শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় দেশজুড়ে বিজয় দিবস উদযাপিত

সারাদেশ

৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লাখো প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে বিজয় ছিনিয়ে আনে বাংলাদেশ। পাক হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রতিবারের মতো গভীর শ্রদ্ধায় এবারও দেশজুড়ে পালিত হয়েছে ৪৮তম মহান বিজয় দিবস। দৈনিক অধিকারের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এ নিয়ে ডেস্ক রিপোর্ট।

ফরিদপুর:

বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারা দেশের মতো ফরিদপুরে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১টি তোপধ্বনি ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির সূচনা হয়।

পরে সকাল ৮টার দিকে গোয়ালচামট পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে স্থাপিত মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এ সময় এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা ও শহর আওয়ামী লীগ, শহর ও কোতোয়ালি থানা বিএনপিসহ পর্যায়ক্রমে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

এরপর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্মৃতিস্তম্ভ থেকে একটি বিজয় র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের শেখ জামাল স্টেডিয়ামে গিয়ে গণকবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। সবশেষে সকাল ৯টার দিকে স্টেডিয়াম মাঠে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

চাঁদপুর:

বিজয়ের ৪৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশের অন্যান্য জেলার মতো চাঁদপুরেও বর্ণাঢ্য নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে।

সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চাঁদপুর শহরে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ‘অঙ্গীকার’-এর পাদদেশে ৩১টি তোপধ্বনি ও পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে এই দিবসের কর্মসূচির শুভ সূচনা করে জেলা প্রশাসন। এরপর একে একে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

সিলেটঃ মহান বিজয় দিবসে শহীদ মিনারে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এতে সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক কামরুল হুদা জাগিরদার, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এডভোকেট হাবিবুর রহমান, জেলা আহবায়ক সদস্য সাবেক সাধারন সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা আহবায়ক সদস্য শামীম আহমদ, আবুল কাশেম, মাহবুবুল হক চৌধুরী সহ যুবদল, ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সিলেটে বিজয় দিবসে অন্যরকম পুরস্কার

নয়নাভিরাম সৌন্দর্য নিয়ে প্রতিনিয়ত পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে সিলেট। এই জেলার ব্র্যান্ডিংয়ের প্রচারণায় ‘প্রকৃতি কন্যা সিলেট’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে। সিলেট মহান বিজয় দিবস উদযাপনের ক্ষেত্রেও এই প্রচারণা অব্যাহত ছিল ভিন্ন আঙ্গিকে ।

সোমবার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের কুচকাওয়াজে প্রতিযোগীদের পুরস্কার এবং অতিথিদের সম্মাননা জানানো হয়েছে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার ছবি দিয়ে। প্রতিযোগীদের পুরস্কার এবং সম্মাননা স্মারক হিসেবে প্রথম আলো সিলেট কার্যালয়ের আলোকচিত্রী আনিস মাহমুদের তোলা ছবিগুলো বাঁধাই করে দেওয়া হয়েছে।

সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবারই প্রথমবারের মতো সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো সম্পর্কে প্রচারণার পাশাপাশি সকল মহলে পরিচিতি গড়ে তুলতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লেতে অংশ নেওয়া বিজয়ী প্রতিযোগীদের এবং অতিথিদের ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।

তবে এবার ক্রেস্টের বদলে পর্যটন কেন্দ্র এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর দৃষ্টিনন্দন ছবি বাঁধাই করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার সিলেট জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে দুটি গ্রুপে ৩৫টি দল অংশ নেয় এবং ডিসপ্লেটে অংশ নেয় ছয়টি দল।

অনুষ্ঠানে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ষাটটি বাঁধাই করা ছবি পুরস্কার এবং সম্মাননা হিসেবে প্রদান করা হয়। ছবিগুলোর মধ্যে স্থান পেয়েছে, সোয়াম্প ফরেস্ট খ্যাত সিলেটের রাতারগুল, বিছনাকান্দি, জাফলং, লালাখাল, জৈন্তাপুর ডিবির হাওর, কিনব্রিজ, সুরমা নদী ইত্যাদি।

প্রতিযোগী এবং অতিথিরা জেলা প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ সাদরে গ্রহণ করেছেন ও সম্মাননা হিসেবে দৃষ্টিনন্দন ছবিগুলো পেয়ে উচ্ছ্বসিত সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদ মিয়া বলেন, ‘সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো অত্যন্ত সমৃদ্ধ। জেলার ব্র্যান্ডিংয়ে সিলেটকে প্রকৃতি কন্যা হিসেবে প্রচারণা চলানো হচ্ছে। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে সিলেটের সমৃদ্ধ পর্যটন কেন্দ্রগুলো তুলে ধরতে ও পরিচিতি গড়তে জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে। পুরস্কার হিসেবে এমন কিছু পেয়ে প্রতিযোগীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে।’

এ ধরণের অভিনব উদ্যোগ নেওয়ায় জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনিস মাহমুদ জানান, আমাদের যার যার অবস্থান ভিন্নভাবে সিলেটের ব্রান্ডিংয়ে প্রচারণা চালানো যেতে পরে। ছবির মাধ্যমে সিলেট বিশ্বের সবখানে পরিচিত হতে পারে। মহান বিজয় দিবসের মাহেন্দ্রক্ষণে পুরস্কার হিসেবে আমার ছবিগুলো বেছে নেয়ায় আমি সম্মানিত বোধ করছি।

লক্ষ্মীপুর : দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুরে ৪৮তম মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ দিন সকালে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সাংসদ এ কে এম শাহজাহান কামাল এবং জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পালের নেতৃত্বে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জেলা প্রশাসন।

এরপর জেলা পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু ও সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

খাগড়াছড়ি : জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার স্মৃতিফলকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং শহীদদের সম্মানে ১ মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগ। পরে শহীদের বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

এ দিন সকাল ৯টার দিকে নারিকেল বাগানস্থ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে র‌্যালিটি টাউনস্থ বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় ৪ নেতার স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এক সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বান্দরবান : বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনে সারা দেশের সঙ্গে একযোগে বান্দরবানে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণসহ জেলা স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বান্দরবানে বিজয় দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন হয়।

জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্থানীয় সংস্কৃতি কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ এ দিন ভোরে বান্দরবান ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন শহীদ মিনারে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। এছাড়া কুচকাওয়াজে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপিসহ জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।

জামালপুর : সারা দেশের ন্যায় জামালপুরের মেলান্দহে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ দিন সকালে উমির উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনাসহ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামিম আল ইয়ামিন, মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ এস এম আব্দুল মান্নান, ওসি রেজাউল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ দিন শহীদদের স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

বরিশাল : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলা পুলিশ লাইন্সে ৩১টি তোপধ্বনি ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে বরিশালে মহান বিজয় দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। এর পরপরই জেলা প্রশাসক কার্যালয় সংলগ্ন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা।

এভাবে পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রের পক্ষে বিভাগীয় কমিশনার, পৃথকভাবে রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বাসদসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদের স্মৃতিস্তম্ভে এ দিন পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

ঝালকাঠি : সারা দেশের মতো ঝালকাঠিতেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস।

এ উপলক্ষে সোমবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি শহীদদের স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী। এ সময় পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সরদার মো. শাহ আলমসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা উড়িয়ে দিবসটির কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

হবিগঞ্জ : দেশের অন্যান্য জেলার মতো হবিগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১টি তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে এই দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়।

এরপর ‘দুর্জয়’ ভাস্কর্যে হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আবু জাহির, জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, পুলিশ প্রশাসনের মোহাম্মদ উল্ল্যাসহ মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এছাড়া হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব, হবিগঞ্জ টিভি জার্নলিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ দিন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বগুড়া : বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনে সারা দেশের মতো বগুড়াতেও মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। এ দিন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদানসহ তাদের স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

কুচকাওয়াজের পাশাপাশি দিবসটি পালন উপলক্ষে শিশুদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে শহীদদের আত্মার মাগফেরাতসহ দেশ ও জাতির অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে এ দিন জেলার মসজিদ-মন্দিরসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

রংপুর : সারা দেশের মতো রংপুরেও বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। বিজয়ের প্রথম প্রহরে ১২টা ১ মিনিটে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এরপর মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় শুরু হয়।

এ দিন পর্যায়ক্রমে শহীদদের ফুলেল শ্রদ্ধা জানায়- রংপুর সিটি করপোরেশন, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও দলটির অঙ্গ সংগঠন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের এ দিন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

দিবসটি উপলক্ষে রংপুর স্টেডিয়ামে সকালে এক কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। রংপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কুচকাওয়াজে সশস্ত্র সালাম গ্রহণ করেন বিভাগীয় কমিশনার কে এম তারিকুল ইসলাম। এ সময় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply