রাস্তার ৫ হাজার ইট তুলে নিলেন আ’লীগ নেতা

প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৯

রাস্তার ৫ হাজার ইট তুলে নিলেন আ’লীগ নেতা

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামের নির্মিত রাস্তায় বিছানো কয়েক হাজার ইট প্রকাশ্য দিবালোকে তুলে নিয়ে গেলেন জেলা আ’লীগের এক প্রভাবশালী নেতা। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীর সাথে এ নিয়ে ওই নেতার তুমুল দ্বন্দ্ব চলছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট ঈদের পরদিন ভাটরাই মাঝপাড়া মখলিছুর রহমানের বাড়ি হতে ইছবর আলির বাড়ি পর্যন্ত ভাটরাই-চন্দ্রনগর-নিগারেরপাড় রাস্তার উপর বিছানো সলিংয়ের প্রায় ৫ হাজার ইট ভাটরাই গ্রামের মৃত হোসেন আলির ছেলে মোহাম্মদ আলি দুলাল তার লোকজন দিয়ে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

গ্রামবাসীর মধ্যে ঘটনা জানাজানি হলে লোকজন জড়ো হয়ে ইট নিতে নিষেধ করলে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক বাকবিতণ্ডা হয় এবং উত্তেজনা দেখা দেয়।

খবর পেয়ে স্থানীয় পূর্ব ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ বাবুল মিয়া ও ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে সিলেট জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ আলি দুলালসহ তার লোকজনকে বাধা দেয় এবং এই অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানান। তাদের অনুরোধে আ’লীগ নেতা মুহাম্মদ আলি দুলাল ইট তোলা বন্ধ রেখে চলে যান।

মুহাম্মদ আলি দুলালের দাবি, এই রাস্তাটি তার জমির উপর দিয়ে গিয়েছে। গ্রামের লোকজন, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে বারবার বলেছি রাস্তাটি আমার জমির উপর থেকে সরিয়ে অন্যদিকে নেয়ার জন্য। কিন্তু আমার কথা না শোনায় আমি বাধ্য হয়ে ইট তুলেছি।

তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন বলে আশ্বাস দেয়ায় ইট তোলার কাজ বন্ধ রেখেছি। সরকারি রাস্তার ইট আপনি তুলে নিতে পারেন কিনা তাকে এই প্রশ্ন করা হলে কোনো সদুত্তর দেননি তিনি।

স্থানীয় ভাটরাই গ্রামের ময়না মিয়ার পুত্র এমদাদুল হক গত ১৪ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবরে জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ আলি দুলালের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার ৫ হাজার ইট চুরি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক তার বাড়ির লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ করেন।

অভিযোগে প্রকাশ মুহাম্মদ আলি দুলাল জেলা আ’লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় তার ভয়ে এলাকার কোন লোক প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুহাম্মদ আলি দুলাল এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তিনি এর প্রতিকার ও মুহাম্মদ আলি দুলালের শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয় ভাটরাই গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের পুত্র স্থানীয় আ’লীগ নেতা ফারুক আহমদ, একই গ্রামের সেনা সদস্য (যশোর ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত) তেরাব আলির পুত্র সাইফুল ইসলাম, আব্দুল বারির পুত্র আব্দুল মন্নান, মাসুক আহমদ এর সাথে এ প্রতিবেদকের মুঠোফোনে এ বিষয়ে আলাপ হলে তারা উক্ত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভাটরাই-চন্দ্রনগর-নিগারেরপাড় গ্রামের রাস্তাটি ব্রিটিশ আমলে নির্মিত। এই রাস্তা দিয়ে ৭/৮ টি গ্রামের লোকজন চলাচল ছাড়াও স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা। তারা বলেন, ১০/১৫ বছর আগে এই রাস্তায় সরকারিভাবে ঠিকাদারের মাধ্যমে ইট সলিংয়ের কাজ করা হয়। তারা অভিযোগ করে বলেন, মুহাম্মদ আলি দুলাল আ’লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হয়ে তিনি কিভাবে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া নিজের রাস্তা দাবি করে ইট তুলে করে নিয়ে গেলেন আমরা ভেবে পাচ্ছিনা। ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং এলাকার লোকজন মারাত্মক মর্মাহত হয়েছেন। এ ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে নিন্দার ঝড় উঠে। এলাকাবাসী সহ আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তি দাবি করছি। অন্যথায় এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে ভাটরাই গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান ও ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ বাবুল মিয়া এ প্রতিবেদককে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মুহাম্মদ আলি দুলাল কাজটি ঠিক করেননি বলে তাদের কাছে স্বীকার করেছেন। তারা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করবেন বলে গ্রামবাসী ও মুহাম্মদ আলি দুলালের সাথে কথা হয়েছে। তারা এও বলেন, দুপক্ষকে সংযত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের লক্ষে আমরা দুপক্ষকে নিয়ে শীঘ্রই বসবো।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট