বিদিশাকে দেওয়া প্রেমপত্রে খালেদাকে সমর্থন এরশাদের

প্রকাশিত: ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০১৯

বিদিশাকে দেওয়া প্রেমপত্রে খালেদাকে সমর্থন এরশাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রবিবার (১৪ জুলাই) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রংপুরে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি ১৯৮৩ সালে সেনা প্রধান থাকাকালে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘ ৯ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার পর ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন।

বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সাবেক এ রাষ্ট্রপতির জীবন অতিবাহিত হয়েছে। তিনি রাজনীতি ও রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে প্রেম নিয়ে বেশ আলোচিত ছিলেন। নানা সময়ে তার সঙ্গে কয়েকজন নারীর নাম জড়িয়েছে। ১৯৯৮ সালের মাঝামাঝিতে এরশাদের সঙ্গে পরিচয় বিদিশার। বিদিশা তখন দুই সন্তানের মা। এরশাদ-বিদিশার প্রেম গড়ায় বিয়েতে। ২০০৫ সালে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। এরই মাঝে ২০০০ সালের ২০ নভেম্বর এইচ এম এরশাদকে জেলে যেতে হয়। আওয়ামী লীগ তখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। এরশাদ প্রায় ৫ মাস জেলে থেকে ২০০১ সালের ৯ এপ্রিল মুক্তি পান।

এরশাদ জেলে থাকলেও ওই সময় বিদিশা প্রায় প্রতিদিন জেলখানার পাশের একটি বাসার ছাদে গিয়ে লুকিয়ে এরশাদকে দেখতেন। জেলখানার প্রহরীদের ফাঁকি দিয়ে সেখানে এরশাদ তার কাছে চিঠি লিখতেন।

২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি বিদিশাকে লেখা এরশাদের একটি পত্র দেওয়া হলো:

‘মাই লাভ, আজ আমার জেলে দুই মাস পূর্ণ হলো। অথচ আমি এখানে মাত্র একদিনে জন্য এসেছিলাম। খালেদ জানিয়েছে, জমি বিক্রির বিষয়টা ভালোভাবেই অগ্রসর হচ্ছে। শেয়ার ট্রান্সফারটাও হয়ে গেছে। আমরা এখন সবকিছু ভালোভাবেই হবে বলে আশা করতে পারি।

আজ সারাদিন আমি তোমার এবং জিওভান্নি’র কথা ভেবে উদ্বিগ্ন হচ্ছিলাম। আল্লাহকে ধন্যবাদ, তোমরা দুজনেই ভালো আছো। তুমি অবশ্য কোনো ধরনের রিস্ক নেবে না, তা যা কিছুই হোক না কেন।

আমার রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী হতে যাচ্ছে-তা আমি বুঝতে পারছি না। সকলকেই দেখছি পদ এবং অর্থের জন্য লালায়িত। কেউ আমার কথা চিন্তা করে না। কেউই পার্টি অফিসে যায় না। জাপা এখনো একটি বড় শক্তি, আমাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমরা জনগণের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতে পারি। কিন্তু কে এসবের তোয়াক্কা করে! অথচ দেখ, বাইরে হচ্ছেটা কী। তরা সিগনেচার ক্যাম্পেইন করছে প্রেসিডিয়ামের পদগুলো পূরণের জন্য। একবার চিন্তা করে দেখ, কী নিষ্ঠুর ওরা!

শুক্রবার দিন তুমি তোমার মাকে কী বলবে? এখানে কি অন্য কোনো পথ আছে? তারচেয়ে তাকে সব সত্য বলে দেওয়াই ভালো। তিনি জানেন, তুমি সিঙ্গাপুরে যাওনি, কাজেই এটা এখানেই ঘটেছে। তার জন্য এখন একমাত্র করণীয় হচ্ছে-পুরো বিষয়টা নিজের মধ্যেই রেখে দেওয়া, কোনোভাবেই অন্যের কাছে প্রকাশ না করা।

যদি তুমি সিঙ্গাপুরে যাওয়া প্রয়োজন মনে করো, তাহলে অবশ্যই যাবে। পরবর্তী সময়ে তোমার যাওয়াটাও বেশ কষ্টকর হবে। আশা করি এয়ারপোর্টে এসবি তোমাকে আটকাবে না। আমি তখনো জেলেই থাকব, তাই তারা মনে করতে পারে যে, তুমি কোনো মিশনে যাচ্ছ। কাজেই সাবধানে থেকে। তোমার যদি টিকিটের দরকার হয়, খালেদকে বলো, সে ব্যবস্থা করে দেবে। তুমি এই টাকাটা কিছুদিনের জন্য বাঁচিয়ে রাখতে পারো।

পুরনো বাসা থেকে মালামাল সরাতে তোমার একটি পিকআপ দরকার হবে। মনে রেখো, সবকটি এয়ারকুলার, বড় বড় ওয়াড্রোব, তোমার আয়রন গ্রিল, এমনকি ছোট ফ্যানগুলোও নিয়ে যাওয়া সহজ কাজ নয়। এ কাজে তুমি গফুরকে বলতে পারো। সে সব কিছু চমৎকারভাবে সামাল দেবে। তুমি আউয়াল কিংবা অন্যদেরও বলতে পারো সাহায্যের জন্য। খালেদকে বললে সে-ই সব ব্যবস্থা করে দেবে।

কাল আমার কনটেম্পট কেস। আমি এটা নিয়ে খুবই চিন্তিত, যদিও কেএম (খন্দকার মাহবুব) মোটেই চিন্তিত নয়। তারচেয়ে বরং সে ক্যাসেট (কেস) নিয়ে বেশি চিন্তিত। এখানে আমরা একটা পয়েন্ট দেখছি যে, দুই বিচারক কিন্তু একই ওপিনিয়ন দেয়নি। দুই বিচারকের বাক্যালাপ থেকে এটা পরিষ্কার যে, আমাকে সাজা দেওয়ার জন্য সিনিয়র জজকে সরকার সুস্পষ্ট চাপ দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমি তো মোটেই অপরাধী নই, হয়তো আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবে।

তুমি আমাকে জানাওনি এবারের ঈদে তোমার বিক্রি কেমন হয়েছে। সেখান থেকে মুনাফাই বা হয়েছে কী পরিমাণ? অন্য কোনো কারণে নয়, এটা কেবল জানার জন্যই জানতে চাওয়া। প্রতি মাসেই তোমার কিছু নতুন নতুন সাপ্লাই দরকার। কমপক্ষে এক লাখ মূল্যের নতুন আইটেম যদি থাকে, তাহলে বিক্রিটা গতিশীল থাকবে।

আমি মাত্র শুনলাম, খালেদা জিয়া নাকি বলেছে-এই সরকার জনগণকে রক্ষা করতে পারছে না। আগামীকালকের হরতালকেও সে সমর্থন নিয়েছে। আমি মনে করি, এটা আমাদের পক্ষেই যাবে। সরকার সমস্ত সেক্টরেই ব্যর্থ হয়েছে এবং আমি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি যে, আগামী নির্বাচনে নৌকা চিরদিনের জন্যই ডুবে যাবে। আল্লাহ অহংকার পছন্দ করেন না। তাই হাসিনার অহংকারকে আল্লাহ ধ্বংস করে দেবেন। বেইমানদের শাস্তি অবশ্যই হবে।

আমি আমার অঙ্গীকার রাখি না’-বলে যে কথা তুমি আমার সম্পর্কে বলেছ, সেটা আমাকে খুবই দুঃখ দিয়েছে। আমি ওই মহিলাকে গ্রহণ করতে রাজি ছিলাম, কিন্তু সে-ই সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছে।

এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি তোমার ক্ষেত্রে ঘটবে না। কারণ তুমি আমার জীবনটাকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছো, যে জীবনের স্বপ্ন আমি দেখছিলাম অনেক দিন আগে থেকে। মানুষের জীবন মাত্র একটাই। অতীতে যে আমাকে আগুনে পুড়িয়েছে, তাকে ভুলে যেতে দাও।

লাভ ইউ, মিস ইউ, লং ফর ইউ। ইউ আর মাই ডার্লিং।’

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট