মায়েদের কান্নায় বাতাস ভারী

প্রকাশিত: ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৯

আন্তর্জাতিক গুম দিবসে স্বজনদের আকুতি-গুম হওয়াদের অবিলম্বে ফিরিয়ে দিন ॥ প্রতিটি গুমের সঙ্গে সরকার জড়িত : ড. আসিফ নজরুল ॥ কমিশন গঠনের দাবি মান্নার

জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার হওয়া পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছে সরকার ও প্রশাসনের কাছে। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে স্বজন হারানোদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক- গড়ঃযবৎ’ং ঈধষষ’ এর উদ্যোগে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস ২০১৯ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তারা এ দাবি করেন। এতে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল ‘মায়ের ডাক’-এর সভানেত্রী ও ২০১৩ সালে গুম হওয়া সাজেদুল ইসলাম সুমনের মা হাজেরা বেগমের। কিন্তু তিনি অসুস্থ থাকায় সুমনের বড় বোন মারুফা ইসলাম ফেরদৌসী সভাপতিত্ব করেন।
‘মায়ের ডাক’-এর এ অনুষ্ঠানে প্রত্যেক মা গুম হওয়া তার সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্ত্রী চান তার স্বামীর সন্ধান। ছোট ছোট শিশুরা তাদের বাবার ছবি হাতে নিয়ে সরকারের কাছে আকুতি জানায় তার নিখোঁজ বাবাকে ফেরত দিতে। অনুষ্ঠানে দেশে বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধান করতে একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের উদ্যোগের দাবি জানান বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনসহ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ২০১৩ সালের ২৬ এপ্রিল গুম হওয়া রনি হোসেনের মা আঞ্জুমান আরা বেগম, ২০১৫ সালের ২১ আগস্ট গুম হওয়া সাজ্জাদ হোসেনের মা সাজেদা বেগম, ২০১৯ সালের ১৯ জুন গুম হওয়া ইসমাঈল হোসেনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার।
অনুষ্ঠানে মায়েদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে যায় প্রেসক্লাবের হলরুম। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতির পরিবর্তে মায়েদের কান্নার রোল পড়ে যায় হলরুমে। এতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও বক্তব্য রাখেন, স্বজন হারানোদের প্রতি সহমর্মিতা জানান।
তেজগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমন গুমের শিকার হন ২০১৩ সালে ৪ ডিসেম্বর রাতের বেলায়। তার ছোট্ট শিশুকন্যা রাইসা বাবা সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। তার কান্না উপস্থিত আলোচক ও শ্রোতাদেরও আবেগাপ্লুত করে। অনেকেই চোখ মুছতে থাকেন। বুকফাটা কান্নায় রাইসা বলেন, ‘আমার বয়স যখন মাত্র ৭/৮ বছর তখন আমার বাবা গুম হয়। আমি তখন ক্লাস ফোরে পড়ি। এখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি। দীর্ঘ ৫ বছর আমি বাবাকে দেখি না। বাবাকে ছাড়াই কী আমি বেঁচে থাকবো? আমি আমার বাবাকে ফেরত পেতে চাই। বাবার সাথে বেড়াতে যেতে চাই। আমি আমার বাবার বুকে  ঘুমাতে চাই।’
রাইসা আরও বলেন, ‘আমি যখন স্কুলে যাই আমি দেখি আমার বন্ধুদের অনেকের বাবা তাদের স্কুল ছুটির পর নিতে আসেন। কিন্তু আমি একা একা বাসায় আসি। আমি অন্যদের মতো বাবার সাথে ঘুরতে বা বেড়াতে যেতে পারি না। আমি আমার বাবার অনুপস্থিতি প্রতিটি পদে পদে অনুভব করি। রাইসার মতো যেসব শিশু এই অনুষ্ঠানে এসেছে তাদের সবার বাবাকে ফিরিয়ে দিতে সরকারের কাছে আবেদন জানান। রাজধানীর রামপুরা থেকে নিখোঁজ ছাত্রলীগ নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন তপুর মা সালেহা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে তিন বছর ৭ মাস ধরে নিখোঁজ। যুবলীগের স্থানীয় নেতারা প্রশাসনকে দিয়ে আমার ছেলেকে গুম করে। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে হাজারও মানুষের দুয়ারে দুয়ারে দৌড়াইছি। সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু আজও আমি আমার ছেলেকে ফিরে পাইনি। আর কতদিন আমি ছেলের অপেক্ষায় থাকবো,’ বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন সালেহা বেগম।
ফেনীর মাহবুবুর রহমান রিপনের মা রওশন আরা বলেন, ‘আমার ছেলে ২০১৪ সালের মার্চের ২০ তারিখে রাতের আঁধারে আমার বাড়ি থেকে ঘরের দরজা ভেঙে কালো পোশাকধারীরা ধরে নিয়ে যায়। তারা আমার বাসা তল্লাশি করে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। গামছা দিয়ে তাকে পিঠমোড়া করে বেঁধে কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে নিয়ে যায়। আমার ছেলে যুবদলের রাজনীতি করতো। যখন রিপনকে ধরে নিয়ে যায়, তখন তার একটি শিশু বাচ্চা রেখে যায়। মামলা করতে গিয়েছি। তারা মামলাও নেয়নি। আজও আমি ছেলেকে ফেরত পাইনি। কোনো বিচারও পাইনি।’
২০১৬ সালের ১৮ জুন সাতক্ষীরার নিখোঁজ হোমিও চিকিৎসক মোখলেছুর রহমানের বাবা আবদুর রশীদ চিৎকার করে কান্নাজড়িত কন্ঠে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছেলেকে ফিরিয়ে দেয়ার আবেদন করেন। তিনি বলেন, যেদিন তার ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তার স্ত্রী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
রশীদ বলেন, ‘আমার ছেলেকে তিন দিন থানায় আমি নিজের হাতে খাবার দিয়েছি। পানি খাইয়েছি। পুলিশ চার দিনের দিন আমাকে বলে, ‘ওই শুয়োরের বাচ্চা, তোর ছেলেকে আমরা যা বলতে বলি তা বলে না কেন?’ আমি ছেলেকে বলি বাবা তুমি যা জান, তা এদের বল। শুনে পুলিশ বলে, ওই শুয়োরের বাচ্চা তোকে কি এ কথা বলতে বলেছি। এই বলে আমাকে ও আমার ছেলের বউকে থানা থেকে পিটিয়ে বের করে দেয়।’ তিনি দাবি করেন, ‘আমার ছেলে কোনো রাজনৈতিক দলও করতো না। আমি বিচার পাইনি। আমি আল্লাহর কাছে বিচার দেই।’
পার্বত্য চট্টগ্রামের ইউনাইটেড ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মাইকেল চাকমা গত ৯ এপ্রিল গুম হন। তার বোন সুভদ্রা চাকমা বলেন, ‘গত ৯ এপ্রিল আমার ভাইকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরনা দিয়েছি। প্রথমে তারা আটকের বিষয়টি স্বীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করে।’
সুভদ্রা বলেন, ‘আমাদের দাবি, আমার ভাই যদি অপরাধ করে থাকে, তাহলে তাকে আইনের মাধ্যমে বিচার করুন। নইলে আমার ভাইকে ফিরিয়ে দিন।’ এ পর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, বাংলাদেশে প্রতিটি গুমের বিষয়ে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী জানেন। তার অজানা কোনো গুম নেই। একটা গুমও আল্লাহ করেননি। আল্লাহ যদি কাউকে গুম করতেন, তাহলে তিনি গুমের শিকার সেই আদম সন্তানকে অন্তত জানাজাটা করতে দিতেন। আপনার বাহিনী, ভারতের ‘র’ ও ইসরাইলের মোসাদ যে গুম করে তা আপনি জানেন কি না, সন্দেহ।
তিনি বলেন, এখনও সময় আছে অতীতের ভুলের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চান। গুম হওয়া ব্যক্তিদের তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দিন। গুম হওয়া ব্যক্তিদের যদি তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দিতে পারেন তাহলে পরিবারগুলো আপনাদের ক্ষমা করবে। আল্লাহ আপনাদের ক্ষমা করবে। অন্যথায় কারও কাছেই আপনারা ক্ষমা পাবেন না।
তিনি বলেন, দেশে প্রকৃত অর্থে কোনো আইনের শাসন নেই। বঙ্গবন্ধুর ছবি দেয়ালে টানাতে আইন করতে হবে না, এই ছবি থাকার কথা সব মানুষের অন্তরে। মুজিব ভাইয়ের ছবি তো আমরা হৃদয়ে ধারণ করতে চাই। আইনের বাধ্যবাধকতায় দেখতে চাই না।
মায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, দেশের প্রতিটি গুমের সঙ্গে সরকার জড়িত। সরকার কোনোভাবেই এই দায় এড়াতে পারে না।
আসিফ নজরুল সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, সরকার যদি গুমের সঙ্গে জড়িত নাই থাকতো তাহলে কেন এতগুলো পরিবারে কান্নার শব্দ তারা শুনছে না। তিনি অভিযোগ করেন, পরিবারগুলোর বর্ণনা দেয়া মতে, প্রতিটি গুমের সময় সরকারি গাড়ি কিংবা আইনশৃংখলা বাহিনীর পোশাকে বা তাদের গাড়ি ব্যবহার হলো কিভাবে? এছাড়া প্রতিটি ঘটনার পরে থানায়ই বা সাধারণ ডায়েরি নিতে অপারগতা প্রকাশ করে কেন?
তিনি বলেন, সরকার যদি গুমের সঙ্গে জড়িত নাই থাকে তাহলে স্বাধীন কমিশন গঠন করে এতগুলো গুমের ঘটনা তদন্ত করছে না কেন?
ড. নজরুল বলেন, গুম একটি অপরাধ যা, হত্যা বা খুনের চেয়েও নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ। কেননা গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবার সারা জীবনই অবর্ণনীয় কষ্ট নিয়ে চলেন। পরিবার গুম হওয়া স্বামী কিংবা সন্তানের কোনো খোঁজ পায় না। অনেক পরিবার আছে, যারা কারো কাছে কোনো অভিযোগ করবে না, শুধু লাশটি ফেরত চায় অথবা নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান শুধু চায়।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বর্তমান সরকারকে হৃদয়হীন উল্লেখ করে বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের কান্নায় এই সরকারের হৃদয় নড়েও না, গলেও না। এই সরকার একটি পাষন্ড সরকার।
মান্না আরও বলেন, যে সরকার দেশের ১০ কোটি ভোটারের ভোট রাতের অন্ধকারে লুট করতে পারে সেই সরকারের কাছে কোনো কাকুতি মিনতি করেও কোনো লাভ হবে না। এই সরকারের জনগণের সরকার নয়। তাই এই সরকার জনগণের কথা শুনে না। জনগণের কথা এই সরকারের কানে প্রবেশ করবে না।
একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করে সকল গুমের তদন্ত করারও দাবি জানিয়ে নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক বলেন, এ দেশে যেদিন জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে সেদিনই সকল গুম আর খুনের বিচার করা সম্ভব হবে।
কমরেড সাইফুল হক বলেন, এখানে মায়েদের, স্ত্রীদের, শিশুদের যে আর্তনাদ তাতে কারও সুস্থ থাকা সত্যিই কঠিন। এখানে গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা যদি আজকের এ কর্মসূচি রেকর্ড করে থাকেন, ভিডিও করে থাকেন, তাহলে দয়া করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবেন। কারণ তিনি প্রায়ই বলে থাকেন, স্বজন হারানোর বেদনা তিনি বোঝেন। আজকের এই যে আহাজারি তা প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাশালীরা দেখলে কিছুটা হলেও আপ্লুত হবেন। তাহলে স্বজন হারানোরা বিচার পেতে পারেন।
জোনায়েদ সাকী বলেন, পাহাড়ে-সমতলে আজ স্বজন হারানোদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব আছে কি না, তা আমাদের প্রশ্ন। যদি থেকে থাকে তাহলে সেই রাষ্ট্র আজ গুন্ডাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তাদের গুম করার প্রধান লক্ষ্য জনগণের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া। যাতে কেউ ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে না পারে।
মানবাধিকার কর্মী ফরিদা আক্তার বলেন, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে গুমের শিকার হওয়া স্বজনদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছি। গুমের শিকার হওয়া স্বজনরা যেভাবে কথা বলছেন, এটা অত্যন্ত শক্তিশালী। অত্যন্ত সাহসী কাজ। আমি আপনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।
ফ্যাসিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ঢাবি শিক্ষক অধ্যাপক আকমল হোসেন বলেন, আজকে এখানে আমরা সবাই কান্না শুনছি। মায়েদের কান্না শুনছি। একটা ফ্যাসিস্ট সরকার, নির্যাতক রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। এর বিকল্প রাজনৈতিক ব্যবস্থা না এলে এ কান্না থামবে না।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই এ অনুষ্ঠানে আসি। কিন্তু আজকে অনেককেই দেখতে পাই না। কারণ তারা স্বজনদের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে পরপারে চলে গেছেন। অথচ বিচার দেখে যেতে পারেননি।
মানবাধিকার কর্মী নাসির উদ্দিন এলান বলেন, আমরা একটি স্বৈরতান্ত্রিক ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে চলছি। এই ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙে দিতে হবে। তা না হলে এ গুমের কোনো বিচার হবে না।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন, নাসির উদ্দিন এলান, গণসংহতির আহ্বায়ক জোনায়েদ সাকী, আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, অধ্যাপক আকমল হোসেন, কমরেড সাইফুল হক, গুমের শিকার ব্যক্তিদের  পরিবার থেকে বক্তব্য রাখেন বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর ছেলে আবরার ইলিয়াস, সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন আফরোজা ইসলাম আঁখি, সুমনের মেয়ে রাইসা, ২০১৩ সালের ২৬ এপ্রিল গুম হওয়া রনি হোসেনের মা আঞ্জুমান আরা বেগম, ২০১৫ সালের ২১ আগস্ট গুম হওয়া সাজ্জাদ হোসেনের মা সাজেদা বেগম, ২০১৯ সালের ১৯ জুন গুম হওয়া ইসমাঈল হোসেনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার, নিখোঁজ তপুর মা সালেহা বেগম, সবুজের মা সাহেদা বেগম, পিন্টুর বোন মুন্নী, পারভেজ হোসেনের শিশুকন্যা হৃদী, নিখোঁজ ড্রাইভার কাউসারের মেয়ে লামিয়া, যশোরের মোহন মিয়ার বাবা জামশেদ আলী, মাইকেল চাকমার বোন, সুজনের ভাই  শাকিলসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানে আগত ছোট ছোট শিশু তাদের বাবার ছবি তুলে ধরে। এতে লেখা ছিল ‘শুধু বাবাকে ফিরে পেতে চাই।

  •