উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাবির ৫২তম সমাবর্তন সম্পন্ন

প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০১৯

উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাবির ৫২তম সমাবর্তন সম্পন্ন

উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৫২তম সমাবর্তন সম্পন্ন হয়েছে। সমাবর্তন উপলক্ষে সজ্জিত ক্যাম্পাসে বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও ভবন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। কালো গাউন পড়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস জুড়ে আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করে।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বেলা ১২টায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে ঢাবির ৫২তম সমাবর্তনের মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

এরপর অনুষ্ঠানে ৭৯ জন কৃতী শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীকে ৯৮টি স্বর্ণপদক, ৫৭ জনকে পিএইচডি, ৬ জনকে ডিবিএ এবং ১৪ জনকে এম ফিল ডিগ্রি প্রদান করা হয়। সমাবর্তনে ২০ হাজার ৭৯৬ জন গ্র্যাজুয়েটকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শতবর্ষকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক গবেষণা ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। যুগের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রমকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা চলছে। বহির্বিশ্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও খ্যাতনামা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং উন্নয়নেও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষকদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বৃত্তি হিসেবে পুনরায় বঙ্গবন্ধু ওভারসিস স্কলারশিপ চালু করেছে। ২০২০ সালে মুজিববর্ষ, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবার্ষিকী উৎসবকে সামনে রেখে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।’ এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য তিনি প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘জীবনের সকল ক্ষেত্রে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।’ এ সময় জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কসমিক রে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. তাকাকি কাজিতা সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব সাইন্স ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক ড. তাকাকি কাজিতা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে নতুন প্রজন্মের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞান হচ্ছে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চাবিকাঠি। তাই তরুণ প্রজন্মকে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আরও বেশি সম্পৃক্ত ও মনোযোগী হতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘শিক্ষার মূল লক্ষ্য জ্ঞানার্জন হলেও তা একমাত্র লক্ষ্য নয়। কারণ কর্ম বিমুখ শিক্ষা মূল্যহীন। শিক্ষাকে কার্যকর করতে হলে এর সঙ্গে কর্মের সংযোগ ঘটাতে হবে। তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার, বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কার বিশ্বকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যে জাতি যত বেশি খাপ খাইয়ে নিতে পারছে, সে জাতি তত বেশি উন্নতি করছে। এই পরিবর্তনে মুখ্য ভূমিকা রাখে যুব সমাজ। তারাই জাতির চেঞ্জমেকার।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু জ্ঞান দান করা নয়, বরং অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানোই হচ্ছে আসল কাজ। গবেষণা হচ্ছে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক কাজ। তাই গবেষণার মান বাড়াতে হবে।’

ডিপ্লোমা ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অপরিকল্পিতভাবে ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মূল দায়িত্ব হলো লেখাপড়া করা এবং যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলা। তাদের এমন কোন কাজ করা উচিত নয়, যাতে পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়।’ মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় রাষ্ট্রপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এসে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান সমাবর্তন অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট