সিলেটে আজহারীর মাহফিলের অনুমতি দেয়নি জেলা প্রশাসন

সিলেট বিভাগ

বর্তমান সময়ের আলোচিত মুফাসসির ও ইসলামী স্কলার মাওলানা মিজানুর রহমান আল-আজহারীর মাহফিলের অনুমতি দেয়নি সিলেট জেলা প্রশাসন। তার কিছু বক্তব্য নিয়ে ‘বিতর্ক’ সৃষ্টির কারণে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ কারণে আগামী ২০ জানুয়ারি সিলেটের কানাইঘাট ও জৈন্তাপুরে পূর্ব নির্ধারিত তাফসির মাহফিলে তার আগমন অনিশ্চিত।

আগামী ২০ জানুয়ারি কানাইঘাট উপজেলার মুকিগঞ্জ বাজার জামেয়া মাঠ ও জৈন্তাপুরের হাজারী সেনগ্রাম মাঠে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল আজহারীর। কিন্তু এ দুই উপজেলার ক্বওমী মাদ্রাসার অনুসারীরা শুরু থেকেই এর বিরোধীতা করে আসছিলেন। এমনকি তার আগমন ঠেকাতে লংমার্চের ঘোষণাও দিয়েছিলেন তারা। এ কারণে তাফসিরের পক্ষে-বিপক্ষের অনুসারীদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনাও দেখা দেয়।

এর প্রেক্ষিতে দুই পক্ষের উত্তেজনা নিরসনে বুধবার বিকেল ৩ টায় সিলেট জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম সিলেটের আলেম সমাজ, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে জেলা প্রশাসক কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বক্তব্যে শুনেন।

এরপর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা আর যেহেতু কিছু মানুষ তাকে বিতর্কিত মনে করে সেজন্য তাকে আসার অনুমতি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে তাকে এড়িয়ে অন্যান্য বক্তা এনে মাহফিল করাতে পারবেন বলেও বৈঠকে জানানো হয়।

এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, দারুল উলুম কানাইঘাট মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আলীম উদ্দিন দুর্লভপুরি, হরিপুর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হিলাল আহমদ, হেমু দারুল উলুম মাদ্রাশার মুহতামিম মাওলানা জিল্লুর রহমান, দরবস্ত আল মনসুর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবু হানিফ, জৈন্তাপুর লামনিগ্রাম মাদ্রাসার মুহতামিম আব্দুল জব্বার, হরিপুর মাদ্রাসার শায়খুল হাদিছ মাওলানা নজরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলা উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজ আহমদ বাবর, উপদপ্তর সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ, কানাইঘাট উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সাকের, কানাইঘাট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

Leave a Reply