প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুবদলের নেতৃত্বে ছিলেন যারা

প্রকাশিত: ২:২৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০১৯

প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুবদলের নেতৃত্বে ছিলেন যারা

আজ ২৭ অক্টোবর, বিএনপির অন্যতম সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’। ১৯৭৮ সালের এই দিনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুবদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।সংগঠটির গঠনতন্ত্রে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল—উৎপাদনমুখী রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, মানবকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জনে প্রত্যেক স্তরে সৎ, মেধাবী ও নিঃস্বার্থ যুবকদের সমন্বয়ে আদর্শবান নেতৃত্ব গড়ে তোলা।

গঠনতন্ত্র বাস্তবায়নে যুবদলের প্রথম দিককার কমিটিগুলো কাজ করলেও পরের কমিটিগুলো ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। একসময় রাজপথের আ’ন্দোলনে যুবদলই ছিল বিএনপির ভ্যানগার্ড। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় যুবদলের আজকের নেতৃত্ব অনেকটাই নির্জীব। এমনকি সর্বশেষ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখেননি আজও।

যুবদলের বয়স চার দশক পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত কমিটি হয়েছে মাত্র ৬টি। এর মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হয়েছে মাত্র তিনটি। বাকিগুলো প্রেস রিলিজের মাধ্যমে কমিটি করা হয়েছে। এ নিয়েও যুবদলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাদের দাবি, যুবদলের আগামী কমিটি সম্মেলনে ভোটাভুটির মাধ্যমে যেন করা হয়।যুবদল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে আবুল কাশেমকে আহ্বায়ক করে যুবদলের কমিটি গঠন করা হয়। এর পর আবুল কাশেমকে সভাপতি ও সাইফুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়।

যুবদলের দ্বিতীয় কমিটি হয় ১৯৮৭ সালের ২৩ মা’র্চ। কাউন্সিলের মাধ্যমে ওই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সে’নাশাসনের বি’রুদ্ধে আ’ন্দোলনে আব্বাস-গয়েশ্বর কমিটি সফলতা দেখাতে সক্ষম হয়। তখন তারা রাজপথের আ’ন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।এরই ধারাবাহিকতায় পরের কমিটিতেও তারা নেতৃত্বে আসেন। ১৯৯৩ সালের ৮ অক্টোবর কাউন্সিলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই দুজন আবার যুবদলের যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

আব্বাস-গয়েশ্বর বিএনপির রাজনীতিতে চলে গেলে ২০০২ সালে যুবদলের কাউন্সিলে নতুন নেতৃত্ব আসে। বরকতউল্লাহ বুলুকে সভাপতি ও মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে সাধারণ সম্পাদক এবং খায়রুল কবির খোকনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে হাইভোল্টেজ কমিটি করা হয় যুবদলের। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে গঠিত এই কমিটি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। সারা দেশে যুবদলকে উজ্জ্বীবিত করতে সক্ষম হয়।

এর পর ২০১০ সালের ১ মা’র্চ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সাইফুল আলম নীরবকে যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি গঠনের পর যুবদলের নেতৃত্বের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। অ’ভিমান করে যুবদলের রাজনীতি থেকে বারবার ইস্তফা দেয়ার কথা বলেন আলাল। ক্ষমতাসীন দলের হা’মলা মা’মলায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন নীরব। পরে আলাল বিএনপির রাজনীতিতে চলে আসেন। সবশেষ বিএনপির কাউন্সিলে তাকে করা হয় দলের যুগ্ম মহাসচিব। এর পর যুবদল দুর্বল থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদ করে যুবদলের কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইস’লাম আলমগীর। সুপার ফাইভ কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি করা হয় মোরতাজুল করিম বাদরুকে, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করা হয় সাবেক ছাত্রনেতা নুরুল ইস’লাম নয়ন আর সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় মামুন হাসানকে।

তিন বছর মেয়াদি এ কমিটির বয়স ৩৪ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সর্বশেষ গত ৯ অক্টোবর যুবদলের ৫ নেতার সঙ্গে স্কাইপে বৈঠক করেন বিএনপির ভা’রপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই বৈঠকে তিনি ২০ অক্টোবরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দিতে পারেনি যুবদল।

যুবদলের প্রথম আহ্বায়ক আবুল কাশেম এখন বিএনপির কোনো পর্যায়ের রাজনীতিতে নেই। আর প্রথম সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান যুবদলে থাকার সময়ই জাতীয় পার্টিতে চলে যান। মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে আছেন। তাদের পরবর্তী কমিটির সভাপতি বরকতউল্লাহ বুলু বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আর সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন এখন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।

যুবদলের লক্ষ্যপূরণে ব্যর্থতা প্রসঙ্গে সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বর্তমান যুবদল কেন, বর্তমান ছাত্রদল বা যেকোনো বিরোধী রাজনৈতিক দল জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সফলতা দেখাতে সক্ষম হয়নি। এটি যে তাদের নেতৃত্বের ব্যর্থতা তা নয়, বর্তমানে যে পরিবেশ দেশে বিরাজ করছে, তাতে কাজ করার ন্যূনতম সুযোগ নেই। ফলে এখানে নেতৃত্বের মাপকাঠি কী’ভাবে বিচার করা হবে।

তথ্যসূত্রঃ যুগান্তর

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট