কোম্পানীগঞ্জে পাগলা মহিষের তাণ্ডব

প্রকাশিত: ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৯

কোম্পানীগঞ্জে পাগলা মহিষের তাণ্ডব

 সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় বিচরণ করছিল মহিষটি। সীমান্তের ওপার থেকে আসা মহিষটি ছিল দেশীয় মহিষের চেয়ে দেখতে একটু ভিন্ন রকমের। তা আটক করতে স্থানীয় লোকজন ভিড় করলে হঠাৎ খেপে যায় এটি। একপর্যায়ে খ্যাপা মহিষের তাণ্ডবে আটটি গ্রামে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়। তাড়াতে গিয়ে এর গুঁতোয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যানসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। শেষে গুলি করে মহিষটি দুর্বল করা হয়। পরে এটিকে জবাই করা হয়।

মঙ্গলবার সাড়ে ৭টার দিকে সীমান্তবর্তী ভোলাগঞ্জ গ্রাম হয়ে একটি ভারতীয় পাগলা মহিষ এলাকার লোকজনকে তাড়া করে। পরে সেটি পাড়–য়ার দিকে চলে আসে। পাড়–য়ার লোকজন একত্রিত হয়ে মহিষটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পাগলা মহিষের আক্রমণে চিকাডহর গ্রামের ছোরাব আলী ও নারাইনপুর গ্রামের ইসমাইল আলী আহত হন। বুধবার ভোরে মহিষটি লম্বাকান্দি ও কাঠালবাড়ি গ্রামের মাঝামাঝি ধুলিয়া সাতবিলা হাওরে চলে আসে। সকাল ১১টার দিকে মহিষটিকে প্রথমে লাইসেন্সকৃত একটি বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হয়। এতেও বশে আসেনি মহিষটি। পরে হাওরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে মহিষটিকে আক্রমণ করে বশে আনতে সক্ষম হন। পরে সেটিকে জবাই করে স্থানীয়দের মাঝে মহিষটির মাংস বন্টন করে দেয়া হয়।

মহিষের আক্রমণে আহতরা হলেন- লম্বাকান্দি গ্রামের আব্দুল হাশিম, আবু ছায়েদ, আব্দুল গণি, লিটন, মরম আলী, আমির হোসেন, জলিল খাঁ, আবুল ফজল, আলকাছ আলী, কাউছার মিয়া, হারুন মিয়া, ডুকরিয়ারপাড়ের জমির হোসেন, ইদু মিয়া, জয়নাল মিয়া, কাঁঠালবাড়ি গ্রামের জামাল মিয়া, ছাওয়াল মিয়া, হাফিজ উদ্দিন, চিকাডহর গ্রামের ছোরাব আলী, নারাইনপুর গ্রামের ইসমাইল আলী, লামাডিস্কিবাড়ি গ্রামের হাজী মোঃ নজির উদ্দিন ও তার ছেলে মাসুক আহমদ। আহতদের কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জামাল মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

স্থানীয় কাঁঠালবাড়ি গ্রামের উসমান খাঁন জানান, গ্রামের কয়েকজন কৃষক প্রথমে মহিষটিকে দেখতে পান। এসময় মহিষের আক্রমণে কয়েকজন আহত হন। ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে মহিষটি দেখতে আশপাশের হাজারও উৎসুক মানুষ সেখানে ভিড় জমান। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহিষটির উপর সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ সময় পাগলা মহিষের আক্রমণে লম্বাকান্দি, কাঠালবাড়ি ও ডুপরিয়ারপাড়সহ বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ৩০ জন লোক আহত হন। একপর্যায়ে মহিষটি নিস্তেজ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তাকে জবাই করা হয়। তিনি জানান, জবাইকৃত মহিষের মাংস এলাকাবাসীর মধ্যে বন্টন করা হয়েছে।

উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের লামাডিস্কিবাড়ি গ্রামের রফিক আহমদ জানান, ‘ঘটনার সময় তার পিতা হাজী মোঃ নজির উদ্দিন চেয়ারম্যানের লাইসেন্সকৃত একটি বন্দুক থেকে এক রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। এসময় মহিষের আক্রমণের শিকার হয়ে তিনি ও তার ভাই মাসুক আহমদ আহত হন।’

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তাজুল ইসলাম জানান, পাগলা মহিষটির মালিকের সন্ধান মিলেনি। তবে, ধারণা করা হচ্ছে, মহিষটি ভারতীয় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এসেছিল। লোকজনের ওপর হামলার পর মহিষটিকে স্থানীয়রা আটক করতে সক্ষম হন। পরে সেটিকে জবাই করা হয়েছে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট