ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে এলইউ’র ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আলোচনা সভা

সিলেট বিভাগ

লিডিং ইউনিভার্সিটিতে ‘বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভূমিকা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে এলইউ’র ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ।

মঙ্গলবার সকালে লিডিং ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় একাডেমিক ভবনের গ্যালারি-০১ এ অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: কামরুজ্জামান চৌধুরী। ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান এর সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর মো. সামস্-উল আলম জয়।

মূখ্য আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষক মাওলানা কবি মুসা আল হাফিয। এতে বিশেষ আলোচক হিসেবে আলোচনা পেশ করেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসার সহযোগী অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল মুছাব্বির এবং হযরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা আবু ছালেহ মো. কুতবুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্য লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ শান্তির ধর্ম যেখানে নারীদের অধিকার, দাসত্ববাদের অবসান, মানবিকতা, শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ইসলাম যে নৈতিকতার শিক্ষা দেয় তাতে জঙ্গীবাদ থাকতে পারেনা, ভ্রান্ত ধারণা থেকে এ জঙ্গীবাদের উৎপত্তি। আমাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে, তাহলেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি মূল্যবান এবং তত্ত্বভিত্তিক বিষয় শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরার জন্য আলোচকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং এ আলোচনা সভা আয়োজন করার জন্য ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগকে ধন্যবাদ জানান।

আলোচকগণ রাসূলুল্লাহ (সা:) এবং তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করণ, আমানত, ইনসাফ, সুশাসন, নৈতিক দায়িত্ববোধ ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অনুস্মরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি মানব সমাজকে শুধু আত্মিক সংশোধনের পথ দেখাননি বরং তিনি আমাদেরকে কল্যাণকর এক নতুন বিশ্ব উপহার দিয়েছেন।

তারা আরও বলেন, ইসলামের নূরকে প্রজ্জ্বলিত করে আমলের মাধ্যমে আল্লাহ ও রাসূলের আদর্শকে পালন করতে হবে। সামাজিক অবিচার দূরীকরণ ও অসাম্প্রদায়িকতা দূর করে সম্প্রীতি স্থাপনে অতুলনীয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সেই সাথে তাঁরই অনুসৃত পথে চললেই শান্তিময় সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আলোচকগন শিক্ষার্থীদেরকে নবী করিম (সা:) এর জীবন অধ্যয়ন এবং সে আলোকে নিজের জীবন গঠনে আত্ম নিয়োগ করার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান ফজলে এলাহী মামুন। এতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলওয়াত করেন শিক্ষার্থী হাফিয রুম্মান আহমদ এবং নাত এ রাসূল পরিবেশন করেন ইমদাদুল ইসলাম।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন লির্ডি ইউনিভার্সিটির আধুনিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. এম. রকিব উদ্দিন, কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডীন প্রফেসর নাসির উদ্দিন আহমদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মোস্তাক আহমাদ দীন এবং রেজিস্ট্রার মেজর (অব.) মো শাহ আলম, পিএসসি।

আলোচনা সভায় লিডিং ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. রাশেদুল ইসলাম, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply