কারও অনুকম্পায় মুক্তি চান না খালেদা জিয়া : মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ১:২২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০১৯

কারও অনুকম্পায় মুক্তি চান না খালেদা জিয়া : মির্জা ফখরুল

আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জামিন না পেলে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাঁকে মুক্ত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কারাবন্দি চেয়ারপারসনের মুক্তির জন্য দলের চার সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার এক মানববন্ধনে তিনি একথা বলেন। জাতীয় প্রেসকাবের সামনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই মানববন্ধন হয়। মানববন্ধন শেষে পেশাজীবী পরিষদের নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারো অনুকম্পায় মুক্ত হবেন না। জামিন পাওয়ার অধিকার ন্যায্য অধিকারে তিনি মুক্ত হবেন। বেআইনি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে আটকে রাখা যাবে না। জনগণ তাদের প্রিয় নেত্রীকে অবশ্যই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বের করে নিয়ে আসবে। দেশনেত্রীকে মুক্ত করবার জন্যে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করার জন্য আজকে যেমন পেশাজীবীরা মাঠে নেমেছেন।
বেগম খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে দেখে আসার পর আগের দিন বিকালে দলের সংসদ সদস্য জি এম সিরাজ, মোশাররফ হোসেন, জাহিদুর রহমান জাহিদ ও রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, জামিন আদালতের এখতিয়ার হলেও রাজনৈতিক বন্দি হওয়ায় তাঁর মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তারা।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের দুর্নীতি ও ল্টুপাটের স্বর্গরাজ্য ও গণতন্ত্র ধ্বংসের আয়োজন টিকিয়ে রাখতে বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য তাদের যে নীলনকশা, তা তারা বাস্তবায়িত করতে পারবে না। সেজন্যই দেশনেত্রীকে আটক করে রেখেছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রী গেছেন ভারতে। আমরা সবসময় আশা করে থাকি, ভারতের সঙ্গে এই সরকারের নাকি সুউচ্চ সম্পর্ক। যতবার প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যান ততবার আমরা হতাশ হই। যতবার তিনি ভারত সফর থেকে ফেরেন ততবার দেখি আমাদের মূল সমস্যাগুলোর কোনও সমাধান হয় না। তিনি দিয়ে আসেন একেবারে উজাড় করে, আনতে পারেন না কিছুই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সীমান্তে হত্যা সমস্যার সমাধান হয় না, তিস্তার পানির সমস্যার সমাধান হয় না, ফারাক্কার বাঁধ খুলে দেয়ায় আমাদের দেশ বন্যায় তলিয়ে যায়, বাণিজ্যের মধ্যে যে ভারসাম্যহীনতা আছে তারও সমাধান হয় না। জনগণ চায় তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ পাবে। আমরা আশা করবো সীমান্তে যেন হত্যা বন্ধ হয়ে যায়।
মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে ক্যাসিনো নিয়ে অনেক লাফালাফি হচ্ছে। ক্যাসিনোর চেয়ে যে বড় সম্পদ- ভোটের অধিকার, স্বাধীন মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকার, সেইসব অধিকার তো লুট হয়ে গেছে। সেজন্য আজকে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী, এম আবদুল্লাহ, কাদের গনি চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের জাহানারা বেগম প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট