ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সিলেটের কামাররা

প্রকাশিত: ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৯

ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সিলেটের কামাররা

সিলেটে কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে কামারদের ব্যস্ত সময় কাটছে। উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে কামারের দোকানগুলোতে এখন যেন কর্মীদের নিশ্বাস ফেলার ফুরসত নেই।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কামারের ভাঁতির ফুঁস ফাঁস শব্দ করেই যাচ্ছে। ক্ষেত্র বিশেষে কিছু কিছু দোকানে বিদ্যুৎ চালিত চুলার মাধ্যমে দা, ছুরি, বঁটি, চাপাতি, মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরি ও মেরামতের কাজ চলছে। মেরামতের কাজ বেশি হওয়ায় অনেকে দোকানে নতুন কাজের অর্ডার সীমিত করে ফেলেছেন। যদিও বছরের অন্যান্য সময়গুলোতে এ সম্প্রদায়ের তেমন কাজ থাকে না। কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে মৌসুমী কামারের দেখা মিলছে প্রচুর। হাটবাজার ও এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বন্ধ কোন দোকান ঘর এক মাসের জন্য ভাড়া করে অথবা খোলা জায়গা ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে দা, ছুরি, বটি সান দেয়ার কাজে নেমে পড়েছেন কামারেরা।

দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে এসে বাড়তি আয়ের আশায় উপজেলার আওতাধীন বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়ায় গিয়ে দা, ছুরি সান দেওয়ার কাজ করছেন অনেকেই। মোবাইল সানদারের ছোট্ট একটি সাইকেল আদলের সানদার যন্ত্র কাঁধে নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে হাক ডাক দিয়ে লোকজনের মনোযোগ আর্কষণ করছেন। তবে ঈদের পর এসব মোবাইল সানধারদের তেমন একটা দেখে মেলে না। দেশ থেকে প্রায় বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী এ কামার সম্প্রদায়।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানের কয়েকজন কামারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আয়ের সঙ্গে খরচের মিল করতে না পেরে এ পেশা ছেড়ে কামাররা এখন অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। বংশানুক্রমে যারা এ পেশায় জীবিকা নির্বাহ করতেন তাদের অনেকেই পেশা ছেড়ে দিয়েছে। কোরবানীর ঈদে কাজের গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক দোকানে কেউ কেউ লোকবল বাড়িয়েছেন। কাজের ধরণ অনুযায়ী অস্থায়ী নিয়োগ প্রাপ্তদের বেতন পরিশোধ করতে হয়। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতমহল।

এদিকে, কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে মাংস কাটার গাছের গুড়ি বিক্রি বেড়ে গেছে। কামাররা বাড়তি আয়ের জন্য দোকানে গাছের গুড়িও বিক্রি করছেন। কোরবানীর ঈদের গরু বাজারের সঙ্গে জমে উঠেছে রুটি পরোটা তৈরির সরঞ্জাম বিক্রির বাজার। লোহা গরম করার জন্য কয়লার ভাঁতির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহারের কারণে কামারদের খরচ কিছুটা বেড়ে গেছে। কারণ এক সময় কম টাকা দিয়ে কয়লা ক্রয় করে লোহা পুড়ে নরম করে বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে কয়লা পাওয়া যায় না বলে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের টাকা গুনতে হচ্ছে। তাই দোকানে কাজ থাকলেও বাড়তি খরচ হওয়ায় কামাররা আশানুরুপ আয় থেকে এক প্রকার বঞ্চিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন হোটেল রেষ্টুরেন্ট ও কুলিং কর্ণারে পরোটা, শুকনা বাকর খানী ও রুটির অর্ডার নিতে আর্কষণীয় ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়ে অর্ডার বুক করা হচ্ছে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট