হরতালে তীব্র যানজট, সড়ক-মহাসড়ক অবরুদ্ধ

প্রকাশিত: ১২:১১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০১৯

হরতালে তীব্র যানজট, সড়ক-মহাসড়ক অবরুদ্ধ

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে হরতাল পালন করছেন বামজোট। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এরই মধ্যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন হরতাল সমর্থকরা। প্রতিবাদের মধ্যেও বিভিন্ন সড়কে দেখা গেছে তীব্র যানজট।

রবিবার (৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর মালিবাগ থেকে পল্টন-মতিঝিলের রাস্তা, তেজগাঁও থেকে কাকরাইলের রাস্তা এবং মতিঝিল থেকে শাহবাগ ও ফার্মগেইট থেকে শাহবাগের রাস্তায় তীব্র যানজটের চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই রাস্তায় যান চলাচল বেড়েছে। ৯টার পর পর বেশ কিছু রুটে গাড়ির চাপে যানজট বেঁধে যায়। তবে গণপরিবহনে থেকে ব্যক্তিগত পরিবহনের চাপ বেশি দেখা যাচ্ছে। সকাল ৯টার পর মালিবাগ আবুল হোটেল থেকে প্রায় পল্টন মোড় পর্যন্ত যানজট লেগে যায়। আর সাড়ে নয়টার দিকে আবুল হোটেলের যানজট কমলেও শান্তিনগর ফ্লাইওভার থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত যানজট দেখা যায়।

হরতালে তীব্র যানজট, সড়ক-মহাসড়ক অবরুদ্ধ  

ফার্মগেইট সড়কে তীব্র যানজট

সরেজমিনে দেখা যায়, তেজগাঁও থেকে বেইলী রোড পর্যন্ত রাস্তায় তীব্র যানজট। এছাড়া থেকে ফার্মগেট শাহবাগের পথেও তীব্র যানজট লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া মতিঝিলের রাস্তায় সকাল দশটার পর থেকেই ব্যাপক যানজটের চিত্র দেখা যায়। মিরপুরের রুটে যানজট না থাকলেও পরিবহনের চাপ দেখা গেছে।

পল্টন মোড়ে ভিক্টর পরিবহনের এক হেল্পার রেজাউল জানান, বাড্ডা পর্যন্ত যানজট ছাড়া আসলেও রামপুরা থেকে যানজটে পড়েছি। আর আবুল হোটেল পার হয়ে ফ্লাইওভারে উঠে বড় যানজটে পড়েছি। ফ্লাইওভার থেকে পল্টন মোড়ে আসতেই এক ঘণ্টা সময় লেগেছে।

এছাড়া ফার্মগেইটে থাকা বিহঙ্গ পরিবহনের হেল্পার জানান, মেট্রোরেলের কারণে এই রাস্তা কাটা। এ কারণে প্রতিদিন যানজটে পড়তে হয়। আজ হরতাল থাকায় আমাদের ধারণা ছিল যানজট কম হবে। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। আগের মতোই রাস্তায় যানজট।

দায়িত্বরত এক ট্রাফিক পুলিশ বলেন, অফিস সময় রাস্তায় পরিবহনের বেশ চাপ রয়েছে। তবে আজ তুলনামূলক পরিবহন কিছুটা কম। এর পরও যানজট বাড়ছে, আমরা চেষ্টা করছি যথাসম্ভব রাস্তা স্বাভাবিক রাখার।

এদিকে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকার অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বামজোটের নেতারা।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম দলের নেতাকর্মীরা। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক শাহবাগ মোড় ও পল্টন মোড় অবরোধ করেছেন বামজোটের নেতারা। এছাড়া সকালে পল্টন এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে পিকেটিং করেছেন দলের নেতাকর্মীরা।

হরতালে তীব্র যানজট, সড়ক-মহাসড়ক অবরুদ্ধ  

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে হরতাল সমর্থকদের অবস্থান

সকালে হরতাল সফল করতে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পদযাত্রায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দ গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে আহূত হরতাল কর্মসূচি পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

সকালে সরেজমিনে রাজধানীর শাহবাগ, পল্টন, প্রেসক্লাব, মিরপুর, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শাহবাগ এলাকায় বামপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা চার রাস্তার মোড় আটকে পথসভা করছেন।

রবিবার (৭ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে হরতাল কার্যকরে একটি মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে রাস্তা অবরোধ করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। প্রথমে মিছিলটি শাহবাগ থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি পর্যন্ত যায়। পরে সায়েন্স ল্যাবরেটরি হয়ে আবারও শাহবাগ মোড়ে ফিরে আসে।

হরতালে তীব্র যানজট, সড়ক-মহাসড়ক অবরুদ্ধ  

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শাহবাগে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের অবস্থান

মিছিল শেষে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতালের সমর্থনে শাহবাগে অবস্থান নিয়ে রাস্তায় বসে যায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এতে টিএসসি, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, কারওয়ানবাজার, মৎস্য ভবন রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা এসব রোডে এমনকি মোটরসাইকেল ও রিকশাও চলাচল করতে দিচ্ছে না। পতাকাবাহী সরকারি একটি গাড়িও আটকে দিয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। তবে প্রয়োজনীয় গাড়ি যেমন রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে দিচ্ছেন হরতাল সমর্থকরা।

এদিকে সংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ হরতাল সমর্থনকারীরা গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি প্রত্যাহার ও শিক্ষা খাতে বাজেট ২৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। দাবি আদায় না হলে তারা আরও কঠিন কর্মসূচিতে যাবেন বলেও জানান। প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সভাপতি ইমরান হাবিব বলেন, এ দাবি শুধু আমাদের একার নয়, পুরো বাংলাদেশের নাগরিকের দাবি। ন্যায্য দাবি আদায়ে আমাদের আন্দোলন চলবে।

গত ৩০ জুন সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাসের মূল্য দুই চুলায় ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭৫ এবং এক চুলার জন্য ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে ৯৫০ টাকা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সরকারের নির্দেশ ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

এর প্রতিবাদে রবিবার (৭ জুলাই) দেশব্যাপী অর্ধ দিবস হরতালের ডাক দেয় বাম গণতান্ত্রিক জোট। এদিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ হরতালে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি। এছাড়া হরতালকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ ন্যাপ, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য এবং ক্ষেতমজুর সমিতি।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট