রিফাত হত্যাকাণ্ড : রিশান ফরাজী গ্রেফতার

প্রকাশিত: ১:০২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০১৯

রিফাত হত্যাকাণ্ড : রিশান ফরাজী গ্রেফতার

বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা মামলার তিন নম্বর আসামি রিশান ফরাজীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১০টায় বরগুনা থেকে রিশান ফরাজীকে গ্রেফতার করা হয় বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, ‘প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী মিন্নিসহ এখন পর্যন্ত ১৫ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ সকালে এ মামলার অন্যতম পলাতক আসামি রিশান ফরাজীকে গ্রেফতার করতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

মামলার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ এ মামলার চারজন অভিযুক্ত রিমান্ডে রয়েছেন। গ্রেফতার রিশান ফরাজীকে আজই আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করব আমরা।’

পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, গ্রেফতারদের মধ্যে ১০ জন রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, রিশান ফরাজী বরগুনা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি রোডের দুলাল ফরাজীর ছেলে এবং ওই মামলার দ্বিতীয় আসামি রিফাত ফরাজীর ছোট ভাই।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা শহরের কলেজ রোডে বহু পথচারীর উপস্থিতিতে স্ত্রী আয়শা আক্তার মিন্নির সামনে রিফাত শরীফকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে একদল যুবক। এ সময় মিন্নি প্রাণপণ চেষ্টা করে হামলাকারীদের বাধা দিলেও স্বামীকে রক্ষা করতে পারেননি। রিফাতকে কুপিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারী ওই যুবকরা। এমনকি তারা চেহারা লুকানোরও কোনো চেষ্টা করেনি। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওইদিনই বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রিফাত। প্রকাশ্যে জনবহুল সড়কে রিফাতের ওপর নৃশংস ওই হামলার একটি ভিডিও ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী আলোড়ন তৈরি হয়।

রিফাতকে হত্যার ঘটনায় পরদিন তার বাবা হালিম শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় নয়ন বন্ড এবং তার দুই সহযোগী রিফাত ফরাজী ও তার ছোট ভাই রিশান ফরাজীসহ ১২ জনকে আসামি এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট