জ্বলছে আসাম শিলংয়ে কারফিউ

প্রকাশিত: ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯

জ্বলছে আসাম শিলংয়ে কারফিউ

কারফিউ, সেনা-আধাসেনার টহলদারি, প্রধানমন্ত্রীর টুইট আর্জি সব উপো করে বৃহস্পতিবারও ভারতীয় রাজ্য আসামের বিভিন্ন প্রান্তে নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে হাজার হাজার মানুষ। দোকান, গাড়ি, বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন লাগাল জনতা। গত দুই দিনের উত্তেজনায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মৃত্যু হলো পাঁচজনের। এছাড়া ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে কারফিউ জারি হয়েছে সিলেটের পার্শ¦বর্তী শহর মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়েও। এ কারণে শুক্রবার সকাল থেকে বাংলাদেশ থেকে কোনো পর্যটককে ভারতের মেঘালয়ের রাজ্যের ডাউকি সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। হামলা হয়েছে মন্ত্রীর বাসায়। বাংলাদেশের হাইকমিশন কর্মকর্তার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (ক্যাব) নিয়ে দেশটির বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছিল, বিশেষত উত্তর-পূর্ব ভারত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠে। মৃত্যুও হয়েছে অনেকের। সরকারি সূত্রে অবশ্য তিনজনের মৃত্যুর কথা জানিয়ে বলা হয়, তিনসুকিয়ায় আগুনে পুড়ে মারা গেছেন নারায়ণ নামে এক প্রৌঢ়। আদতে বিহারের বাসিন্দা নারায়ণ হিজুগুড়ি এলাকায় বাঙালি মালিকানাধীন একটি হোটেলে কাজ করতেন। বিােভকারীরা হোটেলে আগুন লাগানোয় তার মৃত্যু হয়। গৌহাটির লাচিতনগরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দীপাঞ্জল দাস নামে সেনা ক্যান্টিনের কর্মী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গৌহাটিরই হাতিগাঁও শঙ্কর পথে পুলিশের গুলিতে একজন মারা গেছেন। তার নাম জানা যায়নি। যদিও বেসরকারি সূত্রের দাবি, শঙ্কর পথে মৃতের সংখ্যা দুই। বশিষ্ট নতুন বাজার এলাকাতেও পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন।
নাগরিকত্ব বিল (সিএবি) পাসের পরে অসমিয়াদের রোষের মুখে এক দিকে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বাঙালিরা, অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীরা। ডিব্রুগড়ে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং কেন্দ্রীয় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণমন্ত্রী রামেশ্বর তেলির বাড়িতে হামলার চেষ্টা হলে পুলিশের লাঠি ও গুলিতে বেশ কয়েকজন বিােভকারী জখম হন। দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মুখ্যমন্ত্রীর নিজের এলাকা ছাবুয়ার বিধায়ক বিনোদ হাজরিকার বাড়িতে আগুন লাগানো হয়। আক্রান্ত হয় মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা শান্তনু ভরালি, বিজেপির মন্ত্রী রঞ্জিত দত্ত, বিধায়ক আঙুরলতা ডেকার বাড়িও। সকালে অসম গণপরিষদের গুয়াহাটির আমবাড়ি সদর দফতরে ভাঙচুর হয়।
মারমুখী জনতাকে ঠেকাতে পুলিশ বহু জায়গায় লাঠি চালায় ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। গৌহাটিসহ বেশ কিছু জায়গায় গুলিও চালায় তারা। লালুংগাঁওয়ে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন জখম হন। তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। রবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস চলে আদাবড়ি, হেঙেরাবাড়ি, উজানবাজার, গুয়াহাটি কাব, চাঁদমারি, গণেশগুড়ি, চচলসহ বিভিন্ন স্থানে। চাঁদমারিতে রেলপথে আগুন জ্বালানো হয়। পাথর ছোড়া হয় ডিজিপি ভাস্করজ্যোতি মহন্তের গাড়ি ল্য করে। ডিব্রুগড়ের চাবুয়ায় সার্কল অফিস, পোস্ট অফিস, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, জেলা পরিষদ কার্যালয় পোড়ানো হয়। যোরহাটে গ্রেফতার হন কৃষকমুক্তি সংগ্রাম সমিতির নেতা অখিল গগৈ।
পরিস্থিতি সামলাতে এ দিন ইউনিফায়েড কম্যান্ডের বৈঠক বসে। গৌহাটির পুলিশ কমিশনার দীপক কুমারকে সরিয়ে মুন্নাপ্রসাদ গুপ্তকে নতুন কমিশনার করা হয়েছে। এডিজিপির (আইনশৃঙ্খলা) দায়িত্ব থেকে মুকেশ আগরওয়ালকে সরিয়ে তার জায়গায় এনআইএ-র আইজি জিপি সিংহকে আনা হয়েছে। তার পরেও অবশ্য রাত পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তপ্তই। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সেনাবাহিনীর হাতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব তুলে দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
রাজ্যবাসীর উদ্বেগ দূর করতে বৃহস্পতিবার সকালে অসমিয়া ভাষায় টুইট করে অসম চুক্তির ষষ্ঠ ধারার রূপায়ণ ও অসমিয়াদের স্বার্থরার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হিংস্র আন্দোলন ঠিক নয়। নেতাদের একাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন।’
কিন্তু কোনো আবেদনেই কান দেয়নি মারমুখী জনতা। কারফিউ-ব্যারিকেড উড়িয়ে, লাঠি-কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট অগ্রাহ্য করে লতাশিলের মাঠে আসুর ডাকা সভায় হাজির হন অসংখ্য মানুষ। আসুর উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা বাঙালি বা মুসলমানের বিরোধী নই। শুধুমাত্র অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে এই লড়াই।’ আগামিকাল চাঁদমারিতে ফের গণসমাবেশ ও ১০ ঘণ্টা অনশনের ডাক দেয়া হয়েছে।
গৌহাটির পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় এবং শিলংয়ের বিভিন্ন বাঙালি এলাকায় ভাঙচুরের ফলে বৃহস্পতিবার শিলং শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে। জারি হয়েছে নৈশ কারফিউ। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে এবার উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ : ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (ক্যাব) নিয়ে দেশটির বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছিল, বিশেষত উত্তর-পূর্ব ভারত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠে। মৃত্যুও হয়েছে অনেকের। এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে তেমন কোনো অশান্তি না থাকলেও শুক্রবার থেকে সেই পরিস্থিতিই বদলে গেল। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় রেল অবরোধ-ভাঙচুর শুরু করেছে। আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠার। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যবাসীর কাছে শান্তির আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুক্রবার সকাল থেকে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ দেখানো হয় ক্যাবের বিরুদ্ধে। ফলে কলকাতার বিস্তীর্ণ অংশ যানজটে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তবে সমস্যা অনেক বেশি তৈরি হয়েছে, উলুবেড়িয়া, খড়দহ, ডায়মন্ড হারবার এবং মুর্শিদাবাদে। সেখানে রেল অবরোধ, স্টেশনে ভাঙচুর হয়েছে বলেও খবর মিলেছে। উলুবেড়িয়াতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। সমস্ত স্টেশন খালি করে দেয়া হয়েছে। যাত্রীদের ট্রেন থেকে নামিয়ে সড়কপথে বাড়ি পাঠানো হচ্ছে।
শুক্রবার দুপুর থেকে নিমদিঘির নরেন্দ্র মোড় এলাকায় বিােভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়রা। ৬ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেন তারা। পোড়ানো হয় কুশপুতুল। বাগনানেও তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। লাইব্রেরি মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করে বিােভ দেখান অনেকেই। ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘণ ধরে চলে অবরোধ।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গাতেও আরপিএফ কর্মীদের মারধর করা, কেবিনম্যানকে পেটানো থেকে আগুনও লাগানো হয় স্টেশনে। ডায়মন্ড হারবার শাখার বাসুলডাঙাতেও এবং বারুইপুর-ডায়মন্ড হারবার শাখায় রেল অবরোধ করেন ক্যাব বিরোধীরা।
এর আগে ২০ ডিসেম্বর এনআরসি এবং ক্যাব নিয়ে তৃণমূল ভবনে বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দিঘায় চলতি শিল্প সম্মলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, শুরু থেকেই ক্যাব, এনআরসির বিরোধিতা করছে তৃণমূল সরকার, আগামী দিনেও তা করবে। এদিন ফের একবার কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা স্পষ্ট জানিয়েদেন, এই রাজ্যে এনআরসি করতে তিনি এবং তার দল দেবেন না। রাজ্যের মানুষকে মমতা বলেন, ভয়ের কোনো কারণ নেই, যেমন শান্তিতে আছেন তেমনই থাকবেন।
কিন্তু তারই মাঝে রাজ্যজুড়ে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে, যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও। তবে, আইজি আইনশৃঙ্খলা জ্ঞানবন্ত সিং জানিয়েছেন, উলুবেড়িয়া স্টেশনে কোরো আরপিএফ ছিল না। সেই সময় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রেল সাহায্য চাওয়ার পর সেখানে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। তার দাবি, রাজ্যে তেমন বড় কিছু একটি ঘটেনি। বেলডাঙা থানায় পাথর ছোঁড়ার একটা ঘটেছে। সূত্র : এই সময়
শিলংয়ে কারফিউ : ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে কারফিউ জারি হয়েছে সিলেটের পাশ্ববর্তী শহর মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়েও। এ কারণে শুক্রবার সকাল থেকে বাংলাদেশ থেকে কোনো পর্যটককে ভারতের মেঘালয়ের রাজ্যের ডাউকি সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
দুপুরে কয়েকজন পর্যটক জানিয়েছেন- সকালে তারা বাংলাদেশ থেকে মেঘালয়ের ডাউকী ইমিগ্রেশনে যান। কিন্তু ওখান থেকে তাদের ফের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের তামাবিল পুলিশ চেকপোস্টের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন- দুপুরে ভারতের ডাউকীর এক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা এসে পর্যটক না ছাড়তে অনুরোধ করে গেছেন। কারণ হিসেবে ওই কর্মকর্তা জানিয়ে গেছেন- শিলংয়ে কারফিউ চলছে। এ কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই সিদ্বান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আনিসুর রহমান জানান, ‘শিলংয়ে কারফিউ থাকায় পর্যটকদের যেতে দিচ্ছে না ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। তাদের অনুরোধের প্রেেিত আমরাও পর্যটকদের তামাবিল দিয়ে ভারতে যেতে দিচ্ছি না। তবে- সিলেটের আসাম লাগোয়া শ্যাওলা ও জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে পর্যটকদের যাওয়া-আসা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।’
গুয়াহাটিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের গাড়িবহরে হামলা
ভারতের পার্লামেন্টে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন পাশের বিরুদ্ধে আসাম রাজ্যে চলমান সহিংসতা এবং কারফিউর পটভূমিতে গুয়াহাটিতে বাংলাদেশ হাই-কমিশনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে গুয়াহাটিতে বৃহস্পতিবারের মিছিল এবং বিক্ষুব্ধ লোকজনের মধ্য থেকে কিছু লোক মিশনের দুটো সাইনপোস্ট ভাঙচুর করে যা চ্যান্সেরি প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ত্রিশ গজ দূরত্বে অবস্থিত।
মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানতে পেরেছে যে, বুধবার ভারতে বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনারকে বহনকারী গাড়ি বিমানবন্দর থেকে শহরে আসার সময় নিরাপত্তা-বহরে হামলা চালায় নাগরিকত্ব বিলের বিরোধী উত্তেজিত জনতা।
এসব ঘটনার প্রোপটে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার মিজ রিভা গাঙ্গুলিকে ডেকে বাংলাদেশের হাইকমিশন কর্মকর্তার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় এবং হাইকমিশন প্রাঙ্গণে সাইনপোস্ট ভাঙচুরের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তিনি বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তা-কর্মীদের এবং জিনিসপত্রের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিতের অনুরোধ করেন।
গাঙ্গুলি নিশ্চয়তা দেন যে, ঘটনার পরপরই গুয়াহাটিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের চ্যান্সেরি এবং বাসভবনে এলাকার নিরাপত্তা জোরদারের জন্য এই ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপকে অবিলম্বে সতর্ক করা হয়েছে।
ভারতের সংসদের উচ্চ ক রাজ্য সভায় বৃহস্পতিবার নাগরিকত্ব সংশোধন আইনটি পাস হওয়ার পর থেকেই আসামের বিভিন্ন জায়গায় সহিংস বিােভ শুরু হয়।
রাতভর বিােভের পর রাজ্যটিতে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু লোক।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ভারতের যথাযথ কর্তৃপ সহকারী হাই কমিশন এলাকা, কমিশনের কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তায় এরই মধ্যে ব্যবস্থা জোরদার করার পদপে নিয়েছে। গাড়বহরে হামলার ঘটনাকে বাংলাদেশের প থেকে দেখা হচ্ছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে। এবং বাংলাদেশ ও ভারত দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাকি সম্পর্কে এর কোন প্রভাব পড়বে না বলে বাংলাদেশ মনে করে।
এদিকে সংসদে সিটিজেন শিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল বা সিএবি নামে পরিচিত এই বিতর্কিত বিলটির বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসসহ ভারতের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল।
ভারতের বিভিন্ন মুসলিম দলের নেতারাও বিলটিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

আসামে যারা এই বিলের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তাদের বক্তব্য, এই বিলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ থেকে আসামে আরও বেশি সংখ্যক বাঙালি হিন্দুর আসার পথ খুলে দেয়া হয়েছে। আসামে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অহমীয়া জনগোষ্ঠীর সাথে বাংলাভাষী জনগণের বিরোধ চলছে।
আসামে যারা এই বিলের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তাদের বক্তব্য, এই বিলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ থেকে আসামে আরও বেশি সংখ্যক বাঙালি হিন্দুর আসার পথ খুলে দেয়া হয়েছে। আসামে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অহমীয়া জনগোষ্ঠীর সাথে বাংলাভাষী জনগণের বিরোধ চলছে। সূত্র : বিবিসি

  •