সন্ত্রাস রুখে দেয়ার শপথ

প্রকাশিত: ১:৩০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৯

সন্ত্রাস রুখে দেয়ার শপথ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে সকল প্রকার সন্ত্রাস রুখে দেয়ার শপথ নিলেন শিার্থীরা। এর মধ্য দিয়েই শিার্থীদের চলমান আন্দোলনের আপাতত সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা সোয়া ১টার দিকে বুয়েট মিলনায়তনে এই শপথ অনুষ্ঠান হয়। শপথ গ্রহণের কর্মসূচিটি বাইরে হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় সেটি পরে মিলনায়তনে করার সিদ্ধান্ত হয়। এতে বুয়েটের ভিসি, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও হলের প্রভোস্টরা শপথ নেন। তবে শিকেরা মিলনায়তনে উপস্থিত থাকলেও শপথে অংশ নেননি। এর আগে শপথ নেয়ার জন্য বেলা ১১টার দিকে শিার্থীরা মিলনায়তনে জড়ো হতে থাকেন। পরে বেলা সোয়া ১টার দিকে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথ শুরুর আগে বুয়েটের নিহত শিার্থী আবরার ফাহাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শপথ পড়ান বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিার্থী রাফিয়া রিজওয়ানা।
শপথে বলা হয়, ‘আমি প্রতিজ্ঞা করছি যে, আজ এই মুহূর্ত থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার কল্যাণ ও নিরাপত্তার নিমিত্তে আমার ওপর অর্পিত ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক, নৈতিক ও মানবিক সব প্রকার দায়িত্ব সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবো। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় আমার জ্ঞাতসারে হওয়া প্রত্যেক অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমি সর্বদা সোচ্চার থাকবো। আমি আরও প্রতিজ্ঞা করছি যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সব প্রকার সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থানকে আমরা সম্মিলিতভাবে রুখে দেবো। নৈতিকতার
সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সব ধরনের বৈষম্যমূলক অপসংস্কৃতি এবং মতার অপব্যবহার আমরা সমূলে উৎপাটিত করবো। এই আঙ্গিনায় আর যেন কোনো নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে না যায়। আর কোনো নিরপরাধ শিার্থী যেন অত্যাচারের শিকার না হয়। তা আমরা সবাই মিলে নিশ্চিত করবো।’
বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার পর থেকেই তার বিচারসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিার্থীরা। গত ৭ অক্টোবর থেকে চলা এ আন্দোলন আজকের গণশপথের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটলো। তবে মাঠের আন্দোলনের ইতি ঘটলেও প্রশাসনের দেয়া আশ্বাস এবং প্রতিশ্রুতি পর্যবেণ করবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। শপথ গ্রহণ শেষে আন্দোলনকারী শিার্থী সায়েম বলেন, ‘ধন্যবাদ জানাতে চাই বুয়েট প্রশাসনকে। আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে বাস্তবায়নের দিকে যাওয়ার জন্য। আজকে শপথের মাধ্যমে মাঠের আন্দোলন শেষ হলেও ১০ দফা দাবির বিষয়ে আমাদের পর্যবেণে চলবে।’
শপথ অনুষ্ঠান শেষে ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ শিার্থীরা জানিয়েছেন, চার্জশিট হওয়ার পর অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত কোনো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন না তারা। এ বিষয়ে শিার্থীদের কাস-পরীা বর্জন করে সময় নষ্ট না করার আহ্বান জানান ভিসি। ভর্তি পরীার কারণে ১৩ ও ১৪ অক্টোবর আন্দোলন শিথিল থাকার পর গত মঙ্গলবার সকাল থেকে আবার বুয়েট ক্যাম্পাসে জড়ো হন শিার্থীরা। কর্মসূচি শিথিলের পর অবশ্য গত মঙ্গলবার কোনো মিছিল-সমাবেশ হয়নি। বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে দাবি বাস্তবায়ন পরিস্থিতি ও আন্দোলন নিয়ে আলোচনা করেন শিার্থীরা। বেলা তিনটার দিকে বুয়েটের ভারপ্রাপ্ত ছাত্রকল্যাণ পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাসিতের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা। পরে আবারো নিজেদের মধ্যে আলোচনা শেষে বুয়েট শহীদ মিনারে নিজেদের অবস্থান জানান শিার্থীরা। আন্দোলনের ধরনে তারা পরিবর্তন আনেন।
তারা জানান, দিনভর সেøাগান-বিােভের মতো মাঠের প্রতিবাদী কর্মসূচিতে আপাতত আর যাচ্ছেন না তারা। তবে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে যাদের নাম আসবে, তাদের সবাইকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত কোনো ধরনের একাডেমিক (কাস-পরীাসহ সব শিা কার্যক্রম) কার্যক্রমে অংশ নেবেন না আন্দোলনকারী শিার্থীরা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাঠের আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটল গণশপথ কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে।
প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে হলের ২০১১ নম্ব^র কে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পর দিন চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন আবরারের বাবা। এ মামলার এজাহারভুক্ত ১৯ আসামিসহ এ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আবরার হত্যার পর থেকেই ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিার্থীরা। আন্দোলনের মুখে ইতিমধ্যে দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বুয়েট প্রশাসন। এসব দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে নোটিশও প্রদান করা হয়েছে। এমন প্রোপটেই শিার্থীরা মাঠের আন্দোলনে ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট