সরকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে : মওদুদ

প্রকাশিত: ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯

সরকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে : মওদুদ

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, এই সরকার সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। তিনি বলেন,’আপনারা দেখতেই পারছেন এই সরকার কিভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। দুর্নীতি আজ সর্বক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা সারাজীবন দেখে আসছি দুটি প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত থাকতে সেই প্রতিষ্ঠান দুটি হল বিচারালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। সেগুলো কেউ সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর যাদেরকে আমরা সম্মান করি তারাও আজকে দুর্নীতিতে জড়িত হয়ে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর বিরুদ্ধে ছাত্ররা আন্দোলন করছে। তারা এদেরকে চায় না।

মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট নগরীর রেজিস্টারি মাঠে বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম এ হক, তাহসীনা রুশদীর লুনা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সাংগঠনিক সম্পাদ,ক ফজলুল হক মিলন, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, বিএনপির সহ শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, বিএনপি নেতা দিলদার হোসেন সেলিম, কলিম উদ্দিন মিলন, জিকে গউছ, আব্দুর রাজ্জাক, নাসিম হোসাইন, ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, নাসির উদ্দিন আহমেদ, মিজানুর রহমান চৌধুরী, হুমায়ুন কবীর, মোরতাজুল করিম বাদরু, হাসান জাফির তুহিন, মামুন হাসান, আবুল কালাম আজাদ, মীর হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

সমাবেশে পরিচালনা করেন, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী।

সংবিধানে নির্বাচন বলতে যা বুঝায় সেই নির্বাচন বাংলাদেশের মাটিতে গত ৩০ ডিসেম্বর হয় নাই দাবি করে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘যেটা হয়েছে সেটা ছিল একটা সিভিলিয়ান ক্যু। ৩০ ডিসেম্বর এই সিভিলিয়ান ক্যু করেছে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা, পুলিশ প্রশাসন এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সবাই মিলে। এখানে জনগণের কোন অংশ ছিল না। আজকে সেজন্য জবাবদিহি হীন একটি সরকারের যা হয় সেটি হয়েছে। যার কারণে আজকে সমাজের এই বিশৃংখলা দেখা দিয়েছে। ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক ৪৬ কোটি টাকা চাঁদাবাজির দায়ে অপসারিত হলো। আজকের পত্রিকায় পড়লাম যুবলীগের এক নেতার নামে নাকি দুইশ কোটি টাকার এফডিআর আছে। তিনি বলেন,’আমাদের নেত্রীকে মাত্র দুই কোটি টাকার জন্য প্রথমে পাঁচ বছর পরে দশ বছর সাজা দেয়া হয়েছে। তাহলে যারা এত টাকা দুর্নীতি করেছে তাদের তো ৫০০ বছর সাজা হওয়ার কথা। একটি ভুয়া মিথ্যা সাজানো মামলায় অন্যায় ভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন,’আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে মুক্ত করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি, এখনো করে যাচ্ছি। কিন্তু শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাকে আমরা মুক্ত করতে পারছি না। তার মুক্তির একমাত্র পথ হচ্ছে রাজপথ। এই রাজপথে যাওয়ার জন্য আপনাদেরকে প্রস্তুত হতে হবে। এই রাজপথের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি মানেই দেশের গণতন্ত্রের মুক্তি এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনা। বেগম জিয়ার মুক্তির সঙ্গে গণতন্ত্রের মুক্তি একাকার হয়ে গেছে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট