দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বিএনপির ইন্ধন রয়েছে : কাদের

রাজনীতি

দ্রব্যমূল্যের হঠাৎ করে ঊর্ধ্বগতিতে বিএনপির ইন্ধন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বিএনপি বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মহলকে উসকানি দিচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের হঠাৎ করে ঊর্ধ্বগতিতে তাদের ইন্ধন রয়েছে এবং উসকানি রয়েছে। আমরা তাদের অনেককেই চিহ্নিত করেছি। অবশ্যই তাদের শাস্তি হবে।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে দপ্তর উপ-কমিটি এ সভার আয়োজন করে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করছে। নৈরাজ্য এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তারা ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে চায়। এসব করে তারা সফল হবে না। কারণ আওয়ামী লীগ পূর্বের যে কোনো সময়ের চেয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী, সুসংগঠিত এবং সুশৃঙ্খল একটি দল।

তিনি বলেন, নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেবে। জনগণের জানমাল ক্ষতি করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তার জবাব দেবে।

বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের দগদগে ব্যর্থতা, এ ব্যর্থতার কোনো সীমা নেই। তারা রাজনৈতিকভাবেও ব্যর্থ। সাংগঠনিকভাবে তাদের নেতৃত্বের নির্দেশ আসে টেমস নদীর ওপার থেকে। তাদের নেতৃত্ব ঠিক নেই। নেতাদের কেউ বলেন রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন, আবার কাউকে পাওয়াই যায় না!

খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সরকারের কিছু করার নেই জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটা কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়, এটা হলো দুর্নীতির মামলা। দুর্নীতির মামলায় সরকারের কোনো করণীয় নেই। কারণ, রাজনৈতিক মামলা হলে সরকার রাজনৈতিকভাবে মুক্তির কথা বিবেচনা করতে পারত। তারা বলে সরকার রাজনৈতিক কারণে মুক্তি দিচ্ছে না, বিষয়টি সত্যের অপলাপ।

আদলত প্রাঙ্গণে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের আচরণের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে তারা রণাঙ্গন সৃষ্টি করেছে। আদালতের ভেতরে হট্টগোল করেছে। আমি মনে করি আদালতের ভেতরে তারা যে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন সেটা ক্ষমার অযোগ্য।

‘খালেদা জিয়া জেলে রাজার হালে আছেন’— প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপরে চাপ সৃষ্টি করেছে বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন। এর জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন কথা বলেন তিনি জেনেশুনেই কথা বলেন। তারা (বিএনপি নেতারা) কী বলছেন সেটা বিবেচনা করে কথা বলেন না। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যেটা বলেন সেটা নীতিগতভাবে বলেন।

আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামীতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে একটি পদে কোনো পরিবর্তন হবে না। আর সে পদটি হলো সভাপতির পদ। এ পদে শেখ হাসিনাই থাকবেন। অন্য যেকোনো পদে পরিবর্তন হতে পারে। সেটা নির্ভর করবে দলীয় সভাপতির ওপর।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দপ্তর কমিটির আহ্বায়ক পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

Leave a Reply