কাশ্মীরে নিষেধাজ্ঞা-আটক অব্যাহত থাকায় উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: ২:৪৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৯

ভারতীয় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ভূস্বর্গ খ্যাত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করায় অঞ্চলটিতে ইতোমধ্যে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যা নিয়ে পরবর্তীতে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও আটক অভিযান অব্যাহত থাকায় এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের পাঠানো বিবৃতির বরাতে করা প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে গণমাধ্যম ‘এনডিটিভি’।

মন্ত্রণালয়ের এ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখনো পর্যবেক্ষণ করছে। অঞ্চলটি থেকে এখনো একাধিক বাসিন্দাকে আটকের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া সেখানে এখন পর্যন্ত বহিরাগতদের উপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত আছে।’

মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমরা অঞ্চলটিতে মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো এবং সকল আইনি প্রক্রিয়াগুলো মেনে চলার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের সাথে সংলাপের আশাবাদ প্রকাশ করছি।’

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ কর্মকর্তার মতে, ‘এখন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে ”লাইন অব কন্ট্রোলে” শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন। কেননা কাশ্মীর এবং অন্যান্য উদ্বেগজনক ইস্যু নিয়ে বর্তমানে পাক-ভারত মধ্যকার যে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসনে এক প্রত্যক্ষ সংলাপ প্রয়োজন। যদিও সেক্ষেত্রে সহায়তা অব্যাহত রাখতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত।’

বৃহস্পতিবার ভারতের কাছে মার্কিন প্রশাসনের কাশ্মীরে সাম্প্রতিক মানবাধিকার হরণের বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার বিষয়ে জানতে চাইলে মুখপাত্র এসব মন্তব্য করেন বলে দাবি ভারতীয় গণমাধ্যমটির।

কাশ্মীরে কারফিউ

কারফিউয়ের কারণে কাশ্মীরের জনশূন্য রাজপথ। (ছবিসূত্র : ইন্ডিয়া টুডে)

এ দিকে গত তিনদিন আগে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বায়ারিতজ শহরে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেখানে তারা উপত্যকাটিতে চলমান সংকট নিরসনে বেশ কিছু সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘চলমান কাশ্মীর ইস্যুটি ছাড়াও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বিষয় আছে। যা সম্পূর্ণই নিজেদের বিষয়, মূলত এ কারণে আমরা বিষয়গুলো নিয়ে কখনোই তৃতীয় কোনো পক্ষকে বিরক্ত করতে চাই না।’

পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এখানে পাক-ভারত মধ্যকার একটি দ্বিপক্ষীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাশ্মীর। আমি আশাবাদী দেশ দুটি বিষয়টি খুব দ্রুতই সমাধান করতে পারবে।’

এর আগে গত ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছিল ক্ষমতাসীন মোদী সরকার। যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিতর্কিত লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মীর সৃষ্টির প্রস্তাবেও সমর্থন জানানো হয়।

এসবের মধ্যেই চলমান কাশ্মীর ইস্যুতে পাক-ভারত মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে একে একে ভারত সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী পাকিস্তান। যদিও এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারত পাশে পেয়েছে রাশিয়াকে এবং পাক সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরান।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারসহ রাজ্যের স্থানীয় প্রশাসন সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানানো হলেও; কাশ্মীর জুড়ে এখনো সংঘর্ষ ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি পাকিস্তানের।

  •