ভারতের ওষুধ পাস : ৮০ শতাংশ মশা অজ্ঞান

প্রকাশিত: ১:০১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০১৯

ভারতের ওষুধ পাস : ৮০ শতাংশ মশা অজ্ঞান

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে  আনা নতুন ওষুধ প্রাথমিকভাবে ‘পাস’ করেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংস্থার বিশেষজ্ঞদের। তারা বলেন, নতুন ওষুধে ৮০ শতাংশের বেশি মশা অজ্ঞান বা নক ডাউন হয়েছে।

সোমবার (৬ আগস্ট) ডিএসসিসি নগর ভবনে তিন ধরনের ওষুধ তিনটি করে মোট নয়টি নমুনায় ওষুধের পরীক্ষা করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। আর পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন ডিএসসিসির প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, তিনভাবে আমরা মশার ওষুধ পরীক্ষা করি। প্রথমে ফিল্ড টেস্ট, এরপর এরপর ল্যাব টেস্ট ও সবশেষ প্ল্যান্ট প্রটেকশন টেস্ট। পরীক্ষায় প্রতিটি নমুনাতেই ৮০ শতাংশের বেশি মশা অজ্ঞান বা নক ডাউন হয়েছে। তার মান প্রাথমিকভাবে পাস। এই নমুনাগুলো আবার ২৪ ঘণ্টা পর আমরা দেখব যে কতগুলো মারা গেল। এতে ফিল্ড টেস্টের সম্পূর্ণ ফলাফল পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, এ মশাগুলো আমরা সিটি করপোরেশনের মশক নিবারণ অধিদপ্তর থেকে সংগ্রহ করেছি। তারা কেরানীগঞ্জ থেকে লার্ভা সংগ্রহ করে সেখান থেকে মশার প্রজনন করেছেন।

পরীক্ষায় প্রথম ওষুধ ডেলটামেথ্রিন ১.২৫ শতাংশ ইউএলভির তিনটি খাঁচায় অজ্ঞান হওয়া বা নক ডাউন মশার শতকরা সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৮৪ হাজার ৯২ এবং ৮২। দ্বিতীয় ওষুধ মেলাথিয়ন ৫% আরএফভি এর তিনটি নমুনায় নক ডাউন হওয়া মশার শতকরা সংখ্যা যথাক্রমে ৯২ হাজার ১শ এবং ১০০। সবশেষ  টেট্রামিথইনের তিনটি নমুনায় নক ডাউন হওয়া মশার শতকরা সংখ্যা যথাক্রমে ৯০ হাজার ১শ ও ৮৪।

এ দিকে এই পরীক্ষায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দুই বিশেষজ্ঞ ডা. মিনতি সাহা ও ড. আমিনুর ইসলাম।

রাজধানীসহ সারা দেশে বেড়েই চলেছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৩ জন। বর্তমানে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭ হাজার ৯৬৮ জন রোগী। এমন অবস্থা ডেঙ্গু নিধনে ভারতের ট্যাগ্রস নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এসব ওষুধ কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য আনা হয়। সব পরীক্ষা শেষে ওষুধ অনুমোদন পেলে দ্রুতই তা আনা হবে বলে জানান ডিএসসিসির এই কর্মকর্তা।