বটেশ্বরে পণ্যমেলার নামে চলছে সার্কাস লটারি!

প্রকাশিত: ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৯

বটেশ্বরে পণ্যমেলার নামে চলছে সার্কাস লটারি!

বাংলাদেশ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কল্যাণ সোসাইটির ব্যানারে মাসব্যাপী শিল্প পণ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) রাতে সিলেট জালালাবাদ সেনানিবাস সংলগ্ন বটেশ্বর বাজারের পাশের মাঠে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়।

সূত্র জানায়, দেশী পণ্য প্রসারের নামে মেলা আয়োজন করা হলেও বাংলাদেশ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কল্যাণ সোসাইটির এই মেলায় সার্কাস ও পুতুল নাচের আড়ালে অশ্লীল নৃত্য, গাড়ি রেস, ওয়াটার পার্ক ও লটারির আয়োজন করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার টার্গেট করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য এম এ মঈন খান বাবলু। অতীতেও বাবলু মেলা নিয়ে সিলেটের সাধারণ মানুষদের সাথে প্রতারণা করেছে।

জানা গেছে, সার্কাস ও লটারির আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়। পণ্য প্রসারের জন্য মেলায় সার্কাস পার্টির আয়োজনের নিয়ম নেই। সেক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গ করেই প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সার্কাস, বিপজ্জনক গাড়ি রেস, পুতুল নাচ ও লটারির আয়োজন করা হয়েছে এই মেলায়।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কল্যাণ সোসাইটির নামেই পণ্য মেলা। এই সংগঠনের নেই কোনো কার্যালয়! বাংলাদেশ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি এম এম মোশারফ হোসেন। সম্পর্কে বাবলুর ব্যবসায়ী পার্টনার। তাকে দিয়েই এই মেলা দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পায়তারা করছেন তিনি।

এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে কোনো ধরনের লটারি বানিজ্য বা অশ্লীল নৃতসহ কোনো অবৈধ কার্যকলাপ এই মেলায় চলতে দেবে না।

একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন না নিয়েই মেলায় আয়োজন করা হয়েছে কাগজের লটারির। এতে পুরস্কার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, এলইডি টিভি, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেনসহ লোভনীয় পুরস্কার। আর এ সবের প্রলোভনে পড়ে সাধারণ মানুষ হাজার হাজার টাকার টিকেট ক্রয় করছেন।

মেলা প্রাঙ্গণে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সম্মুখভাগে নাম মাত্র কয়েকটি স্টল রয়েছে, যেগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ক্রোকারিজ, খাবারসহ বেশকিছু জিনিসপত্র। পুরো চত্বরজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে বাচ্চাদের খেলাধুলার রেলগাড়িসহ নানা সরঞ্জাম। মেলার অর্ধেক স্টল খালি পড়ে থাকলেও সেখানে ভালো পণ্যের দোকান বসানোর কোন উদ্যোগ নেই ব্যবস্থাপকদের।

মেলার স্টলের চেয়ে সাধারণ মানুষের ভিড় বেশি সার্কাস, পুতুল নাচ, ওয়াটার পার্কে। ফলে স্টল দেয়া দোকানিরা পড়েছেন বিপাকে। দোকানে কেনাকাটা না করে মেলায় আসা দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন ‘নাচ গানের আসর’ সার্কাস ও পুতুল নাচে। সার্কাসে শিশুদের নিয়ে প্রবেশ করে অভিভাবকদের পড়তে হচ্ছে বিব্রতকর অবস্থায়। পারফর্মারদের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির কারণে পরিবারসহ সার্কাস দেখতে গিয়ে তারা বিপাকে পড়ছেন।

অপরদিকে, প্রতিদিন শত শত মানুষ মেলায় না ঘুরেই লটারির আশায় টিকেট কাটছেন। এদের মধ্যে কিশোর ও তরুণরাই বেশি। অন্যদিকে মেলার পণ্যের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বেশির ভাগ স্টলে বিদেশি বলে বিক্রি করা হচ্ছে চোরাই পথে আসা বিভিন্ন পণ্য। যা থেকে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) রাত ৯ টায় সিলেট জালালাবাদ সেনানিবাস বটেশ্বর বাজার সোনালী ব্যাংক সংলগ্ন মাঠে এ মেলার উদ্বোধন করা হলেও মেলা শুরু হয়েছে গত ১৫ রমজান। এখানে বাবলু ও মোশারফ হোসেন প্রতারণার মাধ্যমে সময় ক্ষেপন করেছেন।

এই উদ্বোধনী অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ। সিলেট জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশন ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদসহ অন্যরা।

এ ব্যাপারে মেলার সমন্বয়কারী ও সিলেট মেট্রোপলিট্রন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য এম এ মঈন খান বাবলু বলেন, আমি এই মেলায় কিছু না। এই মেলায় আমার কয়েকটি স্টল রয়েছে। আপনি মোশারফ হোসেনের সাথে আলাপ করেন।

বাংলাদেশ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি এম এম মোশারফ হোসেন বলেন, আমরা গেইট পাসের সাথে লটারি করার জন্য মন্ত্রনালয়ের অনুমতি চেয়েছি। এখনো কোনো অনুমতি পাইনি। সার্কাস ও পুতুল নাচে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শণ সম্পর্কে তিনি বলেন, অন্য মেলার মতো আমরা এখানে কোনো অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন করবো না।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশন ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদকে কল করলে তিনি কল রিসিভ করে বলেন, আমি মিটিংয়ে আছি। পরে কথা বলবো।

মেলায় কোনো ধরনের লটারি বানিজ্য বা অশ্লীল নৃত্যসহ কোনো অবৈধ কার্যকলাপ চলতে দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন শাহপরাণ (র.) মডেল থানার ওসি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী।

মেলা শুরু হয়েছে ১৫ রমজান এমন প্রশ্নের জবাবে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ বলেন, বৃহস্পতিবার মেলা শুরু হয়েছে। একমাস চলবে। লটারি প্রসংগে তিনি বলেন, আমি এইসব কিছুৃই জানি না।
উৎস : শ্যামল সিলেট

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট