সদর দক্ষিণ নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি দলকে সিটি মেয়রের আশ্বাস

সিলেট বিভাগ

সুরমা নদীর দক্ষিণ পাড়ে থাকা
৩ সিটি ওয়ার্ডের উন্নয়নে সাড়ে ৩শ’
কোটি টাকার প্রকল্প কাজ চলছে
: সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী
সিলেট সিটি কর্পোরেশন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘সুরমা নদীর দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত সিটি কর্পোরেশনের ৩টি ওয়ার্ডসহ সংলগ্ন এলাকার উন্নয়নে সাড়ে ৩শ’ কোটি টাকার প্রকল্প কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই ১শ’ কোটি টাকারও বেশী অর্থের প্রকল্প কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং অসমাপ্ত কাজ চলছে।’ এ সব প্রকল্প কাজ বাস্তবায়নে তিনি সদর দক্ষিণ নাগরিক কমিটি, সিলেট’র সর্বস্তরের নেতা-কর্মীসহ গোটা দক্ষিণ সুরমাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
সিলেটের সদর দক্ষিণ এলাকার ন্যায়সংগত দাবি আদায় ও সুষম উন্নয়ন তরান্বিত করার লক্ষ্যে গঠিত অরাজনৈতিক সংগঠন ‘সদর দক্ষিণ নাগরিক কমিটি, সিলেট’র কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব শেখ মোঃ মকন মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজম খানের নেতৃত্বে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল গত বুধবার রাতে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে ২৫, ২৬ ও ২৭নং সিটি ওয়ার্ডের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে স্মারকলিপি দিতে গেলে, তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।
সিটি মেয়র বলেন, স্টেশন রোড ও বঙ্গবীর রোড তথা দক্ষিণ সুরমাবাসীর বড় সমস্যা রেলগেইটের যানজট নিরসনে তথায় একটি রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে প্রকল্প প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আশা করি শিগগিরই প্রকল্পের অফিসিয়াল কাজ শেষে টেন্ডার আহবান করা হবে। তিনি কাজিরবাজার ব্রিজের মুখে রেলগেইট প্রান্তে যানজট নিরসনে তথায় একটি গোল চত্বর নির্মাণ, রেলগেইট থেকে চন্ডিপুল এবং রেলগেইট থেকে কিনব্রিজের দক্ষিণ প্রান্ত ও পূর্বদিকে নছিবাখাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত সরকারি সড়ক প্রশ্বস্তকরণ এবং প্রতিটি সড়কে রোড ডিভাইডার স্থাপন করা হবে বলে প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রায় শতাব্দী প্রাচীন কিনব্রিজ যদি মেরামত করা সম্ভব না হয়, তবে ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে বর্তমান কিনব্রিজের অবস্থান ঠিক রেখে সম্ভব হলে তার পাশে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণ অথবা সুরমা নদীর নীচ দিয়ে একটি টানেল সড়ক নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ সাপেক্ষে খুব শিগগির-ই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি উপরোক্ত ৩টি ওয়ার্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজতর করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের আশ্বাস দেন এবং খুব শিগগিরই ফরেন পোস্ট অফিসের সামনের প্রান্ত থেকে কায়েস্তরাইল-মুছারগাঁও হয়ে বাইপাস সড়ক পর্যন্ত রোডকে লিংক রোডে রূপান্তরিত করা হবে বলে জানান। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, ৩টি ওয়ার্ডের পানি নিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে অনেকগুলো প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে এবং সে সবের কাজ অব্যাহত আছে।
সিটি মেয়র বলেন, ভার্থখলা জামে মসজিদ সংলগ্ন কিনব্রিজের নীচে থাকা সুইপার কলোনি শহরের কোন প্রান্তে সুবিধাজনক স্থানে সরিয়ে নেয়া হবে এবং পর পরই জমির শাহ (রহঃ) মাজারের প্রান্ত থেকে মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের মকন দোকান পর্যন্ত সুরমা নদীর দক্ষিণ পাড়কে সুসজ্জিত করা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, অপরাধ নির্মূলে দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন স্থানে গোপন সিসিটিভি স্থাপনের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। আশা করি খুব শিগগিরই আপনারা এর সুফল পাবেন। তিনি বলেন, ৩টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটিতে আলাদা আলাদাভাবে অনেকগুলো প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, এরমধ্যে অনেকগুলোর কাজ চলছে। বাকি প্রকল্পের কাজ শিগগিরই শুরু হবে, ইনশাল্লাহ। আর এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গোটা দক্ষিণ সুরমার চেহারা পাল্টে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সদর দক্ষিণ নাগরিক কমিটি, সিলেট’র কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ গোলাম হাফিজ লোহিত, আলহাজ্ব হাবিব হোসেন চেয়ারম্যান, সাংবাদিক চঞ্চল মাহমুদ ফুলর, সহ-সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাদী ছয়ফুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক তালুকদার, আলহাজ্ব মোঃ ফরিদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আব্দুর রহিম, জাহাঙ্গীর খান, শেখ মোঃ লায়েক মিয়া, অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ আব্দুস ছত্তার, প্রচার সম্পাদক মোঃ দিলওয়ার হোসেন রানা, দপ্তর সম্পাদক ছয়েফ খান, সহ-সম্পাদক সাংবাদিক সাহাদ উদ্দিন দুলাল, নির্বাহী সদস্য শাব্বির আহমদ ফয়েজ, ইখতিয়ার উদ্দিন সোহেল প্রমুখ।-বিজ্ঞপ্তি

Leave a Reply