাপার পদ দেওয়ার দাপাদাপিতে যুক্ত হয়েছেন তারা।

জাতীয় পার্টির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের একাধিক সূত্র জানায়, জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে এখনো মানতে পারছেন না পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক এরশাদপত্নী রওশন। তিনি দলে তার সমর্থনের পাল্লা ভারী করতে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দলের প্যাডে এক চিঠিতে ১৬ জনকে পদায়ন করেছেন। জিএম কাদেরও তার ভাবির দেখানো পথে হেঁটে ৫৯ জনকে পদায়ন করলেন।

জি এম কাদের পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে আরও ৮ উপদেষ্টা, ৩৭ ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৪ যুগ্ম মহাসচিবের নাম ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায়ের স্বাক্ষর করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রওশন তার ক্ষমতাবলে ১৬ জনকে দলের বিভিন্ন পদ দিয়েছেন। তার ছেলে রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদও রয়েছেন এর মধ্যে। পার্টির প্যাডে তার স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে এসব পদায়ন করা হয়। চিঠিতে রওশন বলেন, ‘এ মনোনয়ন ও সাংগঠনিক নির্দেশনা অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, এইচএম এরশাদ পার্টিকে একাই আগলে রেখেছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর তার ভাই ও স্ত্রীর মধ্যে নেতৃত্বের যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে, তা পার্টির জন্য অশনি সংকেত। আমরা কেউই এমনটা চাই না। স্পষ্টভাবেই বুঝতে পারছি, দলে নিজেদের সমর্থনের পাল্লা ভারী করতেই ইচ্ছে মতো পদায়ন করা হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী, জিএম কাদের যে কাউকে পদায়ন করতে পারেন। তবে মানুষ এত বোকা নয় যে, এ সময়ে পদায়নের কারণ বুঝতে পারবে না। এসব বন্ধ হওয়া উচিত।

শুক্রবার ঘোষণা করা আটজনসহ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদে সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ২৯ জন। আগেই ৯ উপদেষ্টার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ২০ উপদেষ্টার মধ্যে রয়েছেন— একেএম মোস্তাফিজুর রহমান (কুড়িগ্রাম), অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান এমপি (কুমিল্লা), অ্যাডভোকেট হাসান সিরাজ সুজা (মাগুরা), মো. সেলিম উদ্দিন (সিলেট), মি. সোমনাথ দে (বাগেরহাট), মো. নোমান (লক্ষ্মীপুর), এম এম নিয়াজ উদ্দিন (গাজীপুর), এম এ কুদ্দুস খান (ঝালকাঠি), আশরাফ উদ দৌলা (কুড়িগ্রাম), মাহমুদুর রহমান মাহমুদ (লক্ষ্মীপুর), অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা (বি. বাড়িয়া), মো. লুৎফর রহমান চৌধুরী (গাইবান্ধা), এম এ তালহা (নাটোর), দেলোয়ার হোসেন (দিনাজপুর), মো. নুরুল ইসলাম মিলন (কুমিল্লা), অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন (সিলেট), অ্যাডভোকেট একরামুল হক (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), সরদার শাহজাহান (পাবনা), মো. আতাউর রহমান সরকার (গাইবান্ধা) এবং মো. জহিরুল আলম রুবেল (ঢাকা)। জাতীয় পার্টির পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের সময় উপদেষ্টাদের দায়িত্ব বণ্টন এবং নামের ক্রমানুসার নির্ধারণ করা হবে।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ৪১ ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের ৩৭ জনের নাম ঘোষণা করেছেন। তারা হলেন— মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম (চট্টগ্রাম), মাহ্জাবিন মোরশেদ (চট্টগ্রাম), শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ (বগুড়া), সালাউদ্দিন আহমেদ (নোয়াখালী), অ্যাড. শামসুল আলম মাস্টার (চট্টগ্রাম), হাজি আবু বকর (ঢাকা), মো. আরিফুর রহমান খান (গাজীপুর), দেওয়ান আলী (ঢাকা), বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল (ঢাকা), অধ্যাপক মহসিন ইসলাম হাবুল (বরিশাল), আমানত হোসেন আমানত (ঢাকা), নজরুল ইসলাম (চট্টগ্রাম), মেজর (অব.) মো. আব্দুস সালাম (কুড়িগ্রাম), ডা. রুস্তম আলী ফরাজী (পিরোজপুর), নিগার সুলতানা রাণী (রংপুর), মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক (ঢাকা), আলহাজ্ব দিদারুল কবির দিদার (চট্ট্রগ্রাম), শফিকুল ইসলাম শফিক (নরসিংদী), আহসান আদেলুর রহমান (নীলফামারী), গাফ্ফার বিশ্বাস (খুলনা), সিরাজুল ইসলাম (লক্ষ্মীপুর), মোস্তফা আল মাহমুদ (জামালপুর), আব্দুর রউফ মানিক (রংপুর), শফিকুল ইসলাম মধু (খুলনা), শেখ আলমগীর হোসেন (গোপালগঞ্জ), নুরুল ইসলাম ওমর (বগুড়া), সুলতান আহমেদ সেলিম (ঢাকা), মোবারক হোসেন আজাদ (নোয়াখালী), রাকিবা নাসরিন (রংপুর), আবুল মাকসুদ চৌধুরী নান্টু (রংপুর), মিসেস সালমা হোসেন (ঢাকা), আশরাফ সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল), অ্যাড. তোফাজ্জল হোসেন (নওগাঁ), শফিউল্লাহ শফি (চাঁদপুর), শাহ-ই আজম (নরসিংদী), পনির উদ্দিন আহমেদ (কুড়িগ্রাম) এবং মৌলভী মো. ইলিয়াস (কক্সবাজার)।

পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ১৬ যুগ্ম মহাসচিবের মধ্যে ১৪ জনের নাম ঘোষণা করেছেন। তারা হলেন— গোলাম মোহাম্মদ রাজু (মুন্সিগঞ্জ), ইয়াহ হিয়া চৌধুরী (সিলেট), নুরুল ইসলাম দীপু (গাজীপুর), ৪. মো. নোমান মিয়া (মুন্সিগঞ্জ), এস এম ইয়াসির (রংপুর), আমিনুল ইসলাম ঝন্টু (সিরাজগঞ্জ), আমির উদ্দিন আহমেদ ঢালু (ঢাকা), অ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু (ঢাকা), রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ (রংপুর), মো. শামসুল হক (ঢাকা), আব্দুল হামিদ ভাসানী (বি. বাড়িয়া), এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু (হবিগঞ্জ), মো. আমির হোসেন (কুমিল্লা) এবং ইকবাল হোসেন তাপস (বরিশাল)।

দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বিভিন্ন পদে রওশন যাদের মনোনয়ন দিয়েছেন— কো-চেয়ারম্যান পদে রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ ও এম এ সাত্তার; প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, অধ্যাপক মো. ইকবাল হোসেন রাজু, নূরে হাসনা লিলি চৌধুরী, অধ্যাপিকা রওশন আরা মান্নান, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, কাজী মামুনুর রশীদ, মাহজাবিন মুর্শেদ, নুরুল ইসলাম ওমর, আরিফুর রহমান খান; ভাইস চেয়ারম্যান পদে আমানত হোসেন আমানত ও সাবেক এমপি ইয়াহিয়া; যুগ্ম মহাসচিব পদে মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া ও রেজাউল করিম।

Leave a Reply