জাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা

প্রকাশিত: ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৯

জাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা
ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও হল ত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন শিার্থীরা। প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময়ে তারা হল ত্যাগ না করে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদের রাস্তায় নেমে এসেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবক’টি আবাসিক হলের ছাত্রছাত্রী এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিকদের একটি অংশ। গত মঙ্গলবার রাতের ঘোষণা অনুযায়ী, গতকাল বুধবার সকাল থেকে আবারও ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক-শিার্থীরা। জানা গেছে, সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করেন আন্দোলনরত শিার্থীরা। এছাড়া আসতে শুরু করেন শিকরা। এর আগে সকালে কিছু শিার্থী রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে জড়ো হতে শুরু করলে সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দেয় কর্তৃপ। শহীদ মিনারের সামনে ব্যানার, ফেস্টুন হাতে সমবেত হন। সকাল  থেকেই ভিসির বাড়ির সামনে দেখা যায় শতাধিক পুলিশ সদস্য। সশস্ত্র পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে সচেষ্ট রয়েছেন। কয়েকজন শিার্থী জানিয়েছেন, হল ছাড়ার নির্দেশনা দেয়া সত্ত্বেও তারা হলে অবস্থান করছেন। ভাসানী হলে শিার্থীরা আন্দোলনের জন্য একত্রিত হচ্ছেন বলেও জানান একাধিক শিার্থী। তারা কিছুণের মধ্যে একত্রিত হয়ে আন্দোলনে যোগ দেবেন। এই হলের ইমরান আহমেদ নামে এক শিার্থী বলেন, তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। প্রীতিলতা হলের সামনে একত্রিত হতে শুরু করেছেন শিার্থীরা। এর আগে বুধবার রাতে তালা ভেঙে বেশ কয়েকটি হলের ছাত্রীরা বেরিয়ে এসে বিােভ মিছিল করেন। তারা ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। এদিকে গতকাল সকাল থেকে আবারও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিজ নিজ হলে ফিরে যান শিার্থীরা। মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্কসবাদী) সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ  বলেন, বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে বিােভ মিছিল এবং পরে শহীদ মিনারে সংহতি সমাবেশ করা হবে। সমাবেশের পরে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি। এর আগে রাত পৌনে ১০টার দিকে ভিসির অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনে হামলা ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে বেগম সুফিয়া কামাল হল ও প্রীতিলতা হলের গেটের তালা ভেঙে মিছিল বের করেন ছাত্রীরা। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল থেকেও এ সময় ছাত্রীরা বের হন। এ সময় তাদের সঙ্গে যোগ দেন অন্য সহপাঠীরাও। এছাড়া রাত ৮টার কিছু পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে আরও একটি বিােভ মিছিল বের করেন শিার্থীরা। পরে দুটি মিছিল একত্রিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে ভিসি-বিরোধী সেøাগান দিতে থাকেন। তখন হলের গেটের তালা ভেঙে বেরিয়ে মিছিলে যোগ দেন বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, প্রীতিলতা হল, সুফিয়া কামাল হল, জাহানারা ইমাম হল ও ফয়জুন্নেছা হলের আবাসিক শিার্থীরাও।
হল না ছাড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন :
অনির্দিষ্টকালের বন্ধ ঘোষণার পরও ক্যাম্পাস ছেড়ে না যাওয়ায় আন্দোলনরত শিার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হল ছাড়ার সময়সীমা কয়েক দফা পিছিয়েও তাতে কর্ণপাত না করায় পুলিশ ডেকে হলে হলে তল্লাশি চালিয়ে শিার্থীদের বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে হল প্রভোস্ট কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদ এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। দূর-দূরান্তের শিার্থীদের কথা বিবেচনা করে ওই নির্দেশনা শিথিল করা হয়। তিনি দাবি করেন, ইতিমধ্যে ছাত্রীদের হল খালি হয়ে গেছে। ছাত্র হলে অনেকেই এখনও অবস্থান করছে। তাদের বেলা সাড়ে ৩টার মধ্যে হল ছাড়তে হবে। তা না হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। হল-সংলগ্ন খাবার দোকানগুলো বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান ভিসিপন্থী এই শিক।
জাবিতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছাত্রলীগও হলে :
আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি জাবিতে হলে অবস্থান করছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। সরেজমিন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি আবাসিক হলের অনেক শিার্থী হল ছাড়ছেন। তবে আন্দোলনরত শিার্থীরা হলেই অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে হলে রয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও। তাদের উপস্থিতির কারণে হামলার আশঙ্কা করছেন আন্দোলনরত শিার্থীরা। আরিফ হোসেন নামে ৪৭ ব্যাচের আন্দোলনকারী এক শিার্থী বলেন, বাড়িতে যেতে বললেই যাওয়া যায় না। আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে জানি। আমার ভাইয়ের ওপর, বোনের ওপর, শিকের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাতে। এদিকে শিার্থীরা হলে অবস্থান করলেও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে পানির লাইন। সেই সঙ্গে হলের ডাইনিং এবং আশপাশের সকল খাবার হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ও বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে শিার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর হল ছাড়ার সময়সীমা কয়েক দফায় পরিবর্তন করা হয়। সর্বশেষ গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে হল ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায় প্রশাসন।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট